মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

জটিল বিশ্বে শি-পুতিনের সরল অঙ্ক

আপডেট : ১৭ মে ২০২৪, ১২:২৬ এএম

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে গেছেন। পুতিন গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছান। পরে বেইজিংয়ের গণ-মহাভবনে প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠকে মিলিত হন তিনি। পঞ্চম মেয়াদে ছয় বছরের জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর পুতিন প্রথম বিদেশ সফরে চীনে গেলেন। সফরে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে ইউক্রেইন, এশিয়া, জ্বালানি ও বাণিজ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বড় বিষয়টি হচ্ছে, পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে টিকে থাকতে কী করতে হবে, সে ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক কোন মাত্রায় থাকবে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই সফরে। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সফরের মাধ্যমে শি-এর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ও মিত্র দেশ হিসেবে চীনের গুরুত্বের বিষয়ে বিশ্বকে একটি বার্তা দিলেন পুতিন। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্ব রাজনীতিতে যে মেরুকরণ শুরু হয়েছে তাতে শি ও পুতিনের এক থাকা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য শুধু বার্তা নয় সতর্ক বার্তা।

বিবিসি বলছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার চলা যুদ্ধ দুই বছরের বেশি সময় পার হয়েছে। এ সময়ে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হয়ে উঠেছে চীন। ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযান চালানোর নিন্দা জানাতে বেইজিং শুধু অস্বীকৃতিই জানায়নি; বরং পশ্চিমাদের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কও বজায় রেখেছে। অবশ্য নতুন দফায় শপথ নিয়ে পুতিনের প্রথম সফরেই চীনকে বেছে নেওয়ার মধ্যে বিস্ময়ের কিছু নেই। পুতিন ইতিমধ্যে বলেছেন, এক জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমাদের সম্পর্ক খুব সহজভাবে এখন দৃঢ় হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়ে পুতিন যত আস্ফালনই করুন না কেন, প্রেসিডেন্ট শির চিন্তিত হওয়ার কারণ রয়েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা ভাঙতে সহায়তা করার অভিযোগে মস্কোর সঙ্গে কাজ করা বেইজিং ও হংকংভিত্তিক ব্যাংক এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সবে নতুন দফা নিষেধাজ্ঞার কথা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কেননা রাশিয়ার কাছে চীন অস্ত্র বিক্রি না করলেও ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের ধারণা, ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য অপরিহার্য প্রযুক্তি ও উপকরণ মস্কোয় রপ্তানি করছে দেশটি। চীনের এমন অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের কাছে একটি রেডলাইন হয়ে উঠেছে।

তবে চীন বলেছে, ইউক্রেন বিষয়ে তার অবস্থান নিরপেক্ষ এবং যুদ্ধের বাইরে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করার জন্য প্রযুক্তি ও উপকরণের ওই রপ্তানি নিয়মকানুন ভাঙছে না।

গতকালও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, গ্রেট হলে উভয় নেতার বৈঠকে শি পুতিনকে বলেছেন, চীন রাশিয়া সম্পর্ক কেবল দু’দেশের মৌলিক স্বার্থে নয় বরং এই সম্পর্ক শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। বিশ্বে ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখতে রাশিয়ার সঙ্গে কাজ করতে চীন প্রস্তুত।

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর কয়দিন আগে পুতিন ও শি নিজেদের মধ্যকার সহযোগিতা আরও গভীর করতে সীমাহীন অংশীদারের কথা ঘোষণাও করেছিলেন। পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে তাদের আদর্শিক লড়াইয়ের একধরনের বার্তাই তুলে ধরেছিল এটি। বিশ্বব্যবস্থার মোড় ঘোরাতে বেইজিং এখনো মস্কোকে গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ হিসেবে বিবেচনা করে। স্বাভাবিকভাবেই তাদের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ছে। আবার রাশিয়ার সস্তা জ্বালানি চীনের জন্য সুবিধা এনে দিচ্ছে। পুতিনের এই সফর দুই দেশের মধ্যকার চলমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। 

আজ শুক্রবার চীনের ঐতিহাসিক শহর হারবিনে দুটি দ্বিপক্ষীয় ব্যবসায়িক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে পুতিনের। সেই সঙ্গে সেখানে একটি বরফ উৎসবেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। তাই পশ্চিমা বিশ্ব বা সংবাদমাধ্যমগুলো পুতিনের চীন সফর নিয়ে জটিল হিসাব কষতে থাকলেও তারা তাদের স্বার্থ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরল পথেই আগাবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত