সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সালথায় ফসলি জমির মাটি কাটার হিড়িক

আপডেট : ২৫ মে ২০২৪, ০২:১৩ এএম

ফরিদপুরের সালথায় অবৈধভাবে উর্বর ফসলি জমির মাটি কাটার হিড়িক পড়েছে। প্রকাশ্যে দিনে ও রাতের আঁধারে সোনালি আঁশ পাট, পেঁয়াজ ও আমন ধানের জমির মাটি কেটে বিক্রি করছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। তিন-চার মাস ধরে মাটি বিক্রি অতিমাত্রায় বেড়েছে। প্রশাসন মাঝেমধ্যে কিছু ব্যবস্থা নিলেও মাটি কাটা বন্ধ হচ্ছে না। ফলে দিন দিন আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। আর প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এসব করছে এক শ্রেণির প্রভাবশালী মাটিখেকো।

এদিকে বিক্রীত মাটি বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে অবৈধ ট্রলি গাড়ি। এসব গাড়ির বেপরোয়া চলাচলে ধ্বংস হচ্ছে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা রাস্তা। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা কাদায় মাখামাখি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। মাটি ব্যবসায়ীরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় এ নিয়ে কেউ ভয়ে মুখ খোলার সাহস পান না।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলায় কয়েকটি শক্তিশালী মাটি ব্যবসায়ী চক্র গড়ে উঠেছে। তারা যদুনন্দি ও ভাওয়াল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার তিন ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে নিয়ে ইটভাটা ও গৃহস্থের কাছে বিক্রি করছে। ইটভাটার মালিকরা দালালের মাধ্যমে সাধারণ কৃষককে লোভে ফেলে ফসলি জমির মাটি কিনছেন। ৮ থেকে ১০ ফুট গভীর করে মাটি কাটার ফলে অনেক জমিই ডোবায় পরিণত হয়েছে। এসব জমিতে না হচ্ছে ফসল, না চাষ করা যাচ্ছে মাছ। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, যদুনন্দি ও ভাওয়াল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করতে দেখা গেছে। যদুনন্দি ইউনিয়নের খাড়দিয়া গ্রামের সবুজ মিয়া রাতের আঁধারে প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ওই এলাকার বিভিন্ন ফসলি জমির মাটি ভেকু মেশিন দিয়ে কেটে ট্রলিতে করে পাঠাচ্ছেন ইটভাটায়। এ ছাড়া তিনি ভাওয়াল ইউনিয়নের নারানদিয়া গ্রামের ফসলি জমি থেকেও মাটি কেটে চড়া দামে বিক্রি করছেন। প্রতিটি স্থানে মাটি পরিবহনের কাজে তিনি ব্যবহার করছেন ৮ থেকে ১০টি করে ট্রলি।

ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রি করছেন নুরুল ইসলাম নামে এক ইউপি সদস্য। তিনি ভাওয়াল ইউনিয়নের কামদিয়া এলাকা থেকে রাতের আঁধারে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে ৫-৬টি ট্রলিতে করে নিয়ে চড়া দামে বিক্রি করছেন বিভিন্নজনের কাছে। তিনি স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বালী বলেন, ‘অবৈধভাবে ফসলি জমি কেটে মাটি বিক্রির খবর পেলেই আমরা সেখানে ছুটে গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করি। এর আগে একাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত