শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রক্ত কেন দেবেন

আপডেট : ২৬ মে ২০২৪, ১২:৩৫ এএম

আমাদের দেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ রক্ত লাগে, তার মাত্র ২৫ ভাগ দেন স্বেচ্ছা রক্তদাতারা। বাকি ৭৫ ভাগই দেয় পেশাদার রক্ত বিক্রেতারা অথবা রোগীর আত্মীয়-পরিজনরা। এর ফলে প্রয়োজনীয় রক্তের বড় অংশই আসে অনিরাপদ উৎস থেকে। অনেকেই রক্ত দিতে চান না সুইয়ের ভয়ে। ছোট্ট একটা পিঁপড়ের কামড়ের চেয়ে বেশি কিছু এটা নয়। তাও সেটা হিমোগ্লোবিন চেক করার উদ্দেশ্যে আঙুলে ফোটাবার মুহূর্তটুকুতেই। আসল রক্ত যখন নেওয়া হবে, তখন আসলে রক্তদাতা টেরই পাবেন না। রক্ত দিলে অসুস্থ বা দুর্বল হওয়ার সুযোগ নেই। রক্ত দিলে হৃদরোগ, ক্যানসার বিশেষ করে ফুসফুস, লিভার, কোলন, পাকস্থলী ও গলার ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোসহ ১৭টিরও বেশি রোগের ঝুঁকি কমে। রক্তদানের সঙ্গে সঙ্গে দেহের বোন ম্যারো নতুন কণিকা তৈরির জন্য উদ্দীপ্ত হয়। ফলে সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

অনেকে ভাবেন রক্ত দিয়ে শারীরিকভাবে অসুস্থ হবেন, দুর্বলতায় ভুগবেন বা বড় কোনো ক্ষতি হবে। অথচ আপনি রক্ত দিলেন বা না দিলেন, নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে এমনিই বদলে যায়। যেমন- রক্তের প্রধান তিন উপাদানের একটি অনুচক্রিকার আয়ু ৮-৯ দিন, শ্বেতকণিকার আয়ু ১৩-২০ দিন এবং লোহিত কণিকার আয়ু ১২০ দিন। নির্দিষ্ট সময় পর কণিকাগুলো নিজে নিজেই লিম্ফিটিক সিস্টেমের ভেতরে ধ্বংস হয়ে যায়। কোনো এক সময় আপনি হয়তো রক্ত দিতে চেয়েও পারেননি, কারণ আপনার শারীরিক অবস্থা রক্তদানের অনুকূল ছিল না। তার মানে এই নয় যে, এখনো আপনি রক্ত দিতে পারবেন না। কারণ দেহের জৈব রাসায়নিক অবস্থা প্রতিনিয়তই বদলায়। তাই চাইলে কিছুদিন পর রক্ত দিতে পারবেন।

রক্ত দিতে গিয়ে যদি কোনো রোগের সংক্রমণ হয় এটা অমূলক ভয়। ডঐঙ রক্ত পরিসঞ্চালনের যে সেফটি স্ট্যান্ডার্ড বেঁধে দিয়েছে সেটা পুরোপুরি মেনে চললে সেই সুযোগ নেই। কারণ রক্ত দেওয়ার সময় একজন ডোনারের মিনি মেডিকেল চেকআপ থেকে শুরু করে রক্তদানের পুরো প্রক্রিয়ায় তাকে আলাদাভাবে মনোযোগ দেওয়া হয়। রক্তদানের সময় ব্যবহৃত প্রতিটি উপকরণ যাতে জীবাণুমুক্ত হয় এবং একবার ব্যবহার করেই ফেলে দেওয়া যায়, সেটাকে নিশ্চিত করা হয়। অনেকের ধারণা আছে, আমি দুর্বল, আমি কি রক্ত দিতে পারব। আসলে একজন ৫০ কেজি ওজনের পূর্ণবয়স্ক পুরুষের দেহের ১৩০০ মিলিলিটার রক্তই বাড়তি, নারীদের ক্ষেত্রে এটা ৮০০ মিলিলিটার। আর রক্ত দিতে এলে একজন ডোনারের কাছ থেকে নেওয়া হয় মাত্র ৩৫০-৪০০ (সর্বোচ্চ ৪৫০) মিলিলিটার রক্ত, যা এই বাড়তি রক্তের অর্ধেকেরও কম। আর এ ক্ষয় পূরণও হয়ে যায় খুব দ্রুত।

অনেক নারীর রক্তে আয়রনের পরিমাণ কম থাকে। আর আয়রন কম মানে হিমোগ্লোবিন কম। রক্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্য এটা একটা বাধা। তবে একটু চেষ্টা করলেই রক্তের এই লৌহ বাড়ানো যায়। বেশ কিছু খাবার আছে, যা নিয়মিত খেলে দেহে লৌহের চাহিদা সহজেই পূরণ হয়। যেমন মাছ, মাংস, ডিম, সবুজ শাকসবজি, ডাল, লাল চাল, শিম ইত্যাদি। তা ছাড়া ভিটামিন সি লোহাকে ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই এসব খাবার খাওয়ার পরে যদি এক গ্লাস ভিটামিন সি-যুক্ত ফলের রস খান, তাহলে এসব খাবারের আয়রন পুরোটাই দেহ গ্রহণ করবে। রক্ত দেওয়ার সময় একজন ডোনারের দেহ থেকে নেওয়া হয় এক পাইন্টেরও কম পরিমাণ রক্ত (৩৫০-৪৫০ মিলি), যা একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরে মোট রক্তের শতকরা ১৩ ভাগেরও কম। আর নতুন রক্তকণিকা ও রক্তরস উৎপাদনের মাধ্যমে রক্তের এ ক্ষয়পূরণ হয়ে যায় খুবই দ্রুত। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই আগের অবস্থায় ফিরে আসে। পুনরায় রক্ত বা রক্তকণিকা দানও করতে পারবেন। মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায়ই আপনি প্লাটিলেট দিতে পারবেন। প্লাজমা দিতে পারবেন চার সপ্তাহে। হোল ব্লাড ও রেড সেল দিতে পারবেন ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত