মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

৪০ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ এলো শ্রীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

আপডেট : ২৮ মে ২০২৪, ১১:০২ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎবিহীন অন্তত ৪০ ঘণ্টা কাটিয়েছেন রোগী, চিকিৎসক আর কর্মচারীরা। দীর্ঘসময়  বিদ্যুৎ ছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাবতীয় কার্যক্রম চালানো হয়েছে। এ সময়টুকু রোগীদের পোহাতে হয়েছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।

রবিবার মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ ছিল না। এ সময় জরুরি বিভাগসহ সব ইউনিট অন্ধকারে ডুবে ছিল। রাত পার হয়েছে মোমবাতি আর মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইটে ভরসা করে। অন্যদিকে খাবার পানির ভুগিয়েছে রোগীদের। পানি সংকট ছিল টয়লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও।

এ সময় বিদ্যুতের অভাবে নেবুলাইজার মেশিন অচল হয়ে পড়ে। অ্যাজমা রোগীরা সেবা পায়নি। শিশু-বৃদ্ধরা মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করেছে সেবা নিতে এসে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, ৫০ শয্যার একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর না থাকাই অপরাধ। এটা অসম্মানের। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘিরে কোটি কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ থাকে। কিন্তু জেনারেটর কেনা হয় না। সবাই যেন লুটপাটে ব্যস্ত। দুর্ভোগ কমাতে কেউ এগিয়ে আসছে না।
 
চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, দুর্বিষহ দিন পার করেছেন তারা। যেখানে এক মিনিট বিদ্যুৎ ছাড়া টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব সেখানে দুই দিন বিদ্যুৎহীন কাজ করতে হয়েছে। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নিজের কক্ষ ছেড়ে অন্যত্র বসেছেন। মোমবাতি আর মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইটই ছিল শেষ ভরসা।

রোগী ও তাদের স্বজনরা জানায়, রবিবার মধ্যরাত থেকেই সারা দেশের মতো এখানেও আকাশ মেঘলা ছিল। কিছু সময় পর পর দমকা বাতাস বইতে থাকে। ভোরের আগেই বিদ্যুৎ চলে যায়। সোমবার সারাদিন আকাশ মেঘলা ছিল। তবে তখনও বিদ্যুৎ আসেনি। হাসপাতালে আসা রোগীরা নিরুপায় হয়ে বাইরে থেকে পানি এনে চলেছেন। রাতে দুর্ভোগ আরও বাড়ে।

ফাইজ উদ্দিন মিয়া (৭০) নামে এক রোগী বলেন, ‘দুই দিন কারেন্ট ছিল না। চরম কষ্টে কেটেছে। চারপাশ অন্ধকার ছিল। আজ দুপুরে বিদ্যুৎ আসে।’
 
হযরত আলী (৬০) নামের আরেক রোগী জানান, দুই দিন ধরে গ্যাস নিতে পারছেন না। শ্বাসকষ্ট নিয়ে চার দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঝড়ের রাত থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় নেবুলাইজার মেশিন অচল হয়ে আছে। 
 
মাহমুদা আক্তার (৩০) নামের এক রোগী বলেন, ‘অন্ধকারে চরম ভয় আর আতঙ্ক কাজ করেছে। নানা বয়সের রোগী ছিল। নানা রকমের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারত। নারী ওয়ার্ডে মোমবাতি জ্বালিয়ে থাকতে হয়েছে। অনেক সময় বাতাসে মোমবাতিও নিভে গেছে।’ 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একটা দীর্ঘসময় আমরা বিদ্যুৎ ছাড়া এ হাসপাতালের কার্যক্রম চালিয়েছি। জরুরি বিভাগের মতো এমন স্পর্শকাতর বিভাগেও বিদ্যুৎ ছাড়া আমাদের চলতে হয়েছে। এখানে যে কোনো সময় রোগী আসে। কাটা-ছেঁড়া সেলাইয়ের কাজ সবই মোমের আলোতে হয়েছে।’ তিনি দ্রুত সময়ে হাসপাতালে জেনারেটরের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সেবা চেয়েছেন। একই কথা সোমবার জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করা ডা. আসমা উল হোসনারও।

শ্রীপুর উপজেলা পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রণয় ভূষণ দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটরের কোনো ব্যবস্থা নাই। বিকল্প হিসাবে আইপিএস আছে। কিন্তু লম্বা সময় ঝড়ো পরিবেশের কারণে বিদ্যুত না থাকায় আইপিএস ব্যাকআপ পাওয়া যায়নি। আমরা হাসপাতালের জন্য জেনারেটর চাহিদা পাঠিয়েছে।’

গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নাই। সারা দেশই বিদ্যুৎ জটিলতায় ছিল। যে সব হাসপাতালে জেনারেটর আছে তারা ভালো ছিল। আমরা শ্রীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটরের বিষয়ে মিটিংয়ে কথা বলবো। আশা করি একটা সমাধান হবে।’

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত