মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এই দিনে

১৫ মে

আপডেট : ১৪ মে ২০২৪, ১০:৩৪ পিএম

উনিশ শতকের খ্যাতনামা সমাজ ও ধর্মসংস্কারক দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮১৭ সালের ১৫ মে (৩ জ্যৈষ্ঠ ১২২৪ বঙ্গাব্দ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম দ্বারকানাথ ঠাকুর এবং মায়ের নাম দিগম্বরী দেবী। ১৮২৭ সালে তিনি বাবা দ্বারকানাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত অ্যাংলো-হিন্দু স্কুলে ভর্তি হন। ১৮৩৪ সালে তিনি স্কুল ছেড়ে বাবার প্রতিষ্ঠিত ইউনিয়ন ব্যাংকে কোষাধ্যক্ষের শিক্ষানবিশিতে যোগ দেন। একই বছরের মার্চ মাসে যশোরের রামনারায়ণ চৌধুরীর মেয়ে সারদাসুন্দরী দেবীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৮৩৮ সালে পিতামহী অলকা দেবীর মৃত্যুর পর তিনি ভারতীয় ও ইউরোপীয় ধর্ম ও দর্শন পাঠে আত্মনিয়োগ করেন। এ সময় তিনি উপনিষদের অনুসারী হয়ে ওঠেন। উপনিষদের চর্চা ও এর বাণী প্রচারের উদ্দেশ্যে জোড়সাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে এক ধর্মসভা চালু করেন। রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ এ সভার আচার্য পদ গ্রহণ করলে এর নাম হয় ‘তত্ত্ববোধিনী সভা’। ১৮৪২ সালে দেবেন্দ্রনাথ ‘তত্ত্ববোধিনী সভা’র পরিচালনাভার গ্রহণ করেন এবং ‘ব্রাহ্মসমাজ’-এর বক্তব্য প্রচারের জন্য ১৮৪৩ সালে ‘তত্ত্ববোধিনী’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। এর পরপরই তিনি তার ২১ জন আত্মীয়সহ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেন। তার অন্য আত্মীয়রা এ সময় তাকে পরিত্যাগ করেন। ১৯৪৬ সালের ১ আগস্ট বাবা দ্বারকানাথ ঠাকুর লন্ডনের সারেতে মৃত্যুবরণ করার পর পারিবারিক সম্পদ দেখাশোনার দায়িত্ব পান এবং জমিদারির তদারকি করেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৮৫৯ সালে তিনি কলকাতায় ব্রাহ্মবিদ্যালয় স্থাপন করেন। কিছুদিন পর ব্রাহ্মসমাজের গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্ম কেশবচন্দ্রের হাতে ন্যস্ত করেন। পরে ধর্মীয় আদর্শের কারণে কেশবচন্দ্রের সঙ্গে সংঘাত উপস্থিত হলে ব্রাহ্মসমাজ বিভক্ত হয়ে যায়। কেশবচন্দ্রের অনুগামী সমাজের নামকরণ হয় ‘ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ’ আর দেবেন্দ্রনাথের অনুগামী ধর্মের নাম হয় ‘আদি ব্রাহ্মসমাজ’। এরপর ধীরে ধীরে তিনি সব বৈষয়িক ও ধর্মীয় সংঘাত থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেন। ১৯০৫ সালের ১৯ জানুয়ারি (৬ মাঘ ১৩১১ বঙ্গাব্দ) ৮৮ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫ সন্তানের মধ্যে ১৪তম সন্তান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম প্রধান প্রাণপুরুষ হয়ে ওঠেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত