মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সারমেয় সমাচার

আপডেট : ২৫ মে ২০২৪, ১২:৪৫ এএম

গিল্ডা সুসান রাডনার ছিলেন একজন আমেরিকান অভিনেত্রী এবং কমেডিয়ান। বলেছিলেন ‘আমি মনে করি, কুকুর সবচেয়ে আশ্চর্যজনক প্রাণী। তারা নিঃশর্ত ভালোবাসা দেয়। আমার জন্য, তারা জীবিত থাকার আদর্শ।’ অনেকের কাছেই কুকুর আদর্শ এবং বিশ্বস্ত বন্ধু। কেউ কেউ কুকুর পোষেন প্রয়োজনে। হোক সেটা নিরাপত্তা কিংবা ভালোবাসা। আবার এই প্রাণীটি নিকৃষ্ট খাবারই শুধু খায় না, সম্ভবত প্রাণিকুলের মধ্যে এটাই একমাত্র প্রাণী যে তার সন্তানকে কখনো কখনো ভক্ষণ করে! সাধারণত মা কুকুর তার সন্তানের মাংস খায় না। কিন্তু এ রকম আচরণ কখন করে? যখন সে শারীরিক অথবা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে। যদিও ভক্ষণ মুহূর্তে মা এবং বাবা কুকুরের মধ্যে প্রচন্ড লড়াই হয়। যে কারণে অনেকেই কুকুরের সন্তানকে ‘আদর্শ’ বিবেচনা করে, অন্য মানুষের ওপর নিজের ক্ষোভ উগরে দেন। উত্তেজিত হলে সেই শব্দ ব্যবহার করেন। কিন্তু তারা কি জানেন, কুকুরের রয়েছে বিশাল কিছু ক্ষমতা! Collective conscious mind  এমন একটি পর্যায়, যা কোনো ব্যক্তিকে অন্য ব্যক্তির মনের কথা বুঝতে সাহায্য করে। কিন্তু এই ক্ষমতা কুকুরের রয়েছে। এ কারণেই কুকুর মানুষের গায়ের গন্ধ, চোখের ভঙ্গি দেখে সহজেই তাদের মনের ভাব ও ব্যক্তিটি কেমন, তা আন্দাজ করতে পারে। এমনকি ভবিষ্যৎও আন্দাজ করে নিতে পারে বলে তারা কোনো কোনো মানুষকে দেখে ঘেউ ঘেউ করে! আর নিরাপত্তা প্রদান ও অপরাধ অনুসন্ধানে কুকুরের ব্যবহার আমরা জানি। যদিও সেগুলো বিশেষ প্রজাতির এবং ট্রেনিংপ্রাপ্ত।

তবে আমাদের দেশে কুকুর এক উপদ্রবের নাম। যদিও কেউ কেউ কুকুর পোষেন। তবে রাস্তার কুকুর, যাদের বলি বেওয়ারিশ, তারা যেন ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। কেন হয়েছে? এর কারণ জানা যাচ্ছে দেশ রূপান্তরে শুক্রবার প্রকাশিত ‘হঠাৎ কেন কুকুর ভয়ংকর’ প্রতিবেদনের মাধ্যমে। কুকুর কেন ভয়ংকর হয়, কখন হয় সে বিষয়ে পশুচিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা ভালো বলতে পারবেন। তবে কুকুর যেন মানুষের নিরাপত্তাহীনতার কারণ না হয়, তা নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব কার? হঠাৎ এই প্রাণীটি মানুষকে কেন কামড়ানো শুরু করেছে? আগে কুকুরকে ‘বন্ধ্যা’ করা হতো। তখন জন্মহার থাকত নিয়ন্ত্রণে এবং কামড়াত না। এখন সেই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেছে। ঢাকা শহরের দুই সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এসব উপদ্রবের হাত থেকে নাগরিকদের নিরাপদ রাখা। কিন্তু তা না হওয়ার ফলে কুকুরের অত্যাচার বেড়েছে। ২০২০ সালে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন রাজধানী থেকে হাজার হাজার কুকুর সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এ ঘোষণাও থেমে যায় এক রিট আবেদনে। একদিকে কুকুর নিধনে নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থাগুলো যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় রাজধানীতে বেড়েছে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব। এতে কেউ কেউ প্রাণ হারাচ্ছেন। নগর-পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘বেওয়ারিশ কুকুর শিশু ও নারীদের জন্য ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আবার যেকোনো মানুষের জন্যও কুকুর নানা সমস্যা তৈরি করছে। উন্নত বিশ্বে রাস্তাঘাটে যেখানে-সেখানে বেওয়ারিশ কুকুর দেখা যায় না। কুকুর নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সারা বিশ্বেই বেওয়ারিশ কুকুরের বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে বন্ধ্যত্বকরণ কার্যক্রম চালানো হয়। আমাদের দুই সিটি করপোরেশন এমন উদ্যোগ একাধিকবার নিলেও আর্থিক ও জনবল সংকটের কারণে তা সফল হয়নি।’ মানুষের মতো কুকুরও রেগে যায়। ঘেউ ঘেউ করে, তাড়া করে। এই কুকুরকেই সামান্য একটু খাবার দিলে, একটু আদর করলে, জীবন জুড়ে বিশ্বস্ত থাকে যা মানুষ থাকে না।

কুকুর আক্রমণ করলে ভয় পাবেন না। থেমে যান, ধীরে হাঁটুন। হাতের আঙুল মুষ্টিবদ্ধ রাখুন। সরাসরি তাকাবেন না, মনোযোগ ঘুরিয়ে দিন। দেখবেন কুকুর আপনাকে কিছুই বলবে না। অসুস্থ কুকুরের কথা আলাদা। মনে রাখা দরকার, কুকুর মানুষের বিশ্বস্ত। কখনো উপকারীর অপকার করে না। কুকুর যাতে ভয়ংকর না হয়, সে ব্যাপারে গবেষণার প্রয়োজন নেই। শুধু দরকার সরকারের আন্তরিকতা। আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা সিটি করপোরেশন? তাদের সম্পর্কে নাই-ই বলি, বালাইষাট! তবে সারমেয় বা কুকুররা ভালো থাকুক, নিয়ন্ত্রণে থাকুক ভয়ংকর না হোক।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত