শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কোটি টাকায় কসাই ভাড়া

আপডেট : ২৫ মে ২০২৪, ০১:৪৩ এএম

ঝিনাইদহ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনারকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং এরপর লাশ গুম করার তথ্য জানা যাচ্ছে, তা সিনেমার নৃশংসতাকেও হার মানিয়েছে। হত্যাকান্ডের পর আনারের মরদেহ থেকে হাড় ও মাংস আলাদা করে টুকরো টুকরো করে গুম করার ভয়াবহ বর্ণনা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া কসাই জিহাদ হাওলাদার। তিনিসহ দুজনকে মুম্বাই থেকে ভাড়া করা হয়েছিল ১ কোটি টাকায় (ভারতীয় এক কোটি রুপি)। কলকাতার সিআইডি ও বাংলাদেশের পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রগুলো জানায়, এমপি আনার খুনের পরিকল্পনাকারী আখতারুজ্জামান শাহীনের নাম জানা গেছে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার করা তিনজনের কাছ থেকে। পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া জিহাদ জানিয়েছেন, শাহীন মুম্বাই থেকে দুই কসাইকে ভাড়া করেছেন। হত্যাকান্ডের আগে তাদের দেওয়া হয়েছিল ৩০ লাখ রুপি। তিনি ছাড়াও আরও চারজন মিলে এমপি আনারকে হত্যা করেছেন। জিহাদ বাংলাদেশের। আরেকজন ভারতীয় নাগরিক। তার নাম জানা যায়নি। জিহাদ এক সময় চরমপন্থি গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তার বাবার নাম জয়নাল হাওলাদার। তাদের বাড়ি খুলনার দীঘলিয়ায়। তিনি প্রায়ই ভারত আসা-যাওয়া করেন। সেখানে একটি কসাইয়ের দোকানে চাকরি করতেন। তবে আখতারুজ্জামান শাহীনকে সামনে রেখে বড় ধরনের রাঘববোয়াল কে, তা এখনো বের করতে পারেনি পুলিশ। মাস্টারমাইন্ড নিয়ে অনেকটা ধূম্রজাল তৈরি হলেও তিন প্রভাবশালী ব্যক্তির দিকেই সন্দেহের তীর গোয়েন্দাদের।

কসাই জিহাদকে বৃহস্পতিবার বনগাঁ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তার সঙ্গে নিউ টাউনের ওই ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে যাওয়া সিয়াম নামে আরেকজনকে খুঁজছে কলকাতা সিআইডি। মুস্তাফিজুর নামে আরেকজনের নাম পেয়েছে তারা। ফয়সাল ওরফে তানভীর ভূঁইয়ার সঙ্গে তিনি নিউ মার্কেটের একটি হোটেলে ওঠেন।

গতকাল শুক্রবার জিহাদকে বারাসাত আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১২ দিনের হেফাজতে পেয়েছে কলকাতা সিআইডি। আর বাংলাদেশে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তার হওয়া হত্যাকান্ডের অন্যতম ঘাতক আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভূঁইয়াসহ তিনজনকে আট দিন করে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যে তারা হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করেছে।

কলকাতা ও ঢাকার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জুবের নামের একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অন্যদিকে গতকাল রাতে কলকাতার আনন্দবাজার অনলাইন জানিয়েছে, চিনার পার্কে শাহীনের ভাড়া করা একটি ফ্ল্যাটের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ওই ফ্ল্যাটে কসাই জিহাদকে রাখা হয়েছিল। শাহীন ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন ২০১৮ সালে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দেশ রূপান্তরকে জানায়, এমপি আনারকে হত্যা করার আগে খুনিরা চেতনানাশক ক্লোরোফর্ম ব্যবহার করেছে। আনার পূর্ব কলকাতার নিউ টাউনের ফ্ল্যাটে আসার পর শাহীনের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল। ঝগড়ার কিছুক্ষণ পরই নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করা হয়।

কোটি টাকায় কসাই ভাড়া : তদন্তকারী সংস্থা নিশ্চিত হয়েছে, আনারকে হত্যার পর মাংসগুলো টুকরো করার জন্য মুম্বাই থেকে জিহাদসহ দুজনকে ভাড়া করেন শাহীন। কলকাতায় আসার সময় গরু কাটার ছুরি নিয়ে আসেন তারা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, খুনের আগে লাশ গুমের পরিকল্পনা করেছিলেন খুনিরা। এজন্য তারা ট্রলি ব্যাগ, চাপাতি, ব্লিচিং পাউডার, পলিথিনসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে রাখেন। হত্যার পর আনারের শরীর থেকে প্রথমে চামড়া তুলে ফেলা হয়। তারপর মাংসগুলো আলাদা করা হয়। এজন্য তাদের সময় লেগেছে তিন থেকে চার ঘণ্টা। হত্যার পর সময় বেশি লেগে যাওয়ায় মাংসগুলো ফ্রিজে রাখা হয়।

পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, জিহাদ অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। প্রায় দুই মাস আগে শাহীন জিহাদকে মুম্বাই থেকে কলকাতায় নিয়ে আসেন। কলকাতার সদর স্ট্রিটের একটি হোটেলে কিছুদিন ছিলেন তিনি।

শিমুলের সহায়তায় ফয়সালের পাসপোর্ট : ঘাতক দলের সদস্য ফয়সাল আলী ওরফে তানভীর ভূঁইয়ার পাসপোর্ট না থাকায় সমস্যায় পড়েন শাহীন ও শিমুল। শাহীনের নির্দেশে শিমুল তার পাসপোর্ট তৈরি করার দায়িত্ব দেন। চলতি বছরের ৮ এপ্রিল ঢাকার বিভাগীয় পাসপোর্ট কার্যালয় থেকে পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। পাসপোর্টে ফয়সালের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে খুলনার ফুলতলা থানার অলকা গ্রাম লেখা হয়। আর বর্তমান ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ঢাকার ক-৩২/১২ নর্দা।

সোনার কারবারের আলোচনা করতেই একা যান আনার : চিকিৎসার নাম করে কলকাতায় গেলেও এমপি আনার কোনো ডাক্তার দেখাননি। তিনি ১২ মে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত হয়ে ভারতে যান এবং কলকাতার বরাহনগর এলাকায় বন্ধু গোপাল বিশ্বাসের বাসায় ওঠেন। ১৩ মে তিনি ওই বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। মূলত সোনা কারবারের জন্য এমপি আনার একা কলকাতায় গিয়েছিলেন। ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হওয়া খুনিরাও একই তথ্য দিয়েছেন। তারা বলেছে, শাহীনের কথায় তিনি কলকাতায় গিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, শিলাস্তি রহমানকে দিয়ে আনারকে ফাঁদে ফেলে কলকাতার ওই ফ্ল্যাটে নেওয়া হয়েছিল।

যেভাবে মরদেহ বাইরে আনা হয় : নিউ টাউনের সঞ্জীভা গার্ডেন আবাসিক এলাকার যে ফ্ল্যাটে আনারকে খুন করা হয়েছে, সেখানকার একটি সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছে কলকাতা পুলিশ। ফুটেজে একটি সবুজ রঙের ট্রলি ব্যাগ দেখা গেছে। পুলিশের ধারণা, ওই ব্যাগে করে আনারের টুকরো করা লাশ সরানো হয়েছে।

ফুটেজে দেখা যায়, ১৩ মে দুপুর ২টা ৫১ মিনিটে সঞ্জীভা গার্ডেনের আলোচিত সেই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন আনার। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন শিমুল ভূঁইয়া এবং তার সহযোগী ফয়সাল। ফ্ল্যাটে ঢোকার আগে বেশ শান্তভাবেই দরজার বাইরের র‌্যাকে জুতা রাখেন। পরে ভেতরে প্রবেশ করেন আনার। এর কয়েক ঘণ্টা পর ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে আসেন শিমুল। এ সময় তার হাতে ছিল একটা লাগেজ। এরপর পলিথিনের ব্যাগ হাতে বের হন আরেকজন। এ সময় শিমুল দরজা লক করে দেন এবং লিফট দিয়ে নেমে তারা বের হয়ে যান।

১ মিনিট ৯ সেকেন্ডের সিসিটিভি ফুটেজের আরেকটি দৃশ্যে দেখা যায়, বাঁদিকের একটি ঘর থেকে ট্রলি নিয়ে বের হচ্ছেন এক অভিযুক্ত। ডানদিকে লিফটের সুইস টিপে অপেক্ষাও করেন তিনি। সঙ্গে আরও একজন ছিলেন। তার হাতে আরও তিনটি ছোট ছোট ব্যাগ ছিল। লিফট এলে তাতে ট্রলি নিয়ে উঠে পড়েন দুজন।

সিআইডির বরাত দিয়ে কলকাতার সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, খুনের তিন ঘণ্টা পর জিহাদ ও সিয়াম ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে যান। পরদিন আমানুল্লাহ ও শিলাস্তি বের হয়ে যান। ১৮ মে ফয়সাল ও মুস্তাফিজুর ওই ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে যান। জিহাদ ও সিয়াম ছাড়া বাকিরা উড়োজাহাজে করে ঢাকায় ফিরে যান। জিহাদ ও সিয়াম অবৈধভাবে ভারতে যাওয়া-আসা করতেন।

বৃহস্পতিবার ভারতের পুলিশ এ হত্যার ঘটনায় সিয়াম নামের একজনকে গ্রেপ্তারের কথা বলেছিল। তবে সিয়াম এখন কাঠমান্ডুতে বলে জানা গেছে। আসলে জিহাদ হাওলাদারকেই তারা সিয়াম বলে মনে করেছিল।

এখনো লাশ পায়নি ভারতীয় পুলিশ : কসাই জিহাদের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে গত দুদিন ধরে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। বুধবার রাতে হাতিশালা বর্জ্য খালে তল্লাশি চালানো হয়। গতকালও দিনভর তল্লাশি চলে। তারপরও মেলেনি আনার শরীরের বিভিন্ন অংশ। তবে পুলিশ আশাবাদী দ্রুত সময়ে লাশ উদ্ধার করা হবে। শিমুল ভূঁইয়া নামে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া আসামি ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, আনারকে সঞ্জীভা গার্ডেনের ফ্ল্যাটে হত্যার পর তিন-চারটি পলিথিন ব্যাগে করে ১৪ মে বিকেল ৫টা ১১ মিনিটের দিকে সব টুকরো বের করা হয়। এরপর এগুলো ফেলে দেওয়া হয় কলকাতার হাতিশালা বর্জ্য খালে। আবার জিহাদ কলকাতা পুলিশকে বলেছেন, টুকরো মাংসগুলোর কিছু অংশ ধর্মতলা ও মারকুইজ স্ট্রিটের পরিত্যক্ত স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। জিহাদ ও ক্যাবচালক জুবের পুলিশকে জানিয়েছেন, মৃতদেহ টুকরো টুকরো করার পর কলকাতার উপকণ্ঠে কাশিপুরের ভাঙড়ের কৃষ্ণমাটি নামক এলাকায় ফেলা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পরপরই সিআইডির একটি টিম সেখানে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। কিন্তু পায়নি।

জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ‘রাজনৈতিক, আধিপত্য বিস্তার ও অর্থনৈতিক নানা কারণে তিনি খুন হতে পারেন। তাকে হানিট্র্যাপও করা হতে পারে। আমাদের তদন্তে পর্যায়ক্রমে সব বিষয়ই আসবে। যারা সরাসরি কিলিং মিশনে অংশ নিয়েছিল আমরা তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।’

শিলাস্তি যা বললেন : ১৩ মে দুপুর ২টা ৫১ মিনিটে আনার যখন নিউ টাউনের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন তখন খুনিদের সঙ্গে সেখানে শিলাস্তিও ছিলেন। কিন্তু ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিচ্ছেন কথিত মডেল শিলাস্তি রহমান। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলেও দাবি করছেন। তবে শাহীনের কথায় তিনি ওই ফ্ল্যাটের তৃতীয়তলায় ওঠেন। গন্ধ পেয়ে একবার দোতলায় আসেন। তাকে একবারও বুঝতে দেওয়া হয়নি এমপি আনারকে মেরে ফেলা হয়েছে। মূলত তাকে ব্যবহার করেই আনারকে আনা হয় ফ্ল্যাটে। কলকাতা পুলিশ ওই ফ্ল্যাট থেকে জন্মনিরোধক সামগ্রী ও যৌন উত্তেজক বড়িসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে।

কলকাতা থেকে গুলশানের ফ্ল্যাটে আসেন শাহীন : এমপি আনারকে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে কলকাতা থেকে একটি ফ্লাইটে করে ঢাকায় আসেন শাহীন। ওঠেন গুলশানের ফ্ল্যাটে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে গুলশানের ওই বাসায় গিয়ে কথা হয় ভবনের নিরাপত্তা প্রহরী মো. আজাদের সঙ্গে। তিনি জানান, বেশিরভাগ সময় ফ্ল্যাটে থাকতেন না শাহীন। মাঝেমধ্যে ফ্ল্যাটে আসতেন। তার সঙ্গে অনেকেই আসতেন। তবে স্ত্রীকে নিয়ে খুব একটা আসতেন না তিনি। শাহীন কারও সঙ্গে তেমন কথা বলতেন না। যখন বাসায় থাকতেন সারা দিন পার্সেলের মাধ্যমে খাবারসহ বিভিন্ন জিনিস কিনতেন।

তিন আসামি ৮ দিনের রিমান্ডে : সংসদ সদস্য আনার হত্যাকাণ্ডের পর অপহরণ মামলায় আটক সৈয়দ আমানুল্লাহ আমান ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, ফয়সাল আলী সাজী ওরফে তানভীর ভূঁইয়া ও শিলাস্তি রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের রিমান্ড চেয়ে গতকাল দুপুর সোয়া ২টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন ডিবির সিনিয়র সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

কলকাতায় ১২ দিনের হেফাজতে জিহাদ : কলকাতায় গ্রেপ্তার হওয়া কসাই জিহাদ হাওলাদারকে গতকাল বারাসাত আদালতে তোলে কলকাতা পুলিশ। ১৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত তাকে ১২ দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৬৪, ৩০২, ২০১ ও ১২০বি ধারায় চারটি মামলা দেওয়া হয়। সব ধারাই জামিন অযোগ্য। ৩৬৪ অর্থাৎ হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ। ৩০২ অপরাধমূলক নরহত্যা, ২০১ তথ্য লোপাট, অর্থাৎ অস্ত্র ও মরদেহ পরিকল্পনা করে সরিয়ে ফেলা এবং ১২০বি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করা। এসব ধারায় সর্বোচ্চ সাজা আমৃত্যু যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদ-।

কেন মারলে, আদালতে ‘কসাই’ জিহাদকে প্রশ্ন : বারাসাত আদালতে আনার পর জিহাদকে ঘিরে ধরেন সাংবাদিকরা। জিহাদের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। চারদিক থেকে প্রশ্ন উড়ে আসতে থাকে, ‘কেন মারলে?’ কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি জিহাদ। পুলিশের গাড়ি থেকে নেমে তিনি আদালতে ঢুকে যান।

সীমান্তে একক নিয়ন্ত্রণ ছিল আনারের : গোয়েন্দা সূত্রমতে, যশোরের চৌগাছা, ঝিনাইদহের মহেশপুর, চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত এলাকার চোরাচালানসহ সব কারবারের একক নিয়ন্ত্রণ ছিল এমপি আনারের। সম্প্রতি তার বেপরোয়া মনোভাবের কারণ ও সিন্ডিকেটের আগের পাওনা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। আর এ কারণে তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় চোরাচালান মাফিয়ারা। এতে সম্মতি দেয় যশোরের প্রভাবশালী এক ব্যক্তি (বর্তমান বিদেশে অবস্থান করছেন), ঢাকার দুই প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। এই নিয়ে ঢাকার একাধিক বৈঠক হয়। এরপর খুনের দায়িত্ব দেওয়া হয় আনারের বাল্যবন্ধু শাহীনকে। কারণ শাহীনের সঙ্গে আনারের হুন্ডির ৫০ কোটি টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধ ছিল। শাহীন কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়র সহিদুজ্জামানের ভাই। হত্যাকা- বাস্তবায়ন করলে শাহীনকে ‘আনার সাম্রাজ্যের’ নতুন অধিনায়ক বানানো হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া হত্যাকা-ের জন্য যত টাকা খরচ হবে সব ওই পরিকল্পনাকারীরা বহন করবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। হত্যাকা-ের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরাও প্রায় এমন তথ্য দিয়েছেন বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত