শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

যুদ্ধ এড়াতে চায় ঈগলও

আপডেট : ২২ মে ২০২৪, ০৬:২১ এএম

ইউক্রেনের সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখতে বড় চিত্রা ঈগল তাদের ওড়ানোর পথ পরিবর্তন করছে। জিপিএস ডেটা অনুসারে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইউক্রেন হয়ে যাওয়া পরিযায়ী এই পাখি তাদের নিয়মিত পথের পরিবর্তে বেছে নিয়েছে বিকল্প দীর্ঘ পথ। এজন্য যাত্রাপথের বিশ্রাম বিরতিও সংক্ষিপ্ত করতে হয়েছে তাদের। গতিপথ পরিবর্তন করায় আরও বেশি শক্তি ব্যবহার এবং তাদের প্রজনন স্থলে পৌঁছাতে আরও বেশি সময় লেগেছে। সম্প্রতি কারেন্ট বায়োলজি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে উঠে এসেছে ঈগলের সংঘাত এড়িয়ে যাওয়ার এই তথ্য।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে বলেছে, গবেষকরা দেখেছেন সংঘাতের আগে, যেখানে গড়ে ৯০ শতাংশ ঈগল যাত্রাপথে ইউক্রেনে বিশ্রাম নিত, সংঘাত শুরু হওয়ার পর সে সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৩২ শতাংশে। বেশিরভাগ ঈগলই ওই অঞ্চল সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে গেছে।

গবেষকরা এই পথগুলোকে ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ২০টি পরিযায়ী পাখির রেকর্ড করা ৬৫টি পথের সঙ্গে তুলনা করেছেন। অনুসন্ধান থেকে দেখা গেছে, আক্রমণের পরে, ঈগলগুলো গড়ে অতিরিক্ত ৫৩ মাইল (৮৫ কিলোমিটার) ভ্রমণ করেছে। একটি ঈগল তার যাত্রাপথে অতিরিক্ত ১৫৫ মাইল ভ্রমণ করেছে। সব মিলিয়ে ঈগলদের গড়ে ৫৫ ঘণ্টা বেশি যাত্রা সময় লেগেছে।

গবেষক দলের সদস্য ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়ার চার্লি রাসেল বলেন, ব্যাপারটা যেন কোনো পানির বিরতি ছাড়াই ম্যারাথন শেষে অতিরিক্ত সাত বা আট মাইল দৌড়ানোর মতো!

কারেন্ট বায়োলজি জার্নালে লেখা নিবন্ধে রাসেল ও তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন, ২০২২ সালের মার্চ ও এপ্রিলে ইউক্রেনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ বেলারুশের প্রজনন স্থলে যাওয়ার সময় ১৯টি বড় চিত্রা ঈগলের মাইগ্রেশন রুট বা স্থানান্তরের পথ বিশ্লেষণ করেছেন তারা। এদের মধ্যে স্ত্রী ঈগল গ্রিস থেকে এবং পুরুষ ঈগল পূর্ব আফ্রিকা থেকে ভ্রমণ করত। এর মধ্যে যেসব জায়গায় সামরিক তৎপরতা বেশি ছিল, সেসব জায়গাই সব থেকে বেশি এড়িয়ে গেছে তারা।

গবেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে এরূপ পরিস্থিতি ঈগলের প্রজননকে বিলম্বিত করতে পারে, কারণ ঈগলের প্রজননের জন্য তৈরি হতে অন্যান্য পাখি থেকে বেশি সময় লাগে। এ ছাড়া ঈগলের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হলে পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে তাদের বেঁচে থাকাও কঠিন করে তুলতে পারে।

রাসেল বলেন, সম্ভাব্য প্রজননে থাকা ঈগলদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাবটা এ গবেষণায় উল্লিখিত ফলাফল থেকেও বেশি হবে।

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা খুব বেশি কিছু করতে না পারলেও ঈগলদের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করতে হবে। ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর শুধু চিত্রা ঈগলের প্রজনন বৃদ্ধি নয় বরং তাদের পুরো বাস্তুতন্ত্রকে সংরক্ষণ করতে এগিয়ে আসতে হবে আমাদের।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত