রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

অতিগরমে ক্লাস্টার মাথাব্যথা হতে পারে

আপডেট : ১৩ মে ২০২৪, ০৩:৫৭ এএম

ক্লাস্টার মাথাব্যথা হলো দীর্ঘমেয়াদি মাথাব্যথা। এর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হয়নি। এটি পালাক্রমে হয় এবং একবার হয়ে যাওয়ার পর রোগী বেশ কিছুদিন ভালো থাকে। এরপর আবার হয়। অতিগরমে অনেকেরই এ ধরনের মাথাব্যথা হচ্ছে। সাধারণত মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের বেশি হয়। তাদের বেশিরভাগ সময় বাইরে থাকতে হয়। যাদের বয়স ২০ বা তার বেশি তাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের মাথাব্যথার আশঙ্কা বেশি। পরিবারের কারও একজনের থাকলে অন্যদের হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেরোটোনিন ও হিস্টামিন নামের দুটি উপাদানের সঙ্গে এ ধরনের মাথাব্যথার সম্পর্ক আছে।

লক্ষণ

ক্লাস্টার মাথাব্যথায় চোখ লাল হয়, চোখ দিয়ে পানি পড়ে, নাক বন্ধ থাকে বা নাক দিয়ে পানি পড়ে, অস্থির লাগে, বমিভাব হয় এবং ক্ষুধামান্দ্য থাকে। এ ধরনের মাথাব্যথা সাধারণত মাথার একদিকে হয়ে থাকে। ক্লাস্টার মাথাব্যথা নির্ণয় করা খুব কঠিন না।

রোগ নির্ণয়

রোগীর রোগের ইতিহাস এবং শারীরিক পরীক্ষা করলে অসুখটি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। সিটি স্ক্যান ও এমআরআই করা হয় অন্য কোনো অসুখ আছে কি না তা জানার জন্য। মদপান ও ধূমপান, অতি উজ্জ্বল আলো, উত্তাপ, কিছু ওষুধ, কোকেন, অত্যধিক পরিশ্রম, বেশি গরম বা রোদে পুড়ে গেলে, উঁচু স্থানে আরোহণ ইত্যাদির ফলে এই মাথাব্যথা শুরু হয়।

করণীয়

কিছু ওষুধ আছে, যা ক্লাস্টার মাথাব্যথা প্রতিরোধ করে। যেমন প্রোপানোলল, ভেরাপামিল, সাইপ্রোহেপ্টাডিন, টপিরামেট, ভ্যালপ্রোয়িক অ্যাসিড, লিথিয়াম, এমিট্রিপটাইলিন ইত্যাদি।

চিকিৎসা

হঠাৎ ক্লাস্টার মাথাব্যথা শুরু হলে ট্রিপট্যান জাতীয় ওষুধ বা স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয়। এক বালতি ঠান্ডা পানিতে পা ডুবিয়ে রাখলে ১০ মিনিট, শতভাগ অক্সিজেন দিলে রোগী দ্রুত আরাম পায়। ক্লাস্টার মাথাব্যথা জীবনের জন্য হুমকি নয়। এ ধরনের মাথাব্যথায় ব্রেনের কোনো ক্ষতি হয় না। কিন্তু এ ধরনের মাথাব্যথা শারীরিক ও মানসিক কষ্ট দেয়। অভিজ্ঞ নিউরোমেডিসিনের কাছে গেলে এ ধরনের মাথাব্যথার চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত