মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

প্রি-এক্লাম্পসিয়ায় কারা বেশি আক্রান্ত হয়

আপডেট : ২৫ মে ২০২৪, ১২:৫৭ এএম

প্রথমবার গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রেই সাধারণত প্রি-এক্লাম্পসিয়া বেশি হয়ে থাকে। আগের প্রেগনেন্সিতে যাদের প্রি-এক্লাম্পসিয়া হয়েছিল তাদের ২৫ ভাগ ক্ষেত্রে পুনরায় প্রি-এক্লাম্পসিয়া হতে পারে। যে মায়েরা উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি সমস্যা কিংবা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে প্রি-এক্লাম্পসিয়া হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। এ ছাড়াও একের অধিক গর্ভধারণ, পলিহাইড্রামনিওন্স প্রি-এক্লাম্পসিয়ার কারণ হতে পারে। প্রি-এক্লাম্পসিয়া দুই ধরনের হয়। যেমন : গর্ভবতী মায়ের মাইল্ড ও সিভিয়ার প্রি-এক্লাম্পসিয়া ও মাইল্ড বা মৃদু প্রি-এক্লাম্পসিয়া। এ ক্ষেত্রে রক্তচাপ ১৪০/৯০ মি. মারকারির বেশি থাকে কিন্তু ১৬০/১১০ মি. মারকারির কম থাকে।

সিভিয়ার প্রি-এক্লাম্পসিয়ার লক্ষণ :  সিভিয়ার বা মারাত্মক প্রি-এক্লাম্পসিয়া : এ ক্ষেত্রে রক্তচাপ ১৬০/১১০ মি. মারকারির বেশি থাকে। এই সঙ্গে অন্যান্য কিছু উপসর্গ থাকে যেমন মাথাব্যথা, চোখ জ্বালা পোড়া, চোখে ঝাপসা দেখা, পেটে ব্যথা, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, পুরো শরীরে পানি আসা ইত্যাদি।

গর্ভবতী মায়ের প্রি-এক্লাম্পসিয়া হলে : গর্ভাবস্থায় মায়ের প্রি-এক্লাম্পসিয়া থাকলে এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ প্রেগনেন্সি। প্রি-এক্লাম্পসিয়া মারাত্মক পর্যায়ে গেলে এক্লাম্পসিয়া বা খিঁচুনি হয়, যা মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর একটি বড় কারণ। কম ওজনের শিশু জন্মদান, সময়ের আগে ডেলিভারি হওয়া, মাতৃগর্ভে শিশুমৃত্যু, অ্যান্টি পারটাম হেমোরেজ ইত্যাদি সমস্যাগুলো প্রি-এক্লাম্পসিয়া আক্রান্ত মায়েদের ক্ষেত্রে সচরাচর ঘটে থাকে। সঠিক সময়ে এ রোগের চিকিৎসা না হলে এর জটিলতা থেকে কিডনি ফেইলর, লিভার ফেইলর কিংবা ব্রেন হিমোরেজও হতে পারে। কিছু কিছু রোগীর শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে রক্তক্ষরণ, লিভার ফেইলিওরসহ অন্যান্য জটিলতা হয়, যাকে এক কথায় HEELP  syndrom  বলে।

চিকিৎসা : গর্ভবতী মায়ের প্রি-এক্লাম্পসিয়া হলে সচেতন হতে হবে। সিম্পটমস  প্রি-এক্লাম্পসিয়া বোঝা গেলেই ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। মাইল্ড বা মৃদু প্রি-এক্লাম্পসিয়ার ক্ষেত্রে রোগীকে বাসায় রাখা যেতে পারে কিন্তু সিভিয়ার বা মারাত্মক প্রি-এক্লাম্পসিয়ার ক্ষেত্রে রোগীকে বাসায় রাখার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে মা ও শিশুর নিয়মিত ও সঠিক পরিচর্যা করতে হবে।

প্রতিকার : গর্ভবতীর প্রি-এক্লাম্পসিয়া প্রতিরোধে ক্যালসিয়াম টেবলেট সেবন করতে হবে। যেহেতু প্রি-এক্লাম্পসিয়া হওয়ার সঠিক কারণ জানা যায়নি, তাই এর প্রতিরোধেরও নির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা নেই। যারা প্রি-এক্লাম্পসিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন তাদের ক্ষেত্রে অ্যাসপিরিন, ক্যালসিয়াম, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট জাতীয় ওষুধ প্রতিরোধক হিসেবে দেওয়া যায়। এ ছাড়া  সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত ডাক্তারের চেক আপের মাধ্যমে প্রি-এক্লাম্পসিয়া প্রতিরোধ এবং এর জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত