সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আয়ুর ওঠানামা

আপডেট : ২৭ মে ২০২৪, ১২:৪১ এএম

প্রত্যেকটি প্রাণীর ক্ষেত্রে তাদের শরীরের কোষ কত দিন বাঁচবে, তা নির্ভর করে কোষের মধ্যে থাকা আশ্চর্য এক ‘জৈবিক ঘড়ি’ বা ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’-এর ওপর। এই ঘড়ির মেয়াদ শুধুই কিছুটা সময়ের জন্য। আর ওই ঘরঘর চলা শেষ হলেই কোষগুলোর মৃত্যু হয়। গড় আয়ু বাড়া যেমন সম্ভাবনার অন্যদিকে শঙ্কার। বাড়তি জীবনে মানুষ কতটা সুস্থভাবে জীবনযাপন করছে সেটাই বড় প্রশ্ন। যাপিত জীবনে মানুষটি স্বাস্থ্যবান কতদিন কর্মক্ষম হয়ে বেঁচেছেন ওটাই মূল কথা।

সাধারণত মানুষের জীবনকে দীর্ঘায়িত করে অর্থ এবং খাদ্যাভ্যাস। আর জীবনের আয়ু কমিয়ে আনার পেছনে স্বাভাবিক বিষয় তো রয়েছেই, পাশাপাশি রয়েছে প্রাকৃতিক রোগবালাই। ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ছিল ইতিহাসের অন্যতম এক কালো অধ্যায়। এই বছরগুলোতে মানুষ অনিচ্ছায় ছিলেন ঘরবন্দি। ডাক্তারি ভাষায় তখন এর নাম হয়েছিল আইসোলেশন। করোনা মহামারীর সময়ে কেউ চাকরি হারিয়েছেন, কারও বন্ধ হয়েছে ব্যবসা। আবার বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে অনেকে হয়েছেন নিঃস্ব। গত ২৪ মে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য পরিসংখ্যানগত বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-ডব্লিউএইচও। বলা হয়েছে, করোনা মহামারীর কারণে বিশ্ব জুড়ে মানুষের গড় আয়ু কমেছে ১৮ মাস। সংস্থাটির মতে, বিশ্বে বর্তমানে মানুষের গড় আয়ু ৭১ বছর ৪ মাস। গড় আয়ু কমার পাশাপাশি ১ বছর ৫ মাস হ্রাস পেয়েছে শারীরিকভাবে সুস্থ ও সক্ষম থাকার গড় বয়সসীমাও।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুসারে, বর্তমানে বিশ্ব জুড়ে শারীরিকভাবে সুস্থ ও সক্ষম থাকার গড় বয়স নেমেছে ৬১ বছর ৯ মাসে জানা গেল দেশ রূপান্তরে রবিবার প্রকাশিত ‘আয়ু কমেছে ১৮ মাস’ প্রতিবেদনের মাধ্যমে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের গড় আয়ুর ওপর যে গভীর প্রভাব রেখে গেছে করোনা মহামারী, তা বিগত ৫০ বছরে অন্য কোনো রোগের বেলায় ঘটেনি। তবে পৃথিবীর সব জায়গায় একই হারে গড় আয়ু কমেনি। সবচেয়ে বেশি গড় আয়ু কমেছে আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। এই দুই অঞ্চলে গড় আয়ু কমেছে প্রায় ৩ বছর। গড় আয়ু কমার হার সবচেয়ে কম পশ্চিম প্যাসিফিক অঞ্চলে। সেখানে কমেছে প্রায় ১ দশমিক ২ মাস। কিন্তু সারা বিশ্বে যে হারে গড় আয়ু কমেছে, সে হারে বাংলাদেশে কমেনি। বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ৩ বছর। আগের বছর তা ছিল ৭২ দশমিক ৪ বছর। গড় আয়ু ৭২ দশমিক ৩ বছরের অর্থ হলো যে শিশুটি আজ জন্মগ্রহণ করল তার বাঁচার সম্ভাবনা এত বছর। ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোস গেব্রিয়েসুস বলেন, শিগগিরই আমাদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর একটি মহামারী নিরাপত্তা চুক্তিতে আসা উচিত, সে বার্তাই দিচ্ছে গড় আয়ু হ্রাস পাওয়ার এই তথ্য। এমন একটি চুক্তিতে আসা উচিত, যা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করবে, স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নিশ্চিত করবে এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা নিশ্চিত করবে।

২০৫০ সালের মধ্যে মানুষের গড় আয়ু ৫ বছর বাড়বে। গড় আয়ু বাড়ার পাশাপাশি প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যকর আয়ুও বাড়ার সুখবর দিয়েছেন গবেষকরা। ২০৫০ সালের মধ্যে মানুষের প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যকর আয়ু ৬৪ দশমিক ৮ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৬৭ দশমিক ৪ বছরে। তবে গবেষকরা একটি খারাপ খবরও দিয়েছেন। জানাচ্ছেন, আয়ু বাড়লেও অনেক মানুষকে ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়ে বাঁচতে হবে। সত্যিকার অর্থে, আয়ু বাড়ল কি কমল, সেই বিষয়ে আমাদের দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষের তেমন কোনো আগ্রহ নেই। যতদিন তারা বেঁচে থাকেন, ততদিন নিরাপদ-নিশ্চিন্তে জীবন কাটাতে চান। তার জন্য যে ধরনের নিরাপত্তা দরকার, তা নিশ্চিতের দায়িত্ব সরকারের। আয়ু কমায় অধিকাংশ মানুষ তেমন শঙ্কিত নন, যতটা শঙ্কিত বেঁচে থাকা জীবনে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত