সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ঢাবিকে ফাঁকি দিয়ে বহাল তবিয়তে তারা

আপডেট : ১৫ মে ২০২৪, ০৬:৩৪ এএম

নিয়মবহির্ভূতভাবে একইসঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধির তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে বাইরের প্রতিষ্ঠানেও কাজ করছেন তারা। এ নিয়ে দেশ রূপান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তলব করলেও এখনো তারা বহাল তবিয়তেই আছেন। আলোচিত এই দুই কর্মকর্তা হচ্ছেন ঢাবির শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের উপপরিচালক মো. আজাদ রহমান ও একই দপ্তরের আরেক উপপরিচালক এস এম জাকারিয়া বাবু।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা অন্য কোথাও চাকরি করতে পারবেন না। অন্য কোথাও চাকরি করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনুমতি নিতে হবে এবং আয়ের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে তারা কোনো নিয়মই মানেননি।

বিষয়টি নিয়ে দেশ রূপান্তরে গত বছরের ৯ নভেম্বর ‘ঢাবিকে ফাঁকি দেন তারা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল ওই দুই কর্মকর্তাকে তলব করে তাদের যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে চলার নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী তারা বাইরে কাজের অনুমতির আবেদন করলেও এখনো পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সে অনুমতি দেয়নি বলে দেশ রূপান্তর নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া আয়ের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সেটাও তারা দেননি। বরং এখনো পর্যন্ত নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন।

জানা যায়, শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের উপপরিচালক আজাদ রহমান ২০২০ সাল থেকে ফুটবল ফেডারেশনে হেড অব রেফারিজ হিসেবে কর্মরত আছেন। সেখানে মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা বেতন পান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরিচালক হিসেবে পান ৫০ হাজার টাকা বেতন। আরেক উপপরিচালক জাকারিয়া বাবু ঢাকা আবাহনীর কোচের দায়িত্ব পালন করছেন ২০১৮ সাল থেকে। এর আগে ছিলেন শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের কোচ। চুক্তিভিত্তিক মাসে কয়েক লাখ টাকা বেতন পান তিনি। গত মঙ্গলবার ফেডারেশন কাপ ফুটবলের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আবাহনী-বসুন্ধরা কিংসের খেলায়ও তিনি কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন।

শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা বিভিন্ন ফেডারেশনের কমিটিতে কাজ করেন। তবে তারা কোনো সম্মানী পান না। কিন্তু এই দুই কর্মকর্তা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তিভঙ্গ করছেন। নিয়ম মেনে চাকরি করলে তাদের আয়ের একটি অংশ থেকে কয়েক লাখ টাকা পেত বিশ্ববিদ্যালয়।

শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর ওই দুই কর্মকর্তাকে ডেকেছিলেন উপাচার্য। তিনি তাদের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের নির্দেশ দেন। তবে তারা সেটি সম্পন্ন না করে এখনো চাকরি করছেন। অফিসে যে সময় দেওয়ার কথা তারা সেভাবে সময় দেন না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপপরিচালক আজাদ রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি যথাযথভাবে আবেদনও করেছি। আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি। আমি এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি।’

একই বিষয়ে বক্তব্য জানতে আরেক উপপরিচালক এস এম জাকারিয়া বাবুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও কোনো সাড়া মেলেনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. শাহজাহান আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে একটি সভাও ডেকেছি। সবার কাছে লিখিত দিয়েছি এবং বলেছি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনুমতি নিতে হবে। পরবর্তী সময়ে উপাচার্য মহোদয় তলব করার পর আমি নির্ধারিত দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি। আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি। এর বাইরে কী হয়েছে আমার জানা নেই।’

আর শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. অসীম সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উপাচার্য তলব করার পর তারা অফিস টাইমের সময় অন্য জায়গায় কাজ করবেন না বলে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। সেটি এখন কোন অবস্থায় আছে সেটি উপদেষ্টা হিসেবে আমি দেখব। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে জানাতে পারব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও কাজ করার সুযোগ নেই বলে জানান ঢাবির উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ও উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী অন্য কোথাও কাজ করতে হলে অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে এবং আয়ের একটি অংশ কোষাগারে জমা দিতে হবে। সবার জন্যই এই নিয়ম প্রযোজ্য। এর বাইরে যাওয়ার কারও সুযোগ নেই।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত