বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পরিবর্তন নেই বিশ্বকাপ দলে

আপডেট : ২৬ মে ২০২৪, ১২:৫৮ এএম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে টানা দুটো টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হারের পর ক্রিকেট দলের দিকে বানের জলের মতোই ভেসে আসছে সমালোচনার বাক্যবাণ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তীব্র বিষোদগার, মূলধারার গণমাধ্যমও করছে শব্দের তীব্র কশাঘাত। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে গেলেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত দলে কোনো পরিবর্তন আনছে না বাংলাদেশ, জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। শনিবার দুপুরে, মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই কথা জানিয়েছেন লিপু।

দুবাইয়ের স্থানীয় সময় অনুযায়ী ২৪ মে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট ছিল আইসিসির কোনো অনুমতি ছাড়াই বিশ্বকাপের দলে পরিবর্তন আনার শেষ সময়। সেই সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। বাংলাদেশ দলে কোনো পরিবর্তন শেষ মুহূর্তে আনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে লিপু জানান, ‘না। এটা গৎবাঁধা একটা নিয়ম ছিল। বাড়তি সুবিধা নেওয়ার জন্য প্রত্যেক দলকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সে আলোকে ২৪ তারিখ দুবাই সময় রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সুযোগ ছিল। প্রটোকল অনুযায়ী ক্যাপ্টেন, কোচ এবং আমরা নির্বাচকরা বসে কিছুক্ষণ আলাপ করেছিলাম। এ মুহূর্তে যে দল আছে, সে দলটাই বহাল রেখেছি। বিশ্বকাপে যাতে ভালো করতে পারি সেই আশা করছি। যে দল নির্বাচন করেছিলাম সেই দলের ওপরই আস্থা রাখছি।’ দেশে বিকল্প ক্রিকেটারদের তৈরি রাখা হচ্ছে বাংলা টাইগার্সের ট্রেনিং ক্যাম্পের মাধ্যমে, জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক, ‘কেউ এখন ট্রেনিংয়ে নেই। টাইগার্স ক্যাম্পের ট্রেনিং শুরু হবে। সেখানে সাদা বলের জন্য কয়েকজন ক্রিকেটার তৈরি করে রাখব। ক্রাইসিস শুরু হলে যেন যেকোনো জায়গায় বিকল্প দিতে পারি’। বিশ্বকাপ দলে সাইফউদ্দিনকে না রাখা নিয়ে বেশ ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে লিপুকে। সম্ভাব্য বিকল্পের তালিকাতেও সাইফউদ্দিন অনুপস্থিত। লিপু জানিয়েছেন, পারিবারিক কারণেই বাংলা টাইগার্সের অনুশীলনের শুরুতে নেই এই অলরাউন্ডার, ‘সাইফউদ্দিন টাইগার্স স্কোয়াডে ছিল। সেখানে একটা বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া ছিল- ৬ জন ক্রিকেটারকে সাদা বলের ট্রেনিংয়ে যেন রাখা হয়। গতকাল আমরা একটা ইমেইল পেয়েছি, সাইফউদ্দিন ফোনও করেছিল। তিনি একটু পারিবারিক কারণে... তার স্ত্রী অসুস্থ, সন্তানসম্ভবা। সে কারণে তিনি জুনের ১০ তারিখ পর্যন্ত ক্যাম্পেও থাকতে পারবেন না, ছুটি চেয়েছেন। আমরা এখন খালেদকে প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করব। এর আগে আমরা এ ব্যাপারে জানতাম না, আমাদের জানানোও হয়নি। আমরা অবহিত ছিলাম না। ইনজুরি অবহিত করা হয়, বা না থাকলে আগে থেকে জানানো হয়। যেহেতু সে যায়নি। গেলে হয়তো ন্যাশনাল ডিউটি পালন করত আমার বিশ্বাস। এটা সেকেন্ডারি প্রোগ্রাম সে কারণেই আমার ধারণা সে আবেদন করেছে।’ লিপু বলেছেন, জরুরি প্রয়োজনে যাতে বিকল্প হিসেবে কাউকে পাঠানো যায় সেজন্য দেশে আরও বেশ কিছু ক্রিকেটারকে তারা তৈরি রাখছেন, ‘লাল বল ও সাদা বলের জন্য কিছু ক্রিকেটারকে বেছে নিয়েছি। বিশেষ করে সাদা বলের ওরা বিশ্বকাপের স্ট্যান্ডবাই। ওপরের দিকে (এনামুল হক) বিজয়কে রাখা হয়েছে যদি লিটনের কোনো ক্রাইসিস হয়। (নুরুল হাসান) সোহানকে রাখা হয়েছে যদি জাকেরের সমস্যা হয়। সাইফউদ্দিনকেও রাখা হয়েছিল। খালেদ আছে, সাইফউদ্দিন ১০ তারিখের পর আসবে। (পারভেজ হোসেন) ইমন আছে। নাসুম (আহমেদ) আছে, (মেহেদী হাসান) মিরাজ আছে। নাসুমের কাছ থেকেও চিঠি পেয়েছি ঢাকায় ৪-৫ দিন করতে পারবেন না। তিনি জন্ডিসে আক্রান্ত ছিলেন। মেডিকেল টিম মনে করলে সামনের মাসের শুরুতেই সিলেটের সেশনে জয়েন করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের দুটো ম্যাচেই হেরে যাওয়াটাকে হতাশাজনক মনে করলেও বিশ্বকাপের সঙ্গে এই দুটো ম্যাচকে লিপু মেলাতে চান না, ‘ফর্মে সবাই নেই এটা দুঃখজনক। কাক্সিক্ষত ফলাফলও করতে পারছি না। হতাশাজনকই বলব, দুটি ম্যাচেই জেতার মতো অবস্থায় ছিলাম। প্রথম ম্যাচে বোলিংয়ের কারণে পিছিয়ে গেছি। শেষদিকে ওভারপ্রতি ১৫ রান করে লাগত। অন্যতম সেরা বোলাররা ছিল। টি-টোয়েন্টির টুইস্টে আমরা পারিনি। দ্বিতীয় ম্যাচেও ২ উইকেট হারিয়ে এমন অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিলাম। শান্ত ও হৃদয় ব্যাট করছিল, জয়কে মনে হচ্ছিল সময়ের ব্যাপার। ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে ৩ বল বাকি থাকতেই পরাজয়। নিশ্চয়ই দুশ্চিন্তার কারণ, হতাশার কারণ। ওপরের ব্যাটাররা রান পাচ্ছে না সত্য। দ্বিতীয় ম্যাচে যদি তাকান, অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররাও জয়ের প্রান্তে নিয়ে যেতে পারেনি। দলগতভাবে উন্নতি করতে হবে’। 

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে শঙ্কা ছিল কেবল তাসকিন আহমেদকে নিয়ে। সেই শঙ্কা অনেকটাই কেটে যাওয়াতে দলে আর বদল আনতে হয়নি, জানিয়েছেন লিপু, ‘তাসকিনের খবর ফিজিও বায়েজিদ জানিয়েছেন ওর আরেকটা এমআরআই হয়েছে। যে গতিতে ওর আরোগ্য চিন্তা করেছিলেন তার থেকে এগিয়েই আছে। ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আশাবাদী ৩০-৩১ তারিখ আবার দেখে হালকাভাবে ১ তারিখ থেকে বোলিং অনুশীলন শুরু করবেন। এখন থেকে হয়তো ইনস্ট্রুমেন্টাল ও স্ট্রেন্থ ট্রেনারদের সঙ্গে ট্রেনিং করবেন। আশা করা যায় ৫ তারিখের মধ্যে ফুল রানআপে বল করবেন।’

তাসকিন প্রথম ম্যাচ থেকেই যদি বিশ্বকাপে খেলতে পারেন, তাহলে বাড়তি অনুপ্রেরণা পেতে পারে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে সেই টোটকাই ভরসা, কারণ মাঠের খেলায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই পেরে না ওঠা বাংলাদেশকে নিয়ে যে কেউই খুব আশাবাদী হতে পারছে না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত