শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সফল কৃষক অ্যাডিশনাল এসপি আহসান খান

আপডেট : ১৩ মে ২০২৪, ০১:০৭ পিএম

সবজি চাষ করে যিনি আনন্দ পান। সূর্যোদয়ের আগে যার কাজের সময় মেলে। শতব্যস্ততার মধ্যে যিনি পতিত জমিতে শাকসবজি আর ফলের চাষ করেছেন, তিনি হলেন মেহেরপুরের অ্যাডিশনাল এসপি মো. আহসান খান। দেশ রূপান্তরের মোহসীনা লাইজুকে জানালেন তার গল্প।

পুরোদস্তুর ব্যস্ত মানুষ অ্যাডিশনাল  এসপি মো. আহসান খান। কাজ করছেন পুলিশের ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন বিভাগে। কর্মক্ষেত্র মেহেরপুর জেলায়। কাজের পাশাপাশি বলা যায় তিনি এ সময়ের একজন সফল কৃষি উদ্যোক্ত। গত বছর মে মাসে যখন বদলি হয়ে মেহেরপুর গেলেন তখন তিনি দেখলেন তার কর্মস্থল পুলিশ লাইনের পাশে অনেক পতিত জমি। জঙ্গল ও আগাছায় ভরপুর। এক কথায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে সেসব জমি। তখন তার ভাবনায় এলো এসব জমি যদি আবাদ করা হয় তাহলে অনেক শাকসবজি ফলানো সম্ভব হতো। এই ভাবনা থেকেই নেমে পড়লেন কাজে। এ প্রসঙ্গে আহসান খান বললেন, আমাদের জেলা-উপজেলা শহরগুলোতে অনেক সরকারি অফিসের কম্পাউন্ডে পতিত জমি পড়ে আছে। এসব জমিতে সহজেই আবাদ করা যায়। আর এ ব্যাপারে আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। তিনি বলেছেন, দেশের এক টুকরো জমিও অনাবাদি থাকবে না। চ্যানেল আই এর সাইখ সিরাজ ভাইয়ের একটা প্রতিবেদনে দেখেছি কীভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণভবনে কত কিছু আবাদ করেছেন। এটা দেখেই আমি আরও বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছি বলতে পারেন।’

পুলিশ লাইনের প্রায় পৌনে দুই বিঘা পরিত্যক্ত জমিতে শাকসবজি আবাদ করেছেন। এসব শাকসবজি পুলিশ লাইনে বসবাসরত পুলিশ সহকর্মীরাই খাচ্ছেন। আহসান খান বলেন, আসলে মেহেরপুরের জমি অনেক উর্বর। বছরে ৪ বার আবাদ করা যায়। আমার যেটুকু অভিজ্ঞতা ছিল তা নিয়ে কাজে নেমে পড়ি। আমার সহকর্মীরা এগিয়ে আসেন। এখানকার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকেও অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। বীজ ও সার দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। তিন-চারজনকে কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণে পাঠিয়েছি। হাতেকলমে শিখে আসার জন্য। সেখান থেকে তারা অনেক কিছু শিখে এসেছে। ট্রাক্টর সংগ্রহ করে চাষ করেছি। নিজেরাই জৈব সার তৈরি করেছি। ৫৪ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই সবজি উৎপাদন করতে পারছি। আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করছি। এখানে ৩ থেকে ৪ রকমের বেগুন আছে। দেশি পেঁপে গাছ আছে ২০০টি। কাঁচা মরিচ গাছ ২০০ ওপরে আছে। গ্রীষ্মকালীন টমেটো আছে। বাঁধাকপি, ঝিঙা, ঢেঁড়স, শসা ও লাউ আছে। এগারো রকমের শাক হচ্ছে। মেহেরপুরের একজন কৃষকের কাছ থেকে কীভাবে রকমেলন চাষ হয় শিখে সেটারও আবাদ করেছি। তরমুজের চাষ করেছি। এখানে হলুদ তরমুজও আছে। পুলিশ লাইনের মেসে যারা আছেন তারা মেসে এই সবজি রান্না করে খান।  সবজির অনেক দাম। এর ফলে তাদের অনেকটা সাশ্রয় হচ্ছে। পুলিশ লাইনের পুকুরে মাছ চাষের পরিকল্পনা আছে। অনেক গরিব মানুষকেও আমরা সবজি দিচ্ছি।

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমছে। বসতবাড়ি, মিলকারখানা নির্মাণের ফলে জমি যেমন কমছে তেমনি খাদ্যের চাহিদাও বাড়ছে। তাই আবাদযোগ্য জমি ফেলে না রেখে চাষবাস করা উচিত। এ প্রসঙ্গে এসপি আহসান খান বলেন, ‘আমার বাড়ি রংপুরের গঙ্গাচড়া গ্রামে। বাড়ির পাশ দিয়ে তিস্তা নদী বয়ে গেছে। শৈশবে দেখেছি আমাদের জমিতে কীভাবে চাষবাস করত। বাড়ির পাশে নার্সারি ছিল। সেই শৈশবে হর্টি কালচারাল সেন্টারে গিয়ে অনেক কিছু দেখতাম। আমাদের শৈশবে লবণ আর কেরোসিন ছাড়া কিছু কিনতে হতো না। সবকিছু চাষ হতো। চাইলে আমরা এখনও করতে পারি। আমাদের কৃষি বিভাগ প্রচুর ভর্তুকি দিচ্ছে। বীজ, সার দিচ্ছে বিনামূল্যে। হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। জেলা শহরগুলোতে যেসব সরকারি অফিস আছে সবারই নিজস্ব জমিতে অফিস। এসব অফিসের আশপাশে অনেক জমি থাকে। যা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। সেখানে সহজেই অনেক কিছু চাষ করা সম্ভব। প্রয়োজন শুধু ইচ্ছাশক্তির।’

পুলিশ কর্মকর্তাদের অনেক ব্যস্ত জীবন। এর মধ্যে এত কিছু করা কীভাবে সম্ভব হলো। এর উত্তরে আহসান খান বললেন, শুরুতেই বলেছি ইচ্ছাশক্তি সব থেকে বড় কথা। আমি যখন কাজটা শুরু করি তখন পুলিশ লাইনের কর্মীরাও এগিয়ে এসেছে। সবাই মিলেই করছি। আনন্দ পাই এই কাজ করতে। সূর্যোদয়ের আগে আর সূর্যঅস্তের পরেই এসব কাজ করি। আমার এই কাজ দেখে কেউ যদি অনুপ্রাণিত হয় তবেই আনন্দ পাব।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত