বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আগেও দুবার পাতা হয় ফাঁদ

আপডেট : ২৬ মে ২০২৪, ০৬:২৫ এএম

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে এর আগেও দুবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। হত্যাকারীদের পাতা ফাঁদে পা না দেওয়ায় দুই দফায় বেঁচে যান আনার। প্রথমবার গত জাতীয় নির্বাচনের আগে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। দ্বিতীয়বারও ব্যর্থ হয় আক্তারুজ্জামান শাহীন ও আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভূঁইয়া। সেবার চলতি বছরের ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি কলকাতায় ছিলেন আনার। সেই সময়ে হত্যাকারীরাও তাকে খুনের উদ্দেশ্যে কলকাতায় যায়। কিন্তু আনার হোটেলে থাকার কারণে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। তৃতীয়বারের প্রচেষ্টায় তারা সফল হয়। গতকাল শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডিএমপির ডিবিপ্রধান।

গোয়েন্দা কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ বলেন, ‘সংসদ সদস্য আনার হত্যার ঘটনা তদন্তে ভারতীয় পুলিশের একটি দল ঢাকায় কাজ করছে। পাশাপাশি আমাদের হাতে গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে আমরা দুটি বিষয় পেয়েছি। দুটি গ্রুপ এখানে (আনার হত্যা) কাজ করেছে। একটি গ্রুপ মদদ দিয়েছে, আরেকটি গ্রুপ বাস্তবায়নে কাজ করেছে। এই ঘটনার মদদদাতা আক্তারুজ্জামান শাহীন ৩০ এপ্রিল কলকাতায় তিন সদস্যকে নিয়ে যান। সেই দলে একজন মেয়ে ছিল। শাহীন ১০ তারিখ পর্যন্ত অবস্থান করে কিলিং মিশন বাস্তবায়নের মূল হোতা পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির নেতা, যিনি ভুয়া নাম ব্যবহার করে ভারতে গেছেন, সেই আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভূঁইয়াকে সব বুঝিয়ে দিয়ে দেশে চলে আসেন। তাদের কাছ থেকে আমরা বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছি। যেহেতু ভারতীয় পুলিশ আমাদের এখানে কাজ করছে, তাদের কাজ শেষ হলে আমরাও তদন্তে কলকাতায় যাব।’

আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যার কারণ জানতে চাইলে ডিএমপির ডিবিপ্রধান বলেন, ‘এই হত্যার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। এই হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে জড়িত সবাই পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে তারা ৫-৬টি গলাকাটার ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে অনেকগুলো বিষয় রয়েছে। কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড, সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কী কারণে এই হত্যা, সেটি আরও তদন্ত শেষে বলা যাবে।’

অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, আগেও সংসদ সদস্য আনোয়ারুলকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। নির্বাচনের আগেও তারা হত্যার চেষ্টা করেছে। তখন তারা ব্যর্থ হয়েছে। দ্বিতীয়বার জানুয়ারি মাসের ১৭-১৮ তারিখেও সংসদ সদস্য আনোয়ারুল কলকাতায় ছিলেন। সেই সময়ে হত্যাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কলকাতায় যায়। কিন্তু হোটেলে থাকার কারণে সেবার তারা ব্যর্থ হয়। তৃতীয় ধাপে এসে তারা সফল হয়েছে। তবে হত্যার আগে তাদের পরিকল্পনা ছিল আনোয়ারুলকে জিম্মি করা। এরপর তার আপত্তিকর নগ্ন ছবি তুলে দুদিন আটকে রেখে ব্ল্যাকমেল করে হুন্ডির মাধ্যমে দেশ থেকে এবং কলকাতায় থাকা তার বন্ধুদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আনার ওই বাসায় যাওয়ার পর তার মুখে চেতনানাশক স্প্রে করায় জ্ঞান হারান। অজ্ঞান অবস্থায় আনারের আপত্তিকর ছবি তোলা হয়। কিন্তু তাদের মূল টার্গেট ছিল হত্যা করা। জিম্মি করে টাকা আদায় করতে পারলে সেই টাকা হত্যকারীদের ভাগ করে দেওয়ার কথা ছিল। তবে চেতনানাশক স্প্রে করায় জ্ঞান না ফেরায় ব্ল্যাকমেলের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে লাশ গুমের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। এরপর তারা আনোয়ারুলের মোবাইল ফোনগুলো বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে দেয়। এমনকি হত্যাকারীদের একজন আনারের চারটি মোবাইল ফোন বেনাপোল এলাকায় নিয়ে আসে। সেখানে এসে আনারের প্রতিপক্ষকে চারটি মোবাইল ফোন থেকে কল করে বলা হয় ‘শেষ’। এমনটা করার উদ্দেশ্য ছিল ওই ফোন কলের সূত্র ধরে যেন পুলিশ আনারের প্রতিপক্ষকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে। হত্যাকারীদের যেন খুঁজে না পায়।

আনার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না জানতে চাইলে হারুন অর রশীদ বলেন, ‘নির্দিষ্ট কোনো কিছুই বলা যাবে না। তবে অনেকগুলো বিষয় আছে। তদন্ত শেষ করে আমরা আপনাদের জানাতে পারব।’

আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোনো প্রমাণ বা নিহত আনারের মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি তাহলে কীসের ভিত্তিতে হত্যার কথা বলা হচ্ছে জানতে চাইলে এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা অনেক তথ্য-প্রমাণ পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে তা এখন প্রকাশ করছি না। প্রমাণ পেয়েছি বলেই কলকাতায় হত্যা মামলা হয়েছে। আমাদের দেশে একটি অপহরণ মামলা হয়েছে। কলকাতায় মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে। নিশ্চয়ই তারা আলামত পেয়েছে। কলকাতায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার তদন্তে আমারও যাব।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত