বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মোহামেডানের রানার্স আপের ট্রেবল

আপডেট : ৩০ মে ২০২৪, ১২:২৭ এএম

মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো আবাহনীকে হারিয়ে একটা ‘ট্রেবলের’ সাক্ষী হলো মোহামেডান। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শেষ ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও আরিফ হোসেনের জোড়া গোলে চিরশত্রুদের ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে রানার্স আপ হয়েছে সাদা-কালোরা। তাতে এই মৌসুমে রানার্স আপের ট্রেবলের রেকর্ড গড়ল তারা।

বসুন্ধরা কিংস আগেই এই দুদলকে রেস থেকে ছিটকে দিয়ে পঞ্চমবারের মতো শিরোপা স্বাদ নিয়েছিল। তাই গোপালগঞ্জে আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে রানার্স আপ হওয়ার প্রশ্নে। দুদলই ম্যাচটি খেলতে নেমেছিল সমান ৩২ পয়েন্ট সঙ্গী করে। মোহামেডান এগিয়ে ছিল শ্রেয়তর গোল ব্যবধানের জন্য। তাই তাদের ড্র হলেই নিশ্চিত হতো রানার্স আপ ট্রফি। তবে সেই লক্ষ্যে শুরুতেই আঘাত আসে। ১৩ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান ব্রুনো রোচার গোলে এগিয়ে যায় আবাহনী। তবে ২৯ মিনিটে আরিফ হোসেনের সুযোগ সন্ধানী গোলে ম্যাচে ফেরে মোহামেডান। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে আরিফ দুরূহ কোণ থেকে আরেকবার আবাহনীর গোলের দরজা খুলে মোহামেডানের রানার্স আপ হওয়া নিশ্চিত করেন।

শক্তির বিবেচনায় স্বাধীনতা কাপ, ফেডারেশন কাপের পর লিগে দ্বিতীয় হওয়া মোহামেডানের জন্য বড় সাফল্যই বলতে হবে।

অথচ ম্যাচটা আবাহনী শুরু করেছিল আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে। ব্রাজিলিয়ান ওয়াশিংটন ব্রান্দাও ও জোনাথন ফার্নান্দেজকে ছাড়া খেলতে নামা আবাহনী শুরুতেই মোহামেডানকে চাপে ফেলে গোল আদায় করে নেয়। ১৩ মিনিটে জামাল ভুঁইয়ার কর্নারে ব্রুনো রোচার ব্যাক হেড মোহামেডান কিপার সুজন হোসেনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ায়। তবে সেই লিড আকাশিরা হারায় ডিফেন্সের ভুলে। ২৯ মিনিটে উজবেক প্লে-মেকার মোজাফফরভের কর্নার ইরানি ডিফেন্ডার মিলাদ শেখ সোলায়মানি ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে বাঁ পায়ের প্লেসিংয়ে মোহামেডানকে সমতায় ফেরান আরিফ। ম্যাচের ৪১ মিনিটে বড় সুযোগ হাতছাড়া করেন মোহামেডান অধিনায়ক সুলেমান দিয়াবাতে। মোজাফফরভের ফ্রি-কিক মার্কারকে পরাস্ত করে আয়ত্তে নিলেও আবাহনী কিপার পাপ্পু হোসেনকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি মালির এই ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে লিগে ২০তম গোলের দেখা পেতে পারতেন আবাহনীর গ্রানাডিয়ান ফরোয়ার্ড স্টুয়ার্ট কর্নেলিয়াস। জামালের থ্রু পাস ধরতে আক্রমণে উঠেছিলেন। তবে মার্কার ইমান্যুয়েল টনি টেকনিক্যাল পুশে স্টুয়ার্টকে ফেলে দেন বক্সের ভেতরে। আবাহনী জোর দাবি জানিয়েছিল পেনাল্টির। তবে সেটা রেফারির কাছে ধোপে টেকেনি।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮ মিনিটে স্টুয়ার্টকে হতাশ করে গোলপোস্ট। মাঝমাঠে বল জিতে একাই তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শট নিয়েছিলেন তিনি। যা সুজনকে পরাস্ত করলেও সাইড পোস্টে আঘাত করে ফিরে আসে।

৮৪ মিনিটে প্রতি আক্রমণ থেকে জালের দেখা পেয়েছিলেন দিয়াবাতে। সতীর্থের লম্বা বল আয়ত্তে নিয়ে পাপ্পুকে পরাস্ত করে গোল করেন দিয়াবাতে। তার আগেই অবশ্য অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি। এর দুই মিনিট পর মোহামেডানকে বাঁচান হাসান মুরাদ। রহিম উদ্দিনের ক্রস মোহামেডান কিপারের হাত ফসকে চলে আসে বদলি ফরোয়ার্ড এনামুল গাজীর কাছে। তবে তার ডান পায়ের শট গোললাইন থেকে রুখে দেন হাসান মুরাদ।

ম্যাচটা যখন ড্রয়ের দিকে এগুচ্ছে তখনই আবাহনীর হতাশা বাড়িয়ে অসাধারণ গোল করেন আরিফ। মোজাফফরভের ফ্রি-কিক নিয়ে ডান দিয়ে আক্রমণে ঢুকে প্রায় বাই-লাইন থেকে ক্রস করেন এই মিডফিল্ডার। যা দূরের পোস্টে লেগে জালে প্রবেশ করে। তাতে জিতেই রানার্স-আপ ট্রফি উদযাপন নিশ্চিত হয় মোহামেডানের।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত