সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আইপ্যাড প্যারাডক্স

আপডেট : ২২ মে ২০২৪, ১২:২৭ এএম

নতুন আইপ্যাড প্রো গত সপ্তাহে রিলিজ হলে তা নিয়ে সবার মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। নতুন কী নিয়ে এনেছেন তারা? কেনই বা অন্যান্য আইপ্যাড থেকে আইপ্যাড প্রো-এর মূল্য দ্বিগুণ? গত কয়েক বছর ধরে অ্যাপল তাদের ট্যাবলেট ডিজাইনে বেশ মনোযোগী ছিল। নতুন আই প্যাড প্রো ১১ এবং ১৩ ইঞ্চি ডিসপ্লের সঙ্গে ৩টি বিশেষ আপগ্রেড নিয়ে আসে।

প্রথমত চিপ

অ্যাপল তাদের নতুন গ৪ চিপ নির্দিষ্টভাবে অ্যাপল প্রোর জন্য তৈরি করে। কোম্পানির গ৪ চিপের উন্মোচন মোবাইল কম্পিউটিংয়ের বিবর্তনে একটি বড় মাইলফলক। পূর্ববর্তী গ২ চিপ থেকে গ৪ চিপ ৫০ভাগ বেঞ্চমার্ক পারফরম্যান্সে এগিয়ে। অ্যাপস এবং গেমস স২ চিপের তুলনায় আরও মসৃণভাবে চলে। ভিডিও এডিটিং, রেন্ডারিং-সহ যাবতীয় যত ধরনের পাওয়ার কনজিউমিং কাজ আছে ।  কোনো ইনপুট ল্যাগ ছাড়া চলে সক্ষমতার সঙ্গে। তাছাড়া একটানা কয়েক ঘণ্টা ব্যবহারের পরেও তেমন কোনো হিট জেনারেট করে না। যদিও অ্যাপলের কোনো আইপ্যাড কখনই দৈনন্দিন কাজে সমস্যা করেনি। তবে এত শক্তিশালী কম্পিউটার চিপ ট্যাবলেটে ব্যবহার করার একটাই কারণ, সৃজনশীলতা এবং উৎপাদনশীলতার দ্বারা সম্ভাবনার নতুন ক্ষেত্রগুলোকে উদঘাটন করা। অ্যাপল যেহেতু প্রযুক্তিগত অগ্রগতির দেয়াল ঠেলে চলেছে মোবাইল কম্পিউটিং-এর ভবিষ্যৎ আরও এগিয়ে যাবে শিগগিরই।

ট্যান্ডেম অলেড ডিসপ্লে

নতুন আইপ্যাড প্রো হাতে নিলে বা পুরাতন আইপ্যাডের সঙ্গে পাশাপাশি তুলনা করলেও প্রথমেই যে জিনিস নজরে পড়বে তা হচ্ছে তাদের ব্র্যান্ড নিউ ডিসপ্লে। নতুন ট্যান্ডেম ডিসপ্লে সাধারণত দুইটা অলেড ডিসপ্লের সংমিশ্রণে তৈরি যা তীক্ষè, বর্ণিল  এবং বেটার ডিসপ্লে কোয়ালিটি দেয়। তাছাড়া ডিসপ্লেতে কোনো ধরনের লাইট প্রতিফলিত হবে না। তবে সুর্যালোকে সম্পূর্ণ ব্রাইটনেস ছাড়া দেখতে অনেকের অসুবিধা হতে পারে যা রীতিমতো ব্যাটারি দ্রুত নিষ্কাশন করার কারণ। ডিসপ্লেতে আঁকাআঁকি এবং অন্যান্য কাজের জন্য অ্যাপল পেন্সিল প্রো আছে। অ্যাপলের ভাষ্যমতে, তাদের নতুন স্ক্রিনে পেপার-পেন্সিলের মতো অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে। যদিও ইউটিউবার ডেইভ তার রিভিউয়ে বলেন, ‘অন্যান্য আইপ্যাড থেকে এখানে পেন্সিল প্রোর অভিজ্ঞতা মসৃণ হলেও ট্যাবলেট স্ক্রিনে পেপার-পেন্সিলের ফিল পাওয়া আদৌ সম্ভব হবে বলে আমার মনে হয় না।’

ক্যামেরা

আই প্যাড প্রো যদি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য কোনো কিছু করে থাকে সেটা হচ্ছে ফ্রন্ট ক্যামেরা সঠিক স্থানে বসানো। বেশিরভাগ ব্যবহারকারী কল কিংবা ভিডিও ধারণ করার সময় আইপ্যাড ক্যামেরা ল্যান্ডস্কেপে ব্যবহার করার চেষ্টা করত। যা সর্বাধিক পরিমাণ স্ক্রিন স্পেস দেয়, কিন্তু অ্যাপল সবসময় আইপ্যাডের সামনের ক্যামেরাটিকে আইপ্যাডের স্ক্রিনের শীর্ষে রেখেছে। ট্যাবলেটে সেলফি ক্যামেরা এমন জায়গায় থাকলে ল্যান্ডস্কেপ মোডে ফ্রন্ট ক্যামেরা ব্যবহার করা বেশ অস্বস্তিকর। তবে ১২ মেগা পিক্সেল তীক্ষè ক্যামেরার পারফরম্যান্স তাদের আগের মডেলগুলোর চেয়ে ভালো।

পরিশেষ

অ্যাপল পেন্সিল প্রো এবং ম্যাজিক কিবোর্ড ছাড়া আইপ্যাডে প্রো ১৩ ইঞ্চির দাম শুরু হয় ১২৯৯ মার্কিন ডলার থেকে। যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার। থাকছে ৮জিবি র‌্যাম, ২৫৬ জিবি স্টোরেজ থেকে ২ টেরাবাইট স্টোরেজ পর্যন্ত। টেক বিশেষজ্ঞদের মতে যারা দৈনন্দিন কাজের জন্য আইপ্যাড প্রো ব্যবহার করবেন তাদের জন্য কিবোর্ড এবং পেন্সিল-সহ ২৫৭৭ মার্কিন ডলারের আইপ্যাড প্রো নিতান্তই ওভারকিল ডিভাইস। কারণ এই দামে আপনি পাওয়ারফুল ম্যাকবুক পেয়ে যাবেন। স্টিভ জবস একবার বলেছিলেন, ‘নেতারা শেখায়।’ তবে আইপ্যাডের ক্ষেত্রে অ্যাপল কিছু শেখায়নি। আইপ্যাড যত ব্যবহার করবেন ততই মনে হবে আপনি আইফোনের কোনো ভার্সন বড় ডিসপ্লের সঙ্গে ব্যবহার করছেন। তবে আইপ্যাড প্রো অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে যদি ব্যবহারকারীরা এটি সৃজনশীলতার সঙ্গে কাজে লাগান। অ্যাপল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই বছর মোবাইল কম্পিউটিং-এর জন্য দুর্দান্ত টার্নিং পয়েন্ট। সম্ভবত এটি সর্বকালের সেরা আইপ্যাডহবে। তবে শেষ সংস্করণের তুলনায় এই আপগ্রেড খুব বেশি ব্যয়বহুল। আইপ্যাড এয়ার বেশিরভাগ বৈশিষ্ট্যের থেকে অনেক কমে অফার করে। এই দামে অনেকে হয়তো ম্যাকবুক কিংবা উইন্ডোজ পছন্দ করবেন, কারণ যারা প্রফেশনাল কাজে আইপ্যাড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করবেন তাদের হয়তো কিছু ওয়ার্কফ্লো কেস থাকবে যার পরিপূরক একমাত্র কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত