বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ভূমি সেবায় নাজেহাল মানুষ

আপডেট : ২৪ মে ২০২৪, ০৬:৫১ এএম

জামালপুর জেলায় ভূমি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘ সময় ধরে চলছে চরম অব্যবস্থাপনা ও অরাজকতা। যার ফলে এই জেলার সাধারণ মানুষের ভূমি সেবাগ্রহণ সংক্রান্ত কার্যক্রম বিতর্কের মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ একই স্থানে কাজের সুবাদে বেশিরভাগ নায়েব, সার্ভেয়ার ও সহকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে দুর্নীতির প্রবণতা। একই পদে তিন বছরের বেশি সময় না থাকার বিষয়ে সরকারি বাধ্যবাধকতা থাকলেও জামালপুর জেলায় ভূমি প্রশাসনে এটা অনুসরণ করা হচ্ছে না। তদবির আর টাকায় বদলি নিয়ন্ত্রণ হয় জামালপুর ভূমি ব্যবস্থায়।

আশ্চর্যের বিষয় এই বদলি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রিত হয় সিএ নাজিরদের মাধ্যমে। কারও বদলির ইঙ্গিত পেলে মুহূর্তের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিএ এবং শাখার নাজির থেকে সে খবর গোপনে পৌঁছে যায় বদলির আদেশের অপেক্ষমাণ কর্মচারীর কাছে। নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার লেনদেন হলে নায়েব, সার্ভেয়ার, সহকারীদের বদলি তাদের ইচ্ছানুসারে পরিবর্তন হয়ে যায়। কখনো কখনো বদলি স্থগিত হয়ে যায়। এর সুবাদে জামালপুর জেলা প্রশাসনের নায়েব, সার্ভেয়ার, সহকারীরা কোথাও বদলি না হয়ে বছরের পর বছর ধরে একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন। 

এ জেলার সাতটি উপজেলায় বেশিরভাগ তহশিল অফিসে অনিয়ম নৈরাজ্যের পরেও তদবির ও টাকার বাণিজ্যে সার্ভেয়ার ও নায়েবরা একই কর্মস্থলে নিজেদের দৌরাত্ম্য তৈরি করে সাধারণ মানুষদের জিম্মি করে রেখেছেন। সরিষাবাড়ি, দেওয়ানগঞ্জ, মেলান্দহ, সদর উপজেলাসহ অন্য সব উপজেলায় একই চিত্র। বাড়তি টাকা ছাড়া মেলে না নায়েবদের প্রতিবেদন। 

সরিষাবাড়ি, মেলান্দহ, দেওয়ানগঞ্জসহ অন্যান্য উপজেলা ভূমি অফিসগুলোতে কর্মকর্তাদের সামনেই সার্ভেয়ার, সহকারীরা সরকারি ফি থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে মানুষকে জিম্মি করেন। সাধারণ মানুষ অসহায়। ভূমি সেবা আইন সম্পর্কে তাদের জানার অভাব থাকায় এর সুবিধা নেন সার্ভেয়ার, নায়েবরা।

কিছু উপজেলা ভূমি অফিসে সহকারীরা এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর স্ক্যান ও জাল করে মিস মোকদ্দমার রায় নিজেরাই সরবরাহ করেছেন বলে পত্রিকায় এর আগে খবর এসেছে। বিষয়টি এখন তদন্ত পর্যায়ে আছে। নায়েব মুসা, আনসার তহশিলদার, মামুন তহশিলদার, শহীদুল্লাহসহ, ইসলামপুরের কিছু ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ক্ষমতার দাপটে বহু বছর ধরে এক কর্মস্থলে চাকরি করে আসছেন। অথচ এরা হাটবাজারের সরকারি কর আদায় না করেই পার পেয়ে গেছেন।

অন্যদিকে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সার্ভেয়ারদের বদলি বাণিজ্য ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সার্ভেয়ার জাহাঙ্গীর স্থানীয় এক প্রভাবশালী সাংসদের নাম ভাঙিয়ে প্রথমে আট বছর এবং বর্তমানে ৪ বছর, মোট ১২ বছর ধরে এলএ শাখায় কর্মরত। জাহাঙ্গীর আলম এলএ শাখায় তার চাকরি জীবনের সিংহভাগ সময় পার করছেন। জনৈক আওয়ামী লীগ নেতার নাম ব্যবহার করে তিনি তার বদলি বারবার স্থগিত করেছেন। তার ভাষ্যমতে, অফিসাররা এখানে স্থায়ী নন। তারাই এখানে থাকবেন। তার স্ত্রী সার্ভেয়ার লিপি একই কার্যালয়ের এসএ শাখায় কর্মরত। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ক্ষতিপূরণ প্রত্যাশিত চেকে লাখে পাঁচ হাজার ছাড়া কাজ করেন না। খাসজমিকে ব্যক্তির স্বত্ব দেখিয়ে টাকা উত্তোলনে তার জুড়ি নেই। রাজস্ব সিএ পারভেজ ও নাজিরের সিন্ডিকেট ও বদলি বাণিজ্যে দিশেহারা অবস্থা ভূমি ব্যবস্থাপনায়। তাদের দৌরাত্ম্যে বিভীষিকাময় হয়ে উঠেছে জামালপুরের সাধারণ ভূমি সেবাগ্রহীতাদের জীবন।

এলএ শাখায় আপনি তো অনেক দিন এ প্রশ্নে সার্ভেয়ার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাকে ডিসি স্যার রেখেছেন, তাই আছি। আমাকে কাল বদলি করে দিলে আমি কালই চলে যাব।’ 

জামালপুরের জেলা প্রশাসক শফিউর রহমানকে এ ব্যাপারে কল দেওয়া হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ প্রসঙ্গে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার উম্মে সালমা তানজিয়া মুঠোফোনে বলেন, ‘এর মধ্যে অনেক রদবদল করা হয়েছে। এ বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত