মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আ.লীগে বিভক্তির সুযোগ নিতে চান বিএনপি নেতা

আপডেট : ২৪ মে ২০২৪, ০৬:৫২ এএম

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে তালতলী উপজেলায় আগামী ৫ জুন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর পাশাপাশি বিএনপির বহিষ্কৃত এক নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মূল লড়াইটা আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের বিভক্তির সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন বিএনপি নেতা।

চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান রেজবি উল কবির। তিনি ঘোড়া প্রতীকে লড়ছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মিন্টু লড়ছেন আনারস প্রতীকে। এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সদস্য সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান লড়ছেন মোটরসাইকেল প্রতীকে। আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর সঙ্গে এই বহিষ্কৃত বিএনপি প্রার্থীর লড়াই হওয়ার কথা থাকলেও তিনি ভোটের মাঠে তেমন সুবিধা করতে পারেননি। প্রতীক পাওয়ার আগে জনসংযোগেও ছিলেন না। তবে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের ভেতরে কোন্দলের সুযোগের অপেক্ষায় তিনি।

আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা বলছেন, এ উপজেলায় আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট দুই নেতা চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। এতে দলের ভোট ভাগাভাগি হবে। এ সুযোগ যদি কাজে লাগাতে পারে তাহলে শেষ পর্যন্ত সদ্য সাবেক বিএনপি নেতার সঙ্গেই লড়াই করতে হবে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে। এদিকে ভোট বর্জনে উপজেলা বিএনপি নেতারা লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন প্রচারণা চালাচ্ছেন। এজন্য বিএনপির লোকজন ভোটকেন্দ্রে না গেলে বিএনপি নেতা তেমন সুবিধা করতে পারবেন না।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মিন্টু গত পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। সেই সময় নৌকা নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন বর্তমান চেয়ারম্যান রেজবি উল কবির। সাধারণ ভোটাররা বলছেন, সাবেক ও বর্তমান দুজনের সুনাম-বদনাম দুটিই আছে। দুজনের আমলেই এ উপজেলায় তেমন উন্নয়ন হয়নি। তাই সহজেই দলের কেউ পার পেতে পারবেন না। এ সুযোগে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি নেতা উঠে এলে চমক হবে তালতলীবাসীর জন্য।

তালতলী শহরের ভোটার মনির বলেন, ‘মানুষের ভোট নিয়ে আগ্রহ কম। তারপরেও আমরা চাই ভোট নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হোক। লড়াইটা হওয়া উচিত ছিল মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থীর সঙ্গে। কিন্তু তিনি প্রতীক পাওয়ার আগে মাঠে তেমন ছিলেন না। এজন্য এখন লড়াই হতে পারে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ।’

মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি ভাইস চেয়ারম্যান থাকাবস্থায় কোনো মানুষের উপকার করতে না পারলেও ক্ষতি করিনি। চেষ্টা করেছি সাধারণ মানুষের পাশে থাকার। অন্য দুই প্রার্থীর অনেক টাকা আছে। আমার তেমন টাকা নেই। তাই জনগণ আমাকে ভালোবেসেই ভোট দেবে।’

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আনারস প্রতীকের প্রার্থী মনিরুজ্জামান মিন্টু বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যান থাকাকালে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তাই ভোটাররা সবকিছু বিবেচনায় রেখে আমাকে ভোট দেবেন।’

বর্তমান চেয়ারম্যান ও ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী রেজবি উল কবির জোমাদ্দার বলেন, ‘আমি এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। সাধারণ জনগণ এবার আমার পক্ষে কাজ করছে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত