শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আমরা চেষ্টা করব তাকে যেন হাত পাততে না হয়

আপডেট : ২২ মে ২০২৪, ০৭:০৭ এএম

জিয়াউল হক পলাশ অভিনেতা হিসেবেই পরিচিত। এর বাইরে তিনি নাটক ও বিজ্ঞাপনও নির্মাণ করেন। সম্প্রতি তার বানানো নাটক আলোচনায় এসেছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কিছু কাজও করেন। এটা করতে গিয়ে ‘ডাকবাক্স’ নামে একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছেন। অভিনয়, নির্মাণ ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে পলাশের মুখোমুখি হয়েছেন মাহতাব হোসেন

সর্বশেষ আপনার বানানো নাটক সন্ধ্যা ৭টা নিয়ে প্রতিক্রিয়া কেমন পাচ্ছেন?

সন্ধ্যা ৭টা আমার ৬ নম্বর কাজ। এটা আমার বাকি কাজটার চেয়ে তুলনামূলক অনেক বেশি প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। এটা ঈদের কাজ হলেও এখনো এটা মানুষ দেখছে। এটা নিয়ে কথা বলছে। আমার ভীষণ ভালো লাগছে। এটার জন্য আমি প্রথম ধন্যবাদ দেব দর্শকদের। এরপর ধন্যবাদ দেব কাজল আরেফিন অমি ভাই ও ক্লাব ইলেভেন আকবর হায়দার মুন্না ভাইকে।

কেন এটা দর্শক গ্রহণ করেছে?

আসলে মানুষ এটার সঙ্গে নিজের নস্টালজিক লাইফকে রিলেট করেছে। একটা সময় দেখবেন মফস্বল শহর কিংবা গ্রামগুলোতে নিয়ম করে ইলেকট্রিসিটি চলে যেত। সেই সময়টায় মানুষ নিজেদের মতো করে রুটিন করে ব্যয় করত। এই নাটকে ওই সময়টার ছোট ছোট গল্প উঠে এসেছে। অনেকেই নাটকের শেষটা মেনে নিতে পারেনি। অনেকে কাকতালের গান শুনে অভিভূত হয়েছে, অনেকে পলাশের পরিচালনায় অভিভূত হয়েছে। এসব কারণেই মূলত নাটকটি দর্শক নিয়েছে।

আপনি তো অভিনয় করতে পারতেন?

অনেকেই বলছে যে পলাশ ভাই থাকলে ভালো হতো, অনেকেই এ বিষয়ে আমাকে জানিয়েছে। কিন্তু এখানে আমি নির্মাতা পলাশই থাকতে চেয়েছি। যখন আমি এমন  কোনো গল্প নির্মাণ করব, যেখানে মানে হবে চরিত্রটা পলাশের করা দরকার, সেটাই শুধু আমি করব।

আপনার একটা সামাজিক সহায়তামূলক কার্যক্রম আছে...

হ্যাঁ, ডাকবাক্স। এটা নিয়ে আমার পরিকল্পনা একেবারে ভিন্ন রকম, আমি সব সময়ই চাই ফাউন্ডেশনগুলো যেভাবে চলে ফান্ডিং করে, কিছু মানুষকে খাওয়ানো, কাপড়চোপড় দেওয়া এটা আসলে খণ্ডকালীন প্রক্রিয়া। এটা দিয়ে কিন্তু আপনি অনেকদূর পর্যন্ত ইমপ্যাক্ট ফেলতে পারবেন না। আমরা মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা উন্নয়ন করতে চাই, কার সহায়তা দরকার। আমরা তাকে এমনভাবে সহায়তা করব, যেন কখনো আর তাকে হাত পাততে না হয়। তাকে এমন কর্মসংস্থান করে দিতে চাই, যেন সে নিজেই আয় রোজগার করতে পারে।

সেটা কীভাবে?

ধরেন এখন ডিজিটাল মার্কেটিং করে আয় করে যারা। আমরা এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোলাবরেশন করব। ডাকবাক্সের মাধ্যমে ৫০-৬০ জনকে আমরা চূড়ান্ত করব। তারা প্রশিক্ষণ নেবে এরপর নিজেরাই ডিজিটাল মার্কেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে। আমরা ফ্রিল্যান্সিং কোর্স করাব। এ ছাড়া অর্থ চাই না, কিন্তু যে প্রতিষ্ঠানগুলো সিএসআর প্রকল্পের কাজ করতে চায়, আমরা সেটা করে দেব। ধরেন কোনো প্রতিষ্ঠান এক হাজার তালগাছ লাগাতে চায়, কিন্তু তাদের সময় নেই। আমরা সেটা করে দেব। 

সামনে কোনো উদ্যোগ আছে?

হ্যাঁ, রয়েছে। আমরা দেশের প্রথমে কিছু জেলায় একটা কার্যক্রম চালাব। যারা শুধু স্মার্টফোন স্পর্শ করতে শুরু করেছে, এমন শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটা সেমিনার করব। আমরা সেখানেই বোঝাব স্মার্টফোন যেন কখনোই নেতিবাচক কাজে ব্যবহৃত না হয়। সেই সেমিনারে একজন ওই এলাকার আদর্শ মানুষ থাকবেন, থাকবেন সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত