শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

শয়তান সম্পর্কে আল্লাহর সতর্কবাণী

আপডেট : ১৪ মে ২০২৪, ১১:০২ পিএম

মানুষের পেছনে লেগে সরল-সঠিক পথ থেকে বিভ্রান্ত ও বিচ্যুত করাই হলো শয়তানের কাজ। এজন্য সে মরিয়া হয়ে কাজ করে। এটাই তার জীবনের প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকার। যুগে যুগে আল্লাহতায়ালা নবী-রাসুলদের মাধ্যমে মানুষকে শয়তান সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। এ বিষয়ে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে আদম সন্তানরা (সতর্ক হও), শয়তান যেন ধোঁকা ও প্রতারণার মাধ্যমে তোমাদের দায়িত্ব পালন থেকে বিচ্যুত করে ভুলপথে পরিচালিত করতে না পারে, যেভাবে সে (ধোঁকা প্রতারণার মাধ্যমে) তোমাদের (আদি) পিতা-মাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছিল। তাদের পরস্পরকে তাদের গোপন অঙ্গ দেখানোর জন্য সে তাদের বিবস্ত্র করে দিয়েছিল। সে এবং তার দলবল এমনভাবে (বা এমন স্থান থেকে) তোমাদের দেখতে পায় যেখান থেকে তোমরা তাদের দেখতে পাও না। আমি শয়তানগুলোকে সে সব লোকের অলি (অভিভাবক) বানিয়ে দিয়েছি, যারা ইমান আনে না, ইমানের পথে চলে না।’ (সুরা আরাফ ২৭)

শয়তান মানুষের চিরশত্রু। তাই শয়তান সম্পর্কে মানুষের সুস্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। কারণ যে ব্যক্তি শত্রুর ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখে না, সে সহজেই শত্রুর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়। শয়তান সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘সে আল্লাহর চরম অবাধ্য, অতিশয় অকৃতজ্ঞ, মানুষের স্বঘোষিত সুস্পষ্ট দুশমন। তার সংকল্প মানুষকে বিপথগামী করা।’ শয়তান মানুষকে বিপথগামী করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে থাকে। তার কৌশলের মধ্যে রয়েছে, মানুষের মনে কুপ্ররোচনা সৃষ্টি করা, মানুষের মনে মিথ্যা আশা ও বাসনার উদ্রেক ঘটানো, মন্দ কাজগুলোকে মানুষের সামনে শোভনীয় ও মনোহরী করে তোলা, মানুষকে মাদক ও জুয়া খেলায় লিপ্ত করানো, মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শত্রুতা ও বিদ্বেষ বাধানো, মানুষকে সুদি কারবারে লিপ্ত করা, মানুষকে আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্কে নামানো, মানুষকে অশ্লীল ও মন্দ কাজে প্রলুব্ধ করা, মানুষকে কান কথায় বিশ্বাসী করে পরস্পরের বিরুদ্ধে সন্দেহ সৃষ্টি করে দেওয়া, মানুষকে দিয়ে অপব্যয় এবং অপচয় করানো।

শয়তান মানুষের বন্ধু ও কল্যাণকামী সেজে মানুষকে প্ররোচনা দেয়। আর শয়তানের প্ররোচনায় প্রভাবিত হয়ে কেউ যখন আল্লাহর হুকুম অমান্য করে এবং অপরাধ সংঘটিত করে বসে, তখন শয়তান তাকে ফেলে কেটে পড়ে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত