মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আনসার আল ইসলামের নতুন গ্রুপ ‘শাহাদাত’

আপডেট : ২৬ মে ২০২৪, ০৬:৩২ এএম

কার্যক্রম না থাকলেও নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম ‘শাহাদাত’ নামে গ্রুপ তৈরি করে নতুন সদস্য সংগ্রহ করছে। এই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা শতাধিক। এ সংগঠনের অধিকাংশই মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষক। গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, গত শুক্রবার রাতে র‌্যাবের অভিযানে আনসার আল ইসলামের সদস্য সংগ্রহ (রিক্রুটিং) শাখার প্রধান মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেনসহ (২৫) দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইসমাইল ‘শাহাদাত’ নামে একটি গ্রুপ খুলে ওই গ্রুপেরও প্রধান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। গ্রেপ্তারকৃত আরও দুজন হলো আনসার আল ইসলামের আঞ্চলিক প্রশিক্ষক জিহাদ হোসেন ওরফে হুজাইফা (২৪) ও আমিনুল ইসলাম (২৫)।

সংবাদ সম্মেলনে আরাফাত ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানে আনসার আল ইসলামের কার্যক্রম প্রায় স্তিমিত হয়ে পড়েছে। তাদের সদস্য সংগ্রহসহ সব কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে। তাই গ্রেপ্তারকৃতরা ‘শাহাদাত’ নামে গ্রুপ তৈরি করে নতুন সদস্য সংগ্রহসহ দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে। এই গ্রুপটি সালাহউদ্দিন নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যে বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছে। এই গ্রুপের অন্য সদস্যরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছে। তারা বিভিন্ন সময় অনলাইনে বিভিন্ন উগ্রবাদী নেতাদের বক্তব্য দেখে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে সংগঠনের সদস্যদের মাধ্যমে যোগদান করে। পরবর্তী সময়ে তারা আনসার আল ইসলামের নাম ব্যবহার না করে শাহাদাত গ্রুপের নামে সদস্য সংগ্রহ ও দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, তারা বিভিন্ন সময়ে মসজিদ, বাসা বা বিভিন্ন স্থানে সদস্যদের নিয়ে গোপন সভা পরিচালনা করত ও সংগঠনের সদস্যদের শারীরিক কসরত প্রশিক্ষণ দিত। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত বিশেষত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, যশোর, সাতক্ষীরাসহ ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন এলাকাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করেছে বলে জানা গেছে।

র‌্যাব মুখপাত্র বলেন, গ্রেপ্তার ইসমাইলের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত জঙ্গি নেতা সালাউদ্দিনের সঙ্গে পরিচয় হয়। সেই সূত্র ধরেই উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে আনসার আল ইসলামে যোগ দিয়ে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে। এক পর্যায়ে সংগঠনের রিক্রুটিং শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পায়। গ্রেপ্তার জিহাদও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে। পরবর্তী সময়ে সংগঠনে আঞ্চলিক প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পায়। গার্মেন্টস শ্রমিক গ্রেপ্তার আমিনুলও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জঙ্গিবাদে জড়ায়। এক পর্যায়ে সে সংগঠনে আঞ্চলিক প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পায়। এক প্রশ্নের জবাবে কমান্ডার আরাফাত বলেন, সালাউদ্দিন বর্তমানে বিদেশে আছে। সংগঠনটির ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় কর্মী সংগ্রহের প্রক্রিয়া চালাচ্ছিল। আমরা অধিকতর তদন্তে প্রত্যেকের অবস্থান শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত