রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

৩ উপজেলায় ৯ প্রার্থীর  সবাই ব্যবসায়ী!

আপডেট : ১৩ মে ২০২৪, ০৪:৪৩ এএম

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে খুলনার তিন উপজেলায় (ফুলতলা, দিঘলিয়া ও তেরখাদা) চেয়ারম্যান পদে ভোটের মাঠে রয়েছেন ৯ প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনে তাদের দাখিল করা হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এই ৯ প্রার্থীর সবার পেশাই ব্যবসা। আর তাদের পাঁচজনের বিরুদ্ধে রয়েছে ১৭টি মামলা। যার সব কটিই বিচারাধীন। ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ২১ মে এই তিন উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে।

তিন উপজেলার ৯ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ফুলতলার শেখ আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে পাঁচটি, মো. সাব্বির হোসেনের বিরুদ্ধে দুটি, দিঘলিয়া উপজেলার মো. মহিউদ্দীন মল্লিকের বিরুদ্ধে পাঁচটি, গাজী মো. এনামুল হাচানের বিরুদ্ধে তিনটি এবং তেরখাদা উপজেলার মো. সরফদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চুর বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। বিচারাধীন এসব মামলা মাথায় নিয়েই তারা নির্বাচনে লড়ছেন।

তেরখাদার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. সরফদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চুর বার্ষিক আয় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং নির্ভরশীলদের আয় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। নগদ ৪৩ লাখ ৬৬ হাজার ৮৪৬ এবং নির্ভরশীলদের ২৩ লাখ ৪৮ হাজার ২৫২ টাকা রয়েছে।

বাচ্চুর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জেলা মৎস্যজীবী লীগের সহসভাপতি আবুল হাসান শেখের কৃষি খাত থেকে বার্ষিক আয় ১ লাখ ৮২ হাজার ৬৭০ টাকা। বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে আয় ১০ লাখ ৭১ হাজার ৯০০ টাকা। ব্যবসা থেকে আয় ৩৭ লাখ ১৩ হাজার ৪৩৮ টাকা।

ফুলতলার শেখ আকরাম হোসেনের দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বার্ষিক আয় ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা, কৃষি খাত থেকে আয় ৯২ হাজার এবং দোকান ও বাড়িভাড়া থেকে বার্ষিক আয় ৬০ হাজার টাকা। এই উপজেলায় একমাত্র নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের নেত্রী বিলকিস আক্তার ধারার বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে আয় ৭২ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে আয় ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী সদ্য বহিষ্কার হওয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাব্বির হোসেনের ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। নগদ টাকার পরিমাণ ৭ লাখ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ২ লাখ ৯১ হাজার টাকা।

দিঘলিয়া উপজেলার চার প্রার্থীর মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ মারুফুল ইসলামের কৃষি থেকে আয় ২০ হাজার টাকা, মাছ চাষ থেকে ৬০ হাজার এবং উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে সম্মানীর ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা আয় রয়েছে।

সাবেক চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দীন মল্লিকের কৃষি খাত থেকে ৬৫ হাজার ও বাড়ি ভাড়া থেকে ১ লাখ টাকা আয় হয়। নিজের ২ লাখ ও নির্ভরশীলদের ৩ লাখ টাকা নগদ রয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজ ও নির্ভরশীলদের নামে জমা আছে ৬০ হাজার টাকা।

জাকির হোসেনের একটি প্রাইভেট কার, স্ত্রীর ৫ ভরি স্বর্ণ, ইলেকট্রিক ও আসবাব ১ লাখ এবং ৯ শতক জমি রয়েছে। পূবালী ব্যাংকে ঋণ রয়েছে ১৯ লাখ টাকা।

এ ছাড়া বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত গাজী মো. এনামুল হাচানের ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নগদ ২ লাখ, ব্যাংকে জমা আছে ২ লাখ এবং ইলেকট্রনিক ও আসবাব রয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার টাকার।

খুলনার অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এটিএম শামীম মাহমুদ জানান, এই নয় প্রার্থীর হলফনামা যাচাই-বাছাই করে যোগ্য বলে বিবেচিত করা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত