মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রমজানে জাকাত আদায়ে মিলবে অধিক সওয়াব

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ০২:২৯ এএম

ইসলাম যে পাঁচটি খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে আছে এর একটি জাকাত। এই বিধানের মাধ্যমে মূলত আল্লাহতায়ালা ধনীদের সম্পদে গরিবের অধিকার নির্ধারিত করে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে ধনী-গরিবের মধ্যে যে সামাজিক বৈষম্য তা কিছুটা হলেও লাঘব হয়। মূলত জাকাত রমজানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো আমল নয়। তবে রমজানে যেহেতু সব আমলেই অনেক বেশি সওয়াব পাওয়া যায়, এজন্য এই মাসে জাকাত আদায় করলে সওয়াব বেশি মিলবে সেই বিশ্বাস পোষণ করেন মুমিনরা। বস্তুত বেশি সওয়াবের আশায় কেউ রমজানে জাকাত আদায় করলে অবশ্যই সেটার ভাগীদার হবেন। যেহেতু জাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে বাৎসরিক হিসাব রাখা লাগে, এজন্য রমজান থেকে রমজান হিসাব করা সহজ।

জাকাত ইসলামের একটি কল্যাণকর ও মহৎ ইবাদত। জাকাত দ্বারা সম্পদ পবিত্র হয়। হাদিসে জাকাতকে ‘সম্পদের ময়লা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তবে জাকাত দিয়ে গরিবের ওপর করুণা করা হয়েছে এটা মনে করা যাবে না। যদিও এর বিনিময়ে আল্লাহতায়ালা জাকাতদাতাকে অফুরন্ত প্রতিদানের কথা ঘোষণা করেছেন। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে জাকাত আদায় না করলে কঠিন শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘এবং যারা সোনা ও রুপা জমা করে রাখে আর তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না, আপনি তাদের বেদনাদায়ক আজাবের সুসংবাদ দিন, যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা গরম করা হবে, অতঃপর তা দিয়ে তাদের কপালে, পার্শ্বদেশে ও পিঠে সেঁক দেওয়া হবে। (আর বলা হবে) এটা তা-ই, যা তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে। সুতরাং তোমরা যা জমা করেছিলে তার স্বাদ উপভোগ করো।’ (সুরা তাওবা: ৩৪-৩৫)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন, কিন্তু সে এর জাকাত আদায় করেনি, কেয়ামতের দিন তার সম্পদকে টাক (বিষের তীব্রতার কারণে) মাথাবিশিষ্ট বিষধর সাপের আকৃতি দিয়ে তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। সাপটি তার মুখের দুই পাশ কামড়ে ধরে বলবে, আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার জমাকৃত সম্পদ।’ (সহিহ বোখারি)

দশটি শর্ত পাওয়া গেলে জাকাত ফরজ হয়। ১. জাকাত প্রদানকারী ব্যক্তির মুসলমান হওয়া। ২. সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হওয়া। ৩. বালেগ তথা পূর্ণবয়স্ক হওয়া। ৪. মুক্ত-স্বাধীন হওয়া। ৫. নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া। (সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা অথবা সমমূল্যের সম্পদকে নিসাব বলা হয়।) ৬. সম্পদ নিজের মালিকানাধীন থাকা। ৭. নিসাব পরিমাণ সম্পদ নিত্যব্যবহার্য বস্তুর অতিরিক্ত হওয়া। ৮. নিসাব পরিমাণ সম্পদ ঋণ থেকে মুক্ত হওয়া। ৯. ধন-সম্পদ বর্ধিষ্ণু হওয়া। ১০. নিসাব পরিমাণ সম্পদ পূর্ণ এক বছর মালিকানাধীন থাকা।

জাকাত দিতে হয় শতকরা আড়াই ভাগ হারে। প্রধানত নগদ অর্থ, স্বর্ণ-রুপা এবং ব্যবসার পণ্যের ওপর জাকাত ফরজ হয়। কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী সাত শ্রেণির লোককে জাকাতের অর্থ দেওয়া যাবে। ১. দরিদ্র ভিক্ষুক। ২. মিসকিন (অভাবগ্রস্ত লোক)। ৩. জাকাত তহবিল গঠনে নিয়োজিত কর্মচারী। ৪. মুসলমানদের মুক্তি পণ বাবদ। ৫. ঋণ পরিশোধে বাস্তবিকই অসমর্থ ব্যক্তি। ৬. আল্লাহর পথে সংগ্রামরতদের। ৭. পথিক বা মুসাফির, যারা অভাবগ্রস্ত ও দ্বীন প্রচারে নিয়োজিত। তবে দ্বীনের জ্ঞান আহরণকারীদের জাকাত দিলে সদকায়ে জারিয়ার সওয়াবও পাওয়া যাবে।

লেখক: আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদ

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত