বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রাজউকের ৪৩৭ কোটির পার্ক

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:২০ এএম

গাজীপুরের পুবাইলে ৪৩৬ কোটি ৯৭ লাখ ৮৬ হাজার টাকা খরচ করে দৃষ্টিনন্দন একটি আঞ্চলিক পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০২৭ সালের জুনে শেষ হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন। এখন পার্কের ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) প্রণয়নের কাজ চলছে। রাজউক সূত্র এ কথা জানিয়েছে।

প্রকল্প-প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) ২০২২-২০৩৫-এর সুষ্ঠু বাস্তবায়নের লক্ষ্য পরিবেশবান্ধব শহর তৈরি করা; মাঠ, হাঁটার জায়গা ও বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করে আঞ্চলিক পার্ক নির্মাণের মাধ্যমে নাগরিক জীবনের মান উন্নয়ন এবং নিরাপদ ও টেকসই জীবনযাত্রা নিশ্চিতকল্পে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। গাজীপুর জেলার পুবাইলে নাগরিক সুবিধার জন্য ও শিশুদের খেলার জায়গা নিশ্চিত করতে একটি আঞ্চলিক পার্ক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৪৩৬ কোটি ৯৭ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা খরচ হবে জমি অধিগ্রহণে আর অবকাঠামো নির্মাণে খরচ হবে প্রায় ৬৭ কোটি টাকা। রাজউকের নিজস্ব অর্থায়নে এটি করা হবে। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত পার্কের ৪০০ মিটার পশ্চিমে ১৭০ ফুট চওড়া ঢাকা মহানগর বাইপাস সড়কের নির্মাণকাজ চলছে। প্রকল্পের ৩৫০ মিটার দক্ষিণে ৬০ ফুট চওড়া ঢাকা-কালীগঞ্জ মহাসড়ক নির্মাণের কথা রয়েছে। পার্ক নির্মাণের জায়গা আগে রাজউকের আওতাভুক্ত থাকলেও এটি এখন গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (গাউক) আওতায়। এ কারণে গাউক পার্ক নির্মাণসংক্রান্ত একটি চাহিদপত্র রাজউকে পাঠিয়েছে। গাউকের জনবল ও অর্থনৈতিক সামর্থ্য বিষয়টি আমলে নিয়ে রাজউক পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে রাজউকের স্থাপত্য শাখা পার্কের নকশা প্রণয়ন করেছে। এখন ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে।

রাজউকের প্রধান স্থপতি মোশতাক আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, কেরানীগঞ্জ, গাজীপুরের পুবাইল ও মতিঝিলে একটি করে পার্ক নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রী গাজীপুরের পুবাইল ও ঢাকার মতিঝিলের পার্ক নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন। এখন প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে।

জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট রাজউকের ঢাকা মহানগর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) ২০২২-২০৩৫-এর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে। ড্যাপে ১৫২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকার ভূমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকাসহ কৃষি, জলাশয়, বনাঞ্চল, উন্মুক্ত স্থান, পার্ক, স্কুল-কলেজ নির্মাণ, যোগাযোগব্যবস্থা প্রভৃতি এবং বন্যা প্রবাহের এলাকাগুলো চিহ্নিত করার সুপারিশ করা হয়। বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় অনেক বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়, যার একটি হচ্ছে পার্ক নির্মাণ।

ড্যাপের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পরিবেশবান্ধব শহরের জন্য যে পরিমাণ পার্ক, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান থাকা দরকার ঢাকা মহানগরে সে তুলনায় এসব খুবই কম পরিমাণে রয়েছে। ঢাকায় উন্মুক্ত স্থানের পরিমাণ মোট এলাকার মাত্র শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ। ড্যাপে পরিবেশবান্ধব শহর তৈরির লক্ষ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে ১৪টি ইকো পার্কসহ ৮৮টি পার্ক নির্মাণের কথা রয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে ৫টি বড় আঞ্চলিক পার্ক, ৫৫টি জলকেন্দ্রিক পার্ক, ১৪টি বড় ইকো পার্ক (ভাওয়াল বনসহ), ১৪টি অন্য ধরনের পার্ক। ড্যাপের আওতাভুক্ত এলাকায় তিনটি বড় আঞ্চলিক পার্ক নির্মাণ করবে রাজউক। বাকি পার্কগুলো গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো নির্মাণ করবে।

জানা গেছে, ড্যাপের প্রস্তাব বাস্তবায়িত করতে ড্যাপ কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম সভা ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর রাজউক ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। সংস্থাটির তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞার সভাপতিত্বে সভায় ৮৮টি পার্ক নির্মাণ, ওয়ার্ডভিত্তিক ৯১৪টি স্কুল ও খেলার মাঠ নির্মাণসহ ১৩টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ওই সভার কার্যপত্র গত ১১ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হয়। তাতে বলা হয়, পরিবেশবান্ধব শহর তৈরির জন্য ড্যাপে ৫টি আঞ্চলিক বড় পার্ক, ৫৫টি জলকেন্দ্রিক পার্ক, ১৪টি বড় ইকো পার্ক ও ১৪টি অন্য ধরনের পার্ক নির্মাণের জন্য মৌজা চিহ্নিত করা হয়েছে। কেরানীগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার ও মতিঝিলের আঞ্চলিক পার্ক নির্মাণ করবে রাজউক। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পার্ক নির্মাণ করতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে এবং নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেয় রাজউক। গত বছর জানুয়ারিতে চিঠিগুলো দেওয়া হয়।

ঢাকা মহানগর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনার (ড্যাপ) প্রকল্প পরিচালক ও রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ড্যাপে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব রয়েছে। পরিবেশবান্ধব শহর গড়তে অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের পার্ক, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ড্যাপের প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি ড্যাপ কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম সভায় আলোচিত হয়েছে। রাজউক চারটি বড় পার্ক নির্মাণ করবে। বাকি পার্কগুলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা বাস্তবায়ন করবে। পার্ক নির্মাণের কাজ করতে কয়েকটি সিটি করপোরেশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন পার্ক নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত