শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

হৃদয় হবেন গেম চেঞ্জার: রাজিন সালেহ

জাতীয় দলের সাবেক তারকা ব্যাটসম্যান রাজিন সালেহ। এখন মনোনিবেশ করেছেন কোচিংয়ে। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ঘোষিত স্কোয়াড নিয়ে। 

আপডেট : ১৫ মে ২০২৪, ১২:৪৯ পিএম

সাইফউদ্দিনকে না রাখাতে একটু অবাক হয়েছি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার সবসময়ই দলে গুরুত্বপূর্ণ। তাকে নিতে পারলে ভালো হতো। আবাহনীর হয়ে কোচিং করানোর সুবাদে আমি জাতীয় দলের অনেক ক্রিকেটারকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। তারা ঘরোয়া ক্রিকেটে যতটা ভালো করেছে, জিম্বাবুয়ে সিরিজে ততটা ভালো করেনি। এই নিয়ে আমার খানিকটা হতাশাও আছে। আমাদের প্রস্তুতিটাও ভালো হয়নি, জিম্বাবুয়ের চেয়ে শক্তিশালী কোনো দলের বিপক্ষে খেলতে পারলে আমাদের প্রস্তুতিটা আরও ভালো হতে পারত।

টি-টোয়েন্টি মূলত ব্যাটসম্যানদের খেলা। সব দলেই একজন এ রকম ব্যাটসম্যান থাকে যে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশের এই ব্যাটসম্যানটা হতে পারে তাওহীদ হৃদয়। তার হাতে অনেক রকমের শটস আছে। ওকে আমি সিলেট স্ট্রাইকার্স এবং আবাহনী, দুই জায়গাতেই দেখেছি। ও হতে পারে বাংলাদেশের গেম চেঞ্জার। দ্রুত রান তোলা, ইমপ্যাক্ট ইনিংস খেলা এই জায়গাটাতে হৃদয় বাংলাদেশকে অনেক সাহায্য করতে পারে।

তানভির ইসলাম অল্প কিছু ম্যাচ খেলেই বিশ্বকাপের দলে সুযোগ পেয়ে গেল। আমি তার বিপক্ষে নই, তবে নাসুম আহমেদকে কেন বিবেচনা করা হলো না সেটাই আমার প্রশ্ন। নাসুমকে এক সময় দলের প্রধান স্পিনার মনে করা হতো। সে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও অভিজ্ঞ। অথচ সে এখন জাতীয় দলের আশপাশে নেই। তবে তানভিরও খারাপ নয়, ভালো বোলার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা কম হলেও বিপিএল এবং ঢাকা  লিগে বেশ উইকেট পেয়েছে।

আমাদের দলটা ভালোই হয়েছে। বোলিং অপশনস অনেক অধিনায়কের হাতে। লেগস্পিনার, অফস্পিনার, বামহাতি স্পিনার, দুই ধরনেরই পেসার সব আছে দলে। আমি আশা করব মোস্তাফিজুর রহমান একটা চমৎকার বিশ্বকাপ কাটাবে। আইপিএল থেকে সে দারুণ সব অভিজ্ঞতা অর্জন করে এসেছে। ব্যাটিংয়ে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে লিটন, সৌম্য, শান্ত এদের কেউ একজনকে ভালো করতেই হবে।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপের পরের রাউন্ডে যাওয়ার সমীকরণটা আমার কাছে খুব একটা কঠিন মনে হচ্ছে না। শ্রীলঙ্কা আর দক্ষিণ আফ্রিকা, দুটো বড় ম্যাচ এর একটা জিতলেই হবে আর সেই সঙ্গে নেদারল্যান্ডস এবং নেপালকে হারাতে হবে। বিশ্বকাপে গেলে এতটুকু প্রতিদ্বন্দ্বিতা তো করতেই হবে। নেদারল্যান্ডসের কাছে ওয়ানডে বিশ্বকাপে হারলেও টি-টোয়েন্টিতে আমরা আশা করি হারব না। আমাদের স্পিনাররা বেশ কার্যকর আর খেলাটা ওয়েস্ট ইন্ডিজে, তাই আমার মনে হয় এবার আর ডাচদের বিপক্ষে হারতে হবে না। বাকি রইল নেপাল, যে ম্যাচটা অবশ্যই জেতা উচিত।

আমার কাছে দলটা ভালো মনে হলেও প্রস্তুতির ঘাটতি আছে বলেই মনে হচ্ছে। আমেরিকার বিপক্ষে তিনটা টি-টোয়েন্টি আছে বিশ্বকাপের আগে। সেটাও যথেষ্ট নয়, আসলে বড় কোনো দলের বিপক্ষে একটা সিরিজ খেললে নিজেদের সামর্থ্য বাড়ত। তবে এখন আমরা ইতিবাচকই থাকি আর প্রত্যাশা করি বাংলাদেশ একটা দল হয়ে খেলবে। ভালো ক্রিকেট খেলবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত