সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আগুনে ঘি ঢালছে ন্যাটো

আপডেট : ২৯ মে ২০২৪, ১২:৪৪ এএম

ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযান ও ইউক্রেনের প্রতিরোধ যুদ্ধের দুই বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বদলে গেছে বিশ্বের অনেক কিছুই। ইউক্রেন ও রাশিয়ার পক্ষে-বিপক্ষে থাকা নিয়ে বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন মেরূকরণ প্রক্রিয়াও হয়েছে জোরালো। ইউক্রেনের পক্ষে তার পশ্চিমা মিত্ররা নানা ধরনের সহায়তা দিয়েই যাচ্ছে। জব্দ করা রাশিয়ার সম্পদের একটা অংশ ইউক্রেনকে দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে ইউরোপ। এর মধ্যে পশ্চিমা সামরিক জোটে ন্যাটোর প্রধান জেনস স্টলটেনবার্গের কিছু মন্তব্য ঘিরে উষ্মা প্রকাশ করেছে রাশিয়া। দেশটির ভাষ্য, ন্যাটো রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের আগুনে ঘি ঢালতে শুরু করেছে, যা মোটেও কাম্য নয়।

দুই বছর আগে রাশিয়া ইউক্রেনে অভিযান চালানোর মূলে ছিল দেশটির ন্যাটো জোটে যাওয়ার জন্য তোড়জোড় শুরু করা। ইউক্রেন যদি ন্যাটোর সদস্যপদ পেয়েই যায়, তাহলে রাশিয়ার আরও কাছে সামরিক স্থাপনা গড়ার বৈধতা পেত, যা ক্রেমলিনের জন্য মোটেই সুখকর কিছু হতো না। অবশ্য গত দুই বছরে ন্যাটোর সদস্যরাষ্ট্রগুলো স্বতন্ত্রভাবে ইউক্রেনকে সহায়তা দিয়ে গেলেও সরাসরি জোটের পক্ষ থেকে অস্ত্র বা অর্থ দেওয়া হয়নি। এমনকি ইউক্রেনের বারবার করা দাবি উপেক্ষা করে করা হয়নি জোটের সদস্যও। আর যেসব দেশ ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়েছে তারা সেগুলো রাশিয়ার ভূখ-ে ব্যবহার না করার শর্ত দিয়েছে। তবে মাঝেমধ্যেই ন্যাটোর কর্মকর্তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলে থাকেন। এবার জোটটির মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ সদস্যদেশগুলোর কাছে ন্যাটোতে দেওয়ার জন্য অস্ত্র চেয়েছেন। এসব অস্ত্র তিনি ইউক্রেনকে দিতে চান। 

দ্য ইকোনমিস্টকে স্টলটেনবার্গ বলেছেন, ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহকারী ন্যাটো সদস্যদের উচিত রাশিয়ায় সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার বিষয়ে দেশটির ওপর তাদের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া। সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, স্পষ্টতই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে উদ্দেশ্য করে এমন মন্তব্য করেছেন স্টলটেনবার্গ। কেননা, ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে তাদের অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানোর অনুমতি দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন বাইডেন। স্টলটেনবার্গ যা চাইছেন তা হয়তো সরাসরি রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়াবে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন,  ন্যাটো উত্তেজনার মাত্রা বাড়াচ্ছে। ন্যাটো যে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল, তা এখন পরিষ্কার। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ক্রমাগত আগ্রাসী বক্তব্য এবং শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে সামরিক পদক্ষেপ ও সমাধানের প্রতি ন্যাটোর ঝুঁকে পড়ার সমালোচনা করেছেন পেসকভ; যা ন্যাটোর সতর্কতা পূর্ণ সামরিক ভাষার বদলে পরিপূর্ণ সামরিক কৌশল ও আচরণকে গ্রহণ করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ন্যাটো রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের দিকে যাচ্ছে কি না, তা জানতে চাইলে পেসকভ বলেন, সংঘর্ষের কাছাকাছি নয়; তারা বরং এর মধ্যে রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত