মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

অস্পষ্টতার সুযোগ নিচ্ছে ইসরায়েল

আপডেট : ২৭ মে ২০২৪, ১২:৪৩ এএম

আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ইসরায়েলকে রাফা শহরে অভিযান বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে গত শুক্রবার। কিন্তু হামলা বন্ধ করেনি দেশটি। তাদের যুক্তি, জাতিসংঘের এই আদালতের রায় স্পষ্ট নয় এবং এই নির্দেশনায় রাফায় অভিযান বন্ধের বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেনি। বিশ্লেষকরাও বলছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার যুদ্ধবিরতির দাবির বিপরীতে শুধু রাফায় হামলা বন্ধের একটি অস্পষ্ট রায় দিয়েছে আইসিজে। আর সেই সুযোগ পুরোপুরি নিচ্ছে ইসরায়েল।

গত শুক্রবার দেওয়া আইসিজের রায়ে বলা হয়েছে, গণহত্যা প্রতিরোধ এবং গণহত্যার অভিযোগের শাস্তি সংক্রান্ত সনদের বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে এবং রাফার বেসামরিক মানুষদের ক্রমবর্ধমান দুর্দশার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইসরায়েলকে অবিলম্বে রাফায় সামরিক অভিযান বা অন্য যেকোনো ধরনের উদ্যোগ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে গাজার এই অঞ্চলে বসবাসরত ফিলিস্তিনিরা আংশিক বা পুরোপুরি নির্মূল হতে পারে; অর্থাৎ এই রায়ে শুধু সেই ধরনের হামলা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ফিলিস্তিনিরা আংশিক বা সম্পূর্ণ নির্মূল হতে পারে।

ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল দেশটির কর্র্তৃপক্ষের বরাতে ব্যাখ্যা করে বলেছে, সীমিত আকারে বা গণহত্যার কারণ না ঘটিয়ে অভিযান চালানোর বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা, এমনকি স্পষ্ট কোনো নির্দেশনাও নেই এই রায়ে।

গাজায় নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি চালু ও ইসরায়েলি আগ্রাসনকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করার দাবি জানিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা আবেদন করেছিল আইসিজের কাছে। কিন্তু শুক্রবারের রায়ের সঙ্গে এই চাহিদার আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মত দিয়েছেন।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, তারা আইসিজের নির্দেশনা বিবেচনায় নিয়েছে। কিন্তু এই আইসিজের রায়ে হামলা বন্ধের কথা বলা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তাচি হানেগবি স্থানীয় গণমাধ্যম চ্যানেল ১২ নিউজকে বলেন, ‘তারা আমাদের যা করতে বলেছে, তা হলো, রাফায় গণহত্যা না চালাতে। আমরা কোনো গণহত্যা চালাইনি এবং আমরা গণহত্যা চালাব না।’

রাফায় অভিযান অব্যাহত থাকবে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে হানেগবি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, আমাদের নিজেদের প্রতিরক্ষা দেওয়ার ‘অধিকার আছে। আদালত আমাদের নিজেদের সুরক্ষা দেওয়া অব্যাহত রাখতে কোনো বাধা দিচ্ছে না, যা এই অধিকারের পক্ষে অকাট্য প্রমাণ।’ হানেগবির মন্তব্য নিয়ে আইসিজে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। হামাসের কাছ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অপর এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা আইসিজের রায়ের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, শর্তসাপেক্ষে এই রায় দেওয়া হয়েছে। নাম না প্রকাশের শর্তে এই কর্মকর্তা বলেন, রাফা অভিযান নিয়ে রায়টি কোনো সাধারণ রায় নয়। গাজার বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার জন্য আমরা কখনোই রাফায় বা অন্য কোথাও কোনো সামরিক অভিযান চালাইনি। আংশিক বা সম্পূর্ণ নির্মূলের উদ্দেশ্যেও নয়। এ ধরনের কোনো অভিযান আমরা কখনো চালাবও না।’

রাফায় অভিযানকে আইডিএফ ‘হামাসের সামরিক শক্তিমত্তার সর্বশেষ চিহ্ন’ মুছে ফেলার উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছে। এই অভিযান আন্তর্জাতিক মহলের নিন্দার মুখে পড়েছে। কারণ এ অঞ্চলেই উত্তর ও মধ্য গাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা আশ্রয় নিয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, তারা গত শনিবার রাফাসহ গাজা উপত্যকার বিভিন্ন অংশে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে।

বাহিনীটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাফায় হামাসের একটি অবস্থান ধ্বংস করা হয়েছে। এখান থেকে ইসরায়েলি সেনাদের উদ্দেশ্যে গুলি ছুড়েছিল হামাসের যোদ্ধারা। এ ছাড়া বেশ কিছু সুড়ঙ্গপথ ও অস্ত্রের মজুদ ধ্বংসেরও দাবি জানিয়েছে দেশটি।

আলজাজিরা বলছে, রাফার শাবৌরা এলাকায় গত দুই দিন ইসরায়েল বড় আকারে বিমান হামলা চালায়। এ সপ্তাহের শুরুতে হামাসের বিরুদ্ধে রাফার এই অংশে অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। এরপর নানামুখী চাপের মধ্যেও সেখানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত