শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মর্গে থাকা মা ও সেই শিশুটির পরিচয় মিলল

আপডেট : ১৩ মে ২০২৪, ০৪:৪৮ এএম

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে দুদিন পড়ে থাকা নারী ও চিকিৎসাধীন শিশুটির পরিচয় মিলেছে। দেড় বছর বয়সী শিশুটির নাম মেহেদী হাসান। ওই নারীর নাম জায়েদা খাতুন (৩২)। জায়েদা সুনামগঞ্জের  দোয়ারাবাজার উপজেলার কুসিউড়া গ্রামের মো. রমিজ উদ্দিনের মেয়ে।

গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ভালুকা উপজেলার মাস্টারবাড়ি আইডিয়াল মোড় এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ ওই নারী গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ভালুকা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই নারীর মৃত্যু হয়। পরিচয় না মেলায় আহত শিশুটির ছবি ও মর্গে পড়ে থাকা নারীর মরদেহের ছবি ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া হলে ছবিটি ভাইরাল হয়।

সূত্রে জানা যায়, নরসিংদীর পলাশ থানার নোয়াকান্দা গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে মো. ফারুক মিয়ার সঙ্গে ৬-৭ বছর আগে জায়েদা খাতুনের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। ফারুকের ঘরে প্রথম স্ত্রীসহ তিনটি সন্তান রয়েছে। ফারুক জামিরদিয়া এলাকার ভাড়া থেকে পিকআপ গাড়ি চালাতেন। জায়েদা ওই এলাকায় ভাড়া থেকে পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। এরপর  প্রেমের সম্পর্ক তৈরির পর বিয়ে করেন তারা। কিন্তু এ বিয়ে মেনে নেয়নি ফারুকের পরিবার। এ কারণে জায়েদা হতাশায় ভুগছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শিশুসহ জায়েদা কীভাবে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন, তা কেউ বলতে পারছেন না। ধারণা করা হচ্ছে, শিশুসন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন জায়েদা।

পুলিশ জানায়, ফেসবুকে ছবি ভাইরাল হওয়ার পর ওই নারী পরিচয় জানতে মাঠে নামে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ। ভালুকার জামিরদিয়া আইডিয়াল মোড় এলাকায় যে বাড়িতে তিনি ভাড়া থাকতেন সেই বাসার মালিক হাবিবুল্লাহর মাধ্যমের ফারুকের খোঁজ পাওয়া যায়। পরে  জায়েদার মরদেহ শনাক্ত করেন ফারুক। পরে জায়েদার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। খবর পেয়ে  জায়েদার বড় ভাই মো. রবিন মিয়া ছুটে আসেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এদিকে গতকাল রবিবার দুপুরের পর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে জায়েদার মরদেহ ময়নাতদন্ত  করা হয়।

এর আগে হাসপাতালের পরিচালকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শিশুটিকে দেখতে হাসপাতালে যান। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার গোলাম ফেরদৌস জানান, শিশুটি এখন শঙ্কামুক্ত। সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকবে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত অভিভাবকের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত