শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিজেপির কাশ্মীরভীতি!

আপডেট : ১৪ মে ২০২৪, ১২:৩৭ এএম

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণ হয়েছে গতকাল সোমবার। এই পর্বে ৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরের ৯৬টি নির্বাচনী আসনে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। এ দিনে অন্ধ্র প্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি কেন্দ্রে হট্টগোল ও অশান্তির খবর পাওয়া গেছে। এসব কেন্দ্রে মূলত কেন্দ্রের ক্ষমতায় থাকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতাদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছেন বিরোধীরা। তবে জম্মু ও কাশ্মীরে তেমন কোনো হট্টগোলের খবর পাওয়া যায়নি। এর প্রধান কারণ অবশ্য হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জম্মুতে দুই আসনে প্রার্থী দিলেও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের তিন আসনের কোনোটিতেই বিজেপি লড়ছে না। সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের পর প্রথম লোকসভা নির্বাচন হচ্ছে ভারতে। অথচ এই নির্বাচনে কাশ্মীরে কোনো প্রার্থীকে দাঁড় করায়নি বিজেপি। দলটির এমন সিদ্ধান্ত অনেককেই অবাক করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধী নেতারা বলছেন, কাশ্মীরে এ মুহূর্তে ভোটযুদ্ধে নামলে তা তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিতে পারত। এটি ভালো করেই জানে বিজেপি নেতৃত্ব। অর্থাৎ কাশ্মীর নিয়ে বিজেপি এখনো ভয়ে আছে। সে কারণেই সেখানে প্রার্থী দেয়নি দলটি।

দীর্ঘদিন ধরেই দিল্লি ও কাশ্মীরের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। গত তিন দশকে অঞ্চলটিতে ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও এর প্রতিক্রিয়ায় সামরিক অভিযানে বহু প্রাণহানি ঘটেছে। ৩৭০ ধারা বাতিল করলে কাশ্মীরের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ওই ধারায় কাশ্মীরকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ধারাটি বাতিলের ফলে লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর নামে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সৃষ্টি হয়। কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর বিজেপি সরকার সেখানে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। ওই অঞ্চলের তিনজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ শত শত রাজনীতিককে মাসের পর মাস ধরে কারাগারে রাখা হয়। এখন থেকেই মোদি ও তার মন্ত্রীরা ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্তের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, এই ধারা বাতিলের ফলে উপত্যকাটিতে শান্তি ফিরেছে। কয়েক বছর ধরে কাশ্মীরের স্থানীয় বিজেপি নেতারা মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন সমর্থনের আশায়। জম্মু ও কাশ্মীরে বিজেপির প্রধান মুখপাত্র সুনীল শেঠের দাবি, এবারের নির্বাচন তাদের অগ্রাধিকার নয়। ওই অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়াই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। সমালোচকরা অবশ্য বলছেন, বিজেপি নেতৃত্ব বুঝতে পেরেছে, কাশ্মীরে জয় নিশ্চিত করা সহজ হবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষক নূর আহমদ বাবা বলেন, অন্য রাজ্যে অর্জনকে হয়তো বিক্রি করা যায়। কিন্তু হিমালয় অঞ্চলের মানুষ বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) পার্টির নেতা ওমর আবদুল্লাহ বলেন, নিজেদের মুখ রক্ষা করতেই তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত