সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মহাসড়কে ৩ সিন্ডিকেট

আপডেট : ২৮ মে ২০২৪, ০২:৪১ এএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে টাকার বিনিময়ে মহাসড়কে নিষিদ্ধ অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে। চালকদের ভাষ্য, পুলিশ, কিছু নামসর্বস্ব পত্রিকার সাংবাদিক এবং শ্রমিক নেতারা মিলে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের এই কারবার নিয়ন্ত্রণ করছেন। মাসিক হারে টাকা দিয়ে একদল চালক অটোরিকশা নিয়ে মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। অন্যদিকে মাসিক হারে টাকা না দেওয়া কোনো চালক প্রয়োজনে মহাসড়কের এক পার থেকে আরেক পারে যেতেই (অঞ্চলিক এক সড়ক থেকে আরেক সড়কে যেতে পারাপার) ধরে নিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে পুলিশ। আর সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বড় অঙ্কের জরিমানা করে বসে। বছরের পর বছর ধরে চলছে এই কারবার।

তবে পুলিশ বলছে, উচ্চ আদালতের রায়ে মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় মহাসড়কে কোনোভাবেই এসব যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া যাবে না। হয়রানি আর চাঁদাবাজির কথা অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে বহু যানবাহনকে জরিমানা করা হয়। কাউকে হয়রানি করা হয়নি।

পুলিশের চাঁদাবাজিতে ক্ষুব্ধ চালকরা হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে গত রবিবার রাতে অন্তত দুই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জৈনা বাজার এলাকায় এই অবরোধের ঘটনা ঘটে। এ সময় চালকরা বিক্ষোভ করে পুলিশের বিরুদ্ধে সেøাগান দেন। এতে এই মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে চালকরা মহাসড়ক ছেড়ে দেন।

অবরোধকারী চালকরা জানান, মহাসড়ক ছাড়া আশপাশের আঞ্চলিক সড়কগুলোতে নিয়মিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলে। তবে মহাসড়ক লাগোয়া অন্য সব আঞ্চলিক সড়কের অটোরিকশা কখনো কখনো প্রয়োজনে মহাসড়ক পার হতে চাইলে পুলিশ হয়রানি করে। অনেক সময় জোর করে ধরে নিয়ে মামলা, নয়তো জরিমানা করে। তাদের অভিযোগ, হাইওয়ে পুলিশ আঞ্চলিক সড়কের মোড় থেকে রিকশা ধরে এনেও জরিমানা করে। অন্যদিকে বেশ কিছু নামসর্বস্ব পত্রিকার কথিত সাংবাদিক ও শ্রমিক নেতারা টাকার বিনিময়ে পুলিশকে ম্যানেজ করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মহাসড়কে চলার সুযোগ করে দিচ্ছে। ওই সব চালক মাসিক হারে টাকা দিয়ে থাকেন।

ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক রাজিউল ইসলাম বলেন, ‘মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ভেতরের রাস্তায় যাওয়ার জন্য কোনো যাত্রী তুলতে গেলেও হাইওয়ে পুলিশ এসে জরিমানা করে। অনেক সময় প্রয়োজনে মহাসড়ক ক্রস (এপার থেকে ওপার) করলেও জরিমানা করে নয়তো টাকা দিয়ে ছুটে আসতে হয়। তাদের হয়রানি আর চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ অটোচালকরা। আমাদের মতো অসহায়দের যত বিপদে ফেলতে পারে তারা, ততই তাদের লাভ।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক চালক বলেন, ‘পুলিশ দ্বৈতনীতি অনুসরণ করে। টাকার সুবিধা পেয়ে মহাসড়কে কাউকে কাউকে (অটোচালকদের) নিয়মিত চলতে দেওয়া হয়। আপনারা (সাংবাদিকরা) একটু নজর রাখলেই বুঝবেন কারা এই সুবিধা নিচ্ছে, কারা দিচ্ছে। ভুঁইফোড় পত্রিকার কিছু সাংবাদিক আর শ্রমিক নেতারা পুলিশকে মাসিক হারে টাকা দিয়ে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই তিন চক্র সিন্ডিকেট করে মহাসড়কে অটোরিকশা চালানোর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে।’

তবে চালকদের অভিযোগ অস্বীকার করে মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি মাহবুব মোর্শেদ দেশ রূপান্তকে বলেন, ‘উচ্চ আদালতের নির্দেশে মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ আছে। এখানে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।’

হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘একশ্রেণির চালক মহাসড়কে চলাচলের সুযোগ না পেয়ে অহেতুক অভিযোগ করছে। এটা মোটেও সত্যি না। তবে মাঝেমধ্যে পুলিশের অনুপস্থিতিতে হয়তো কোনো কোনো অটোরিকশাচালক মহাসড়কে চলে আসে। কিন্তু নজরে আসামাত্রই আমরা জরিমানা এবং আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত