বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বৃক্ষরোপণে অপরিসীম সওয়াব

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৩৪ এএম

প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গাছপালার ভূমিকা অপরিসীম। গাছপালা ও বনভূমি যেমনিভাবে আমাদের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ করে ঠিক তেমনিভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকেও পরিবেশকে রক্ষা করে।

গাছপালা ও বনভূমি ছাড়া মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর জীবনধারণ অসম্ভব। যথেষ্ট পরিমাণে গাছপালা ও বনভূমি না থাকলে পরিবেশ হবে উষ্ণ, পৃথিবী হবে মরুভূমি ও ধূলিময়। এতে পরিবেশ হবে বিপন্ন। মানুষ পতিত হবে বহুল বিপর্যয়ে।

পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। অথচ সরকারি হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট বনভূমির আয়তন হচ্ছে প্রায় ১৭.৪ ভাগ। বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী যা অর্ধেকেরও কম।

এদেশের ভারী জনসংখ্যার তুলনায় বনভূমি খুবই কম। দিন দিন কমে যাচ্ছে বনভূমির আয়তন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বনভূমি থেকে অসৎ উপায়ে গাছ কেটে নির্বিচারে ধ্বংস করা হচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে। একটি গাছ কেটে দুটি রোপণ করার সেøাগান চালু থাকলেও তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আসবাবপত্র ও জ্বালানি কাঠের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে গিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে বনভূমি। বিশেষ করে ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও তা ব্যবহার করা হচ্ছে। নগরায়ণ ও শহরায়নের ক্রমবর্ধমান চাহিদার ফলেও ধ্বংস হচ্ছে বনভূমি। বিলুপ্ত হচ্ছে জীবজন্তু ও বন্যপ্রাণী।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহৎ বৃক্ষমেলা বলা হয় গাজীপুরের ভাওয়ালের গড়ে। এখানে চলছে অবৈধভাবে বৃক্ষনিধন। মধুপুরের গড়, সুন্দরবন ও বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাহাড়ি বনভূমিও ক্রমে ক্রমে বিনাশ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে দেশজুড়েই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তীব্র আকার ধারণ করছে। মানুষ নির্বিচারে অরণ্যবিনাশ করছে। এতে প্রকৃতির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। পরিণামে প্রকৃতিও বিভিন্ন দুর্যোগের মাধ্যমে আমাদের ক্ষতিসাধন করছে। অতিবৃষ্টি কিংবা অনাবৃষ্টি এখন প্রতি বছরের চিত্র। কোনো কোনো বছর দেশ জুড়ে বন্যা হচ্ছে। আবার কোনো বছর খরায় ভূমি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। ফসল নষ্টের কষ্ট কৃষককে সারা বছর তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়ছে দেশ ও দেশের মানুষ।

তাই এখনই উদ্যোগ নিতে হবে বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ করে বাংলাদেশের বনভূমিকে মোট আয়তনের ২৫ ভাগে নিয়ে যাওয়ার। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইসলাম বৃক্ষরোপণের তাগাদা দিয়েছে। এমনকি বৃক্ষরোপণকে সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব হিসেবেও অভিহিত করা হয়েছে। বৃক্ষরোপণের পর যতদিন পর্যন্ত মানুষ ও জীবজন্তু ওই বৃক্ষ থেকে প্রাপ্ত ফলভোগ করবে, ছায়া পাবে, ততদিন পর্যন্ত রোপণকারীর আমলনামায় সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব লেখা হতে থাকবে।

সহিহ বুখারির হাদিসে এসেছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি যদি বৃক্ষরোপণ করে কিংবা ফসল উৎপন্ন করে আর তা থেকে মানুষ ও পশুপাখি ভক্ষণ করে, তাহলে উৎপন্নকারীর আমলনামায় তা সদকার সওয়াব হিসেবে গণ্য হবে।’

পৃথিবীতে মানুষের টিকে থাকার জন্য, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ফসলাদি উৎপন্ন করার জন্য আল্লাহতায়ালা পৃথিবীতে পরিমিত বৃষ্টি বর্ষণ করেন। যাতে মাটি রসালো হয় এবং গাছপালা, তরুলতা সতেজ হয়ে ফুল-ফল উৎপন্ন ও ছায়াদান করে পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে ইরশাদ করেন, ‘এ পানি দ্বারা তোমাদের জন্য উৎপন্ন করি ফসল, জয়তুন, খেজুর, আঙ্গুর ও সব থরনের ফল। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীলদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।’ -সুরা নাহল ১১

বাংলাদেশ সরকার দেশের বনভূমির আয়তন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বহু প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যা হতে পারে দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় আশীর্বাদ স্বরূপ। আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণে উদ্যোগী হওয়া এবং যথাযথভাবে এগুলোর পরিচর্চা করা। তবেই পরিবেশ হবে নির্মল ও স্বচ্ছ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত