মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মসজিদের খতিবকে মারধরের অভিযোগ

আপডেট : ১৭ মে ২০২৪, ১১:৫৬ পিএম

মৌলভীবাজারে এক মসজিদের খতিবকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ওই মসজিদের মুতাওয়াল্লি যুক্তরাজ্য প্রবাসী বকস মো. রাশেদ আহমদ সাদতের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পৌর শহরের বায়তুর রব আল-রব্বানী জামে মসজিদের খতিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান বকুল মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মসজিদের মুসল্লিরা মুতাওয়াল্লির অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে গত ১ এপ্রিল ওয়াকফ প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ ও মুসল্লিদের কাছ থেকে জানা যায়, গত ১৫ মে মসজিদ পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। পরবর্তীতে মুতাওয়াল্লি মুসল্লিদের সাথে পরামর্শ না করে নিজের বাসায় বসে বিভিন্ন এলাকার লোক নিয়ে কমিটি করেন। এ কমিটি মেনে নেননি মুসল্লিরা। এ নিয়ে মুসল্লি ও মোতাওয়াল্লিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। হঠাৎ বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের সময় মুতাওয়াল্লি খতিবকে মসজিদে আর না আসার কথা বলেন। পরবর্তীতে আসরের নামাজে মুতাওয়াল্লি নতুন ইমাম নিয়ে আসেন। খতিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান বকুলকে নামাজ পড়াতে দেননি। নতুন ইমাম দিয়ে মুতাওয়াল্লি আসরের নামাজ পড়েন। পরবর্তীতে মুতাওয়াল্লি খতিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান বকুলকে হুজরায় নিয়ে জিম্মি করে পদত্যাগপত্র ও আরেকটি কাগজে স্বাক্ষর নেন এবং তাকে মারধর করেন।

মসজিদের খতিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান বকুল বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর যাবত তিনি এ মসজিদে ইমামতি করাচ্ছেন। এ মসজিদের মুসল্লিদের সাথে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু মুতাওয়াল্লি কোনো অভিযোগ ছাড়াই তাকে মসজিদ থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করেন। তিনি আমাকে মারধর করেছেন এবং প্রাণে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক খালেদুর রহমান চৌধুরী বলেন, গত ১৫ মে আমাদের কমিটির মেয়াদ শেষে হয়। পরবর্তীতে কমিটি করার জন্য মোতাওয়াল্লি উনার বাসায় যেতে বলেন। কিন্তু আমি যাইনি। উনার চাঁদা কালেকশন ও হিসাবে অনেক অনিয়ম রয়েছে। মুসল্লিদের সাথে কোনো পরামর্শ না করে উনি বিভিন্ন জায়গার লোক নিয়ে পকেট কমিটি করেন। মসজিদের আয় ব্যয়ের ঠিক মতো হিসাবও দেননি। মসজিদের টাকা ব্যাংকে জমা রাখেননি। অনেকেই বলেন, মুতাওয়াল্লি যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মসজিদের নামে চাঁদা কালেকশন করে মসজিদের ফান্ডে জমা দেননি।

সদ্য বিদায়ী সভাপতি সাজ্জাদুর রহমান বলেন, মুতাওয়ালল্লি খতিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান বকুলকে বাদ দিয়ে নতুন ইমাম নিয়োগ দিলে মুসল্লিরা নতুন ইমামকে মেনে নেননি। এ নিয়ে কিছু ঝামেলা হয়।

মসজিদের নামে পার্শ্ববর্তী দোকান থেকে প্রতিদিন ২০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ইসলাম ও তরফদারের কাছ থেকে ২ শ টাকা তোলে বিদ্যুৎ বিলের সাথে দেওয়া হয়। এর বাহিরে কোনো চাঁদা আমি কালেকশন করিনি।

এ বিষয়ে জানতে মুতাওয়াল্লির ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মৌলভীবাজার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু নাঈম বলেন, মুতাওয়াল্লি ইমাম সাহেবকে বাদ দিয়ে নতুন ইমাম নিয়োগ দিলে স্থানীয় মুসল্লিরা এটা মেনে নেননি। এ নিয়ে ঝামেলা হয়। ইমামকে মারধরের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক কিল-ঘুষি মেরেছেন। মসজিদের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মুতাওয়াল্লির সাথে কথা বলতে চাইলে তাকে পাইনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত