শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দুই সপ্তাহে সূচক কমেছে ৬ শতাংশ

আপডেট : ২৬ মে ২০২৪, ১২:২৭ এএম

ডলারের বিপরীতে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন ও সুদহার বৃদ্ধির প্রভাবে এমনিতেই পুঁজিবাজারে মন্দা চলছে। দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ৩ শতাংশে বেঁধে দিয়েও সূচকের অব্যাহত পতন ঠেকানো যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর মূলধনী মুনাফায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) করারোপের প্রস্তাব পুঁজিবাজারের পতন আরও বেগবান করেছে। পুঁজিবাজার ছাড়তে চাওয়া বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির চাপে গত দুই সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি ৬ শতাংশের বেশি পয়েন্ট হারিয়েছে। এরমধ্যে গত সপ্তাহেই ৩ দশমিক ৭২ পয়েন্ট হারিয়েছে সূচকটি। টানা পতনে সূচকটি নেমে এসেছে ৩৭ মাস আগের অবস্থানে।

বর্তমানে স্থানীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা মূলধনী মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে থাকেন। আর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এই হার ১৫ শতাংশ। এখন পর্যন্ত ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের এই করের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। তবে আসন্ন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারের ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের ৪০ লাখ টাকার ওপরে মূলধনী মুনাফার ওপর ১৫ শতাংশ হারে করারোপের প্রস্তাব দিয়েছে এনবিআর। অর্থাৎ কোনো বিনিয়োগকারীর যদি ৪১ লাখ টাকার মূলধনী মুনাফা হয়, তাহলে তাকে ১৫ হাজার টাকা কর হিসেবে দিতে হবে। যদিও গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ৪১ লাখ টাকা মূলধনী মুনাফা হয়েছে এমন বিনিয়োগকারী হাতেগোনা কয়েকজন খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। ২০১০ সালের পর থেকে বাজারের টানা পতনে ব্যক্তিশ্রেণির অধিকাংশ বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়েছেন, কেউ কেউ নিঃস্ব হয়ে বাজার ছেড়েছেন। শুধুমাত্র চলতি বছরেই ডিএসইর প্রধান সূচকটি হারিয়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ পয়েন্ট।

প্রস্তাবটি এমন এক সময়ে দেওয়া হয়েছে, যখন টাকার অবমূল্যায়ন ও সুদহার বৃদ্ধির প্রভাবে বাজারে অস্থিরতা চলছে। ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নে বিদেশিরা শেয়ার বিক্রি করে বাংলাদেশ থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। আর সুদহার বৃদ্ধির ফলে স্থানীয় ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ তুলে নিয়ে ব্যাংকে ঝুঁকিমুক্ত সঞ্চয় করছেন। শেয়ারের বিক্রিচাপ বৃদ্ধির সময়টাতেই মূলধনী মুনাফায় করারোপের প্রস্তাবটি এসেছে।

বর্তমানে সেকেন্ডোরি বাজারের লেনদেন থেকে সরকার শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর পেয়ে থাকে। সব ধরনের বিনিয়োগকারী লভ্যাংশের ওপর আয়করও দিচ্ছেন। একই লভ্যাংশের ওপর একাধিকবার কর দিতে হচ্ছে। বর্তমানে সরকার পুঁজিবাজার থেকে যে রাজস্ব পাচ্ছে, নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে মন্দা বাজারে বিনিয়োগকারীর হতাশায় উল্টো রাজস্ব আদায়ের হার আরও কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ডসহ অনেক দেশেই ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর মূলধনী মুনাফায় কর অব্যাহতি রয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে পুঁজিবাজারে যে মন্দাবস্থা চলছে মূলধনী মুনাফায় করারোপ সঠিক সময় নয়। এতে বাজারের আরও ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। এটি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করবে। বর্তমানে পুঁজিবাজার তারল্য সংকটে ভুগছে। মূলধনী মুনাফায় করারোপ হলে তারল্য প্রবাহ আরও কমে যাবে, পুঁজিবাজারে বিক্রিচাপ আরও বাড়বে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মূলধনী মুনাফায় করারোপের প্রস্তাবের পর থেকে বাজারে সূচক পতনের গতি আরও বেড়ে গেছে। চলতি মাসের ১২ থেকে ১৬ তারিখ পর্যন্ত পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমে ১৪৩ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আর গত সপ্তাহের চার কার্যদিবসে সূচকটি কমে ২০৫ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ৩৮৬টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ২৮টির। বিপরীতে কমেছে ৩৩৮টির ও অপরিবর্তিত ছিল ২০টির। দরপতনের সময়টাতে লেনদেনও ব্যাপক হারে কমে গেছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় গত সপ্তাহে ৩২ শতাংশ কমে গড় লেনদেন হয়েছে ৫১৭ কোটি টাকা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত