মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ইন্দোনেশিয়ান নারীর ২২ হজের গল্প

আপডেট : ২৪ মে ২০২৪, ১২:৩২ এএম

মরিয়ম মুহাম্মদ মুনির একজন ইন্দোনেশিয়ান বয়োজ্যেষ্ঠ মহিলা। তার বয়স ৬৬ বছর। ১৯৬৪ সালে মাত্র ৬ বছর বয়সে তার পরিবারের সঙ্গে হজ পালনের জন্য প্রথমবারের মতো সৌদি আরব ভ্রমণ করেন। এরপর থেকে তিনি আরও ২২ বার সৌদি আরবে এসেছেন ওমরাহ ও হজ পালন করতে। সুরাবায়া বিমানবন্দরের মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ মিলনায়তনে ওমরাহ ও হজের জন্য ২২ বার সৌদি আরব ভ্রমণের অভিজ্ঞতা, প্রাপ্তি ও তৃপ্তি সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করেন মরিয়ম। স্মৃতিচারণের সময় তিনি আবেগ তাড়িত হয়ে যান। মরিয়ম বলেন, ৬০ বছর আগে তিনি প্রথম হজ করতে আসেন পরিবারের সঙ্গে। তখন হজের সফর ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং অনেক সময়সাপেক্ষ। সমুদ্রপথে জাহাজে করে সৌদি যেতে হতো। সময় লাগত প্রায় আট থেকে নয় মাস। জাহাজ জাকার্তা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করত। অতঃপর ভারত সাগর, আরব সাগর ও লোহিত সাগর হয়ে জেদ্দা বন্দরে পৌঁছত।

তিনি বলেন, সমুদ্রপথে জাহাজে ভ্রমণ করা খুবই কষ্টসাধ্য বিষয় ছিল। যেকোনো সময় যেকোনো বিপদ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমন ভ্রমণে সব সময় ভয় কাজ করে। যাই হোক, ধর্মের ফরজ বিধান আদায় করতে গিয়ে দীর্ঘ যাত্রায় পথের মধ্যে পরিবারের সবার যে কষ্ট হয়েছিল সেটার বিনিময়ে মহান আল্লাহ অনেক কল্যাণ দান করেছেন।

অতীতে হজকে ঘিরে ইন্দোনেশিয়ানদের ঐতিহ্য সম্পর্কেও কথা বলেছেন মরিয়ম। তিনি বলেন, সমুদ্রপথে হজযাত্রার সময়ে সবাই জাকার্তা শহরে একত্র হতো। জাহাজে ওঠার আগে পরিবারের সদস্যরা চোখের পানি ফেলে বিদায় জানাত। হজ পালন শেষে দেশে ফেরার পর হাজিদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং বিশেষ ইবাদত সম্পন্ন করার উপলক্ষে বিভিন্ন উপহার দিয়ে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হতো।

তিনি বলেন, বর্তমান অগ্রগতি এবং উন্নয়নের ফলে মক্কা ভ্রমণ অনেক সহজ হয়ে উঠেছে। এতে পবিত্র নগরীতে ভ্রমণকারীদের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। সূত্র : এসপিএ

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত