বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তীব্র তাপপ্রবাহ সারা দেশে তিন দিনের হিট অ্যালার্ট

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৪৮ এএম

দিনেরবেলা ঠা ঠা রোদ। ঘরের বাইরে বের হলে গরমে যেন শরীর পুড়ে যাচ্ছে। শরীর থেকে দর দর করে ঝরছে ঘাম। বৈশাখের এমন তীব্র তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ। খুলনা অঞ্চলের জেলাগুলোয় বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপপ্রবাহ।

চলতি মাসের শুরু থেকে সারা দেশে চলছে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ। গত কয়েক দিনে তা আরও বেড়েছে। এতে হাঁসফাঁস অবস্থা সবার। তবুও জীবিকার তাগিদে তীব্র রোদে বাইরে বের হতে হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষদের। এসব খেটে খাওয়া মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন তাপপ্রবাহ কমবে কবে?

তবে আপাতত স্বস্তির কোনো খবর দিতে পারছে না আবহাওয়া অধিদপ্তর; বরং সামনের  দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে তিন দিনের হিট অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তারা বলছে, দেশের বেশিরভাগ এলাকায় বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহ আরও কয়েক দিন ধরে চলতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এবারের এপ্রিলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরম থাকবে। এ সময় স্বাভাবিক তাপমাত্রা থাকার কথা ৩৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে তা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে ৩৫ ডিগ্রির বেশি থাকছে; যা চলতি মাস জুড়েই অব্যাহত থাকবে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কয়েক দিনের তুলনায় যা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। আর বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৭ শতাংশ। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, যদি কোনো একটি এলাকার তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ৭০ শতাংশর বেশি থাকে, এমন পরিস্থিতিকে তীব্র কষ্টকর পরিস্থিতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকায় কয়েক দিনের তুলনায় তাপমাত্রা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণও বেড়েছে। ফলে নির্দিষ্ট তাপমাত্রার চেয়ে বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে।

তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে খুলনা অঞ্চল

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল খুলনা অঞ্চলের সব জেলায় ৪০ ডিগ্রির ওপরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস; যা এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। একই অবস্থা ছিল অন্য জেলাগুলোতেও। খুলনায় তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ৭ ডিগ্রি, মোংলায় ৪১ ডিগ্রি, সাতক্ষীরায় ৪০ ডিগ্রি এবং যশোরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এই অঞ্চলের তাপপ্রবাহের বিষয়ে জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ বলেন, খুলনা, রাজশাহী অঞ্চলসহ বেশ কিছু এলাকায় গড় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকছে। ভূপ্রকৃতিগত কারণে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা একটু বেশি থাকে। এ বছরও তাই। কারণ এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এ সময়টা আসলে দেখা যায় কোনো এলাকায় সাময়িকভাবে বৃষ্টিপাত হলে তখন তাপমাত্রা কিছুটা কমে। কিন্তু বর্তমান আবহাওয়ার যে অবস্থা তাতে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে পূর্বাঞ্চলের কিছু জায়গায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। এ অবস্থাটা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়, বাগেরহাট, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং দিনাজপুর, রাঙ্গামাটি, চাঁদপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা, বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলাসহ ঢাকা এবং রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এতে বলা হয়, সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তি বৃদ্ধি পেতে পারে।

এদিকে ঢাকাসহ তিন বিভাগে ঝড় শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে হতে পারে বজ্রপাতও।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত