বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সমাজ সংস্কারে কোরআনের ১৪ ফর্মুলা

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৩৪ এএম

মেরাজ থেকে ফিরে রাসুল (সা.) ১৪টি শিক্ষা মানুষের সামনে পেশ করেন। বর্তমান সমাজ সংস্কারের জন্য এই বিষয়গুলো খুবই কার্যকর। পবিত্র কোরআনের সুরা বনি ইসরাইলের ২২ থেকে ৩৭ নম্বর আয়াতে সেগুলো বর্ণিত হয়েছে।

শিরক না করা : ‘আল্লাহর সঙ্গে অপর কোনো উপাস্য স্থির কোরো না, তাহলে তুমি নিন্দিত ও অসহায় হয়ে পড়বে।’ -সুরা বনি ইসরাইল ২২

পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচরণ করা : ‘পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো, তাদের একজন বা উভয়ে যদি তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদের উফ্ পর্যন্ত বোলো না। তাদের ধমকের সুরে জবাব দিয়ো না; বরং তাদের সম্মানজনক কথা বলো। তাদের প্রতি মমতাপূর্ণ আচরণের সঙ্গে তাদের সামনে নিজেকে বিনয়াবনত রাখো। তাদের জন্য দোয়া করো, হে আমার প্রতিপালক! তারা যেভাবে আমাকে শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছে, তেমনি আপনিও তাদের প্রতি রহমতের আচরণ করুন।’ -আয়াত ২৩-২৪

কৃতকর্মের জন্য তওবা করা : ‘তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের অন্তরের খবর জানেন। তোমরা যদি নেককার হয়ে যাও, যারা বেশি বেশি তার দিকে রুজু হয় (তওবা করে), তিনি তাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করেন। -আয়াত ২৫

আত্মীয়স্বজনের হক আদায় করা : ‘আত্মীয়স্বজনের হক আদায় করো এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও (তাদের হক প্রদান কর)।’-আয়াত ২৬

অপব্যয় রোধ করা : ‘অপ্রয়োজনীয় কাজে নিজেদের অর্থ-সম্পদ অপচয় করবে না। জেনে রেখো, যারা অপ্রয়োজনীয় কাজে অর্থ অপচয় করে তারা শয়তানের ভাই। আর শয়তান নিজ প্রতিপালকের ঘোর অকৃতজ্ঞ।’ -আয়াত ২৭

নম্র ব্যবহার করে এড়িয়ে যাওয়া : ‘যদি কখনো তাদের (আত্মীয়-স্বজন, অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরদের) থেকে এ কারণে তোমার মুখ ফেরানোর দরকার হয় যে, তুমি তোমার প্রতিপালকের রহমতের প্রত্যাশায় রয়েছ, তবে সেক্ষেত্রেও তাদের সঙ্গে নম্রভাবে কথা বলো।’ -আয়াত ২৮

সংযমী হওয়া : ‘(কৃপণতা করে) নিজের হাত ঘাড়ের সঙ্গে বেঁধে রেখো না এবং (অপব্যয়ী হয়ে) তা সম্পূর্ণরূপে খুলে রেখো না। তাহলে তোমাকে নিন্দাযোগ্য ও নিঃস্ব হয়ে বসে পড়তে হবে। বস্তুত তোমার প্রতিপালক যাকে চান জীবিকা প্রশস্ত করে দেন এবং (যাকে ইচ্ছা) সংকুচিত করে দেন। জেনে রেখো, তিনি নিজ বান্দাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং তাদের তিনি ভালোভাবে দেখছেন।’ -আয়াত ২৯-৩০

সন্তান হত্যা না করা : ‘দারিদ্র্যের ভয়ে নিজ সন্তানদের হত্যা কোরো না। আমি তাদেরও রিজিক দিই এবং তোমাদেরও। নিশ্চয় তাদের হত্যা করা গুরুতর অপরাধ।’ -আয়াত ৩১

ব্যভিচার না করা : ‘ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল ও গর্হিত কাজ।’ -আয়াত ৩২

অন্যায়ভাবে হত্যা না করা : ‘আল্লাহ যেই প্রাণকে মর্যাদা দান করেছেন তাকে অন্যায়ভাবে হত্যা কোরো না।’ -আয়াত ৩৩

সম্পদ আত্মসাৎ না করা : ‘সাবালক না হওয়া পর্যন্ত সদুদ্দেশ্যে ছাড়া এতিমের সম্পত্তির নিকটবর্তী হয়ো না। আর প্রতিশ্রুতি পালন করো। নিশ্চয় প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।’ -আয়াত ৩৪

ওজনে কারচুপি না করা : ‘মেপে দেওয়ার সময় পূর্ণ মাপে দেবে এবং ওজন করবে সঠিক দাঁড়িপাল্লায়। এটিই উত্তম পন্থা এবং এর পরিণাম শুভ।’ -আয়াত ৩৫

না জেনে কথা না বলা : ‘যে বিষয়ে তোমার নিশ্চিত জ্ঞান নেই সেই বিষয়ে অনুমান দ্বারা পরিচালিত হয়ো না । নিশ্চয় চোখ, কান ও অন্তর সব কিছুই জিজ্ঞাসিত হবে।’ -আয়াত ৩৬

অহংকার না করা : ‘জমিনে দম্ভ সহকারে চলো না। তুমি তো জমিনে ফাটল ধরাতে পারবে না এবং উচ্চতায় কখনো পাহাড় সমান হতে পারবে না।’ আয়াত-৩৭

এগুলো সমাজ সংস্কারের প্রকৃত শিক্ষা। শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়তে হলে এ সবের বিকল্প নেই বললেই চলে। মহান আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত