রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

যেসব কারণে হতাশা বাড়ে

আপডেট : ১৩ মে ২০২৪, ১০:৪১ পিএম

হতাশা একটি তীব্র মানসিক অবস্থা। যা মানুষের পুরো শরীরকে বিষিয়ে তোলে। এতে মানুষ নিপতিত প্রচণ্ড অস্বস্তিকর অবস্থায়। মূলত হতাশা আসে শয়তানের পক্ষ থেকে। আর হতাশার মূল কারণ আল্লাহ-বিমুখতা। নিজেকে সব সময় আল্লাহ অভিমুখী রাখলে এবং মহান আল্লাহর নির্দেশাবলি যথাযথভাবে পালন করলে মানুষ কখনো হতাশায় জর্জরিত হবে না। তখন হতাশার বিষয় সামনে এলেও তা মানুষকে কাবু করতে পারবে না। কারণ আল্লাহ তার সঙ্গে আছেন।

মহান আল্লাহ আমাদের সৃষ্টিকর্তা ও রিজিকদাতা। যাবতীয় কল্যাণ একমাত্র তারই হাতে। তাই দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ লাভে তার সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে। প্রশান্ত জীবন লাভে তার আদেশ-নিষেধ মেনে চলার বিকল্প নেই। যারা তার নির্দেশিত পথ থেকে সরে যাবে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হতাশার পাহাড় তার মাথার ওপর চেপে বসবে। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মহাপবিত্র আল্লাহ বলেন, হে আদম সন্তান, আমার ইবাদতে মগ্ন হও। আমি তোমার অন্তরকে ঐশ্বর্যমণ্ডিত করব এবং তোমার দারিদ্র্য দূর করব। তুমি যদি তা না করো, তাহলে আমি তোমার অন্তর হতাশা দিয়ে পূর্ণ করব এবং তোমার দরিদ্রতা দূর করব না। (ইবনে মাজাহ ৪১০৭)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে আদম সন্তান, তুমি আমার ইবাদতের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করো, আমি তোমার অন্তর ঐশ্বর্যে পূর্ণ করে দেব এবং তোমার অভাব দূর করে দেব। তুমি তা না করলে আমি তোমার দুই হাত কর্মব্যস্ততায় পরিপূর্ণ করে দেব এবং তোমার অভাব-অনটন রহিত করব না।’ (তিরমিজি ২৪৬৬)

কারণ যারা মহান আল্লাহর আদেশ অমান্য করে দুনিয়াকে প্রাধান্য দেয়, মহান আল্লাহ তাদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন না। ফলে তাদের আত্মিক শান্তি উধাও হয়ে যায়। তারা যেদিকে তাকায় শুধু হতাশা আর ব্যর্থতা দেখতে পায়। দুশ্চিন্তা তাদের চেপে ধরে। এর বিপরীতে যাদের চিন্তা আখেরাতকেন্দ্রিক হয়, তাদের দুনিয়ার চিন্তার জন্যও মহান আল্লাহ যথেষ্ট হয়ে যান। ফলে তারা দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ লাভ করে। তাদের ইহকাল ও পরকাল শান্তিময় হয়।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘আমি তোমাদের নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি তার সব চিন্তাকে একই চিন্তায় অর্থাৎ আখেরাতের চিন্তায় কেন্দ্রীভূত করেছে, আল্লাহ তার দুনিয়ার চিন্তার জন্য যথেষ্ট। অন্যদিকে যে ব্যক্তি যাবতীয় পার্থিব চিন্তায় নিমগ্ন থাকবে সে যেকোনো উন্মুক্ত মাঠে ধ্বংস হোক, তাতে আল্লাহর কিছু আসে যায় না।’ (ইবনে মাজাহ ২৫৭)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তির একমাত্র চিন্তার বিষয় হবে পরকাল, আল্লাহ সেই ব্যক্তির অন্তরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন এবং তার যাবতীয় বিচ্ছিন্ন কাজ একত্র করে সুসংযত করে দেবেন, তখন তার কাছে দুনিয়াটা নগণ্য হয়ে দেখা দেবে। আর যে ব্যক্তির একমাত্র চিন্তার বিষয় হবে দুনিয়া, আল্লাহ সেই ব্যক্তির গরিবি ও অভাব-অনটন দুই চোখের সামনে লাগিয়ে রাখবেন এবং তার কাজগুলো এলোমেলো ও ছিন্নভিন্ন করে দেবেন। তার জন্য যা নির্দিষ্ট রয়েছে, দুনিয়াতে সে এর চেয়ে বেশি পাবে না। (তিরমিজি ২৪৬৫)

তাই আমাদের উচিত, ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ লাভের চেষ্টা করা। আল্লাহর কাছে অকল্যাণ থেকে আশ্রয় চাওয়া। সবকিছুতে মহান আল্লাহর আদেশ-নিষেধকে প্রাধান্য দেওয়া। আশা করা যায়, মহান আল্লাহ আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ ও নিরাপত্তা দান করবেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত