শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব

আপডেট : ১৩ মে ২০২৪, ১০:৫২ এএম

যতই দিন গড়াচ্ছে, আমাদের আত্মপরিচয়ের সংকট ততই বেড়ে চলেছে। আমরা সর্বত্রই অনুকরণের পেছনে ছুটছি। সত্যিকার দায়িত্ব-কর্তব্যগুলো পালন না করলেও লোক দেখানো কাজের পেছনে ছুটতেই ভালোবাসছি। ভিনদেশি সংস্কৃতির প্রতি ঝুঁকে পড়ছি। পালন করছি মা দিবস, বাবা দিবস। আসলে মা-বাবার প্রতি সন্তানের যে দায়িত্ব, বছরে একদিন তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করে সেই দায়িত্ব পালন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আল্লাহতায়ালা সন্তানের ওপর মা-বাবার প্রতি যে দায়িত্ব দিয়েছেন, কেউ যদি দিবস অনুসারে সেই দায়িত্ব পালন করতে চায় তাহলে প্রতিদিনই মা দিবস, বাবা দিবসের আয়োজন করতে হবে।

দিবসকেন্দ্রিক ভালোবাসা প্রকৃত ভালোবাসা নয়। ইসলাম আমাদের শেখায়- কীভাবে মা-বাবার সেবাযত্ন করতে হবে, কীভাবে তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করতে হবে এবং কীভাবে তাদের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে। কেবল দুনিয়াতেই নয়, বরং মৃত্যুর পরও কীভাবে মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণ করতে হবে, সেটাও ইসলাম আমাদের শেখায়। তাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হবে? আসুন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের আলোকে আমরা জেনে নিই, মা-বাবার প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য কী?

ইমাম বুখারি (রহ.) সাহাবি হাকিম ইবনে হিজাম (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, ‘(তিনি বলেন) আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমার সদ্ব্যবহার পাওয়ার ক্ষেত্রে কে অগ্রগণ্য? তিনি বললেন, তোমার মা। আমি বললাম, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। আমি বললাম, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। আমি বললাম, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার বাবা।’

সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘(কোনো ব্যক্তির প্রতি তার) পিতা সন্তুষ্ট থাকলে, আল্লাহতায়ালাও তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন। আর তার পিতা অসন্তুষ্ট থাকলে, দয়াময় আল্লাহও তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকেন।’ (আদাবুল মুফরাদ)

মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য কেমন হবে, এ দুটি হাদিস থেকে তা স্পষ্ট বুঝা যায়। এরপর তারা মারা গেলে তাদের জন্য দোয়া, দান-সদকা ইত্যাদি করাও জরুরি।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, আপনার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, ‘আল্লাহকে ছাড়া তোমরা অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদের (বিরক্তিসূচক) উহ শব্দও বলো না। আর তাদের ভর্ৎসনা করো না। বরং তাদের সঙ্গে বলো সম্মানসূচক নম্র কথা।’ (সুরা বনি ইসরাইল ২৩)

এ আয়াতে মহান আল্লাহ তার ইবাদতের পর দ্বিতীয় নম্বরে মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই আয়াতের ভাষ্য দ্বারা মা-বাবার আনুগত্য, তাদের খেদমত এবং তাদের প্রতি আদব ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করার গুরুত্ব পরিষ্কার হয়ে যায়। অর্থাৎ প্রতিপালকের দাসত্ব ও আনুগত্যের দাবিসমূহের সঙ্গে সঙ্গে মা-বাবার দাবিসমূহও পূরণ করা অত্যাবশ্যক। বিশেষ করে বার্ধক্যে তাদের ‘উহ’ শব্দটিও বলতে এবং তাদের ধমক দিতে নিষেধ করা হয়েছে। কেননা বার্ধক্যে তারা দুর্বল ও অসহায় হয়ে পড়েন। পক্ষান্তরে সন্তানরা হয় সবল, সক্ষম এবং সংসারের যাবতীয় বিষয়ের ব্যবস্থাপনাকারী। এজন্য প্রত্যেক সন্তানের উচিত, বার্ধক্যে পৌঁছে যাওয়া মা-বাবার প্রতি যত্নশীল হওয়া।

আল্লাহতায়ালা আমাদের মৃত মা-বাবার জন্য এই দোয়া শিখিয়েছেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! তাদের উভয়ের প্রতি তুমি দয়া করো, যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছে।’

(সুরা বনি ইসরাইল ২৪)

মা-বাবার জীবদ্দশায় জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তাদের খোঁজখবর রাখা, দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করাই হচ্ছে সন্তানের দায়িত্ব। এমনকি মৃত্যুর পরও তাদের জন্য আল্লাহর  শেখানো দোয়া করা। তাদের বন্ধু, সহপাঠী ইত্যাদি শ্রেণির মানুষের প্রতি সদাচরণ করা। তাদের জন্য দান-সদকা করাও কর্তব্য। আল্লাহতায়ালা আমাদের সঠিকভাবে এ জাতীয় দায়িত্ব পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত