বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ইউরোপের দুয়ার খোলার স্বপ্নে গেরহার্ড

আপডেট : ৩০ মে ২০২৪, ১২:২৮ এএম

খুলে যাচ্ছে ইউরোপের দুয়ার। নাহ, প্রতিষ্ঠা পাওয়ার স্বপ্নে বিভোর যে কেউ চাইলেই ইউরোপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন না। তাকে অবশ্যই হতে হবে শীর্ষ পর্যায়ের হকি খেলোয়াড়। তবেই মিলবে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ডের মতো দেশে গিয়ে খেলা ও উপার্জনের সুযোগ। আর সেই সুযোগটা করে দিতে বড় ভূমিকা রাখবেন পিটার গেরহার্ড। এই জার্মান কোচকে এক বছরের জন্য টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ  দেবে ফেডারেশন। যাতে তার মাধ্যমে খুলে যায় ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে খেলার ছাড়পত্র।

২০২৩ সালে দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়েই হকিতে প্রাণ ফেরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন মোমিনুল হক সাঈদ। তার উদ্যোগে প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগের পর হয়েছে প্রিমিয়ার ডিভিশন হক লিগ। সামনের মৌসুমও দ্রুত শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে তার। অচিরেই আসবে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আয়োজনের ঘোষণা। আর এই কর্মচাঞ্চল্য বজায় থাকলেই দেশের হকিকে অন্য পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন আগে দুই প্রস্ত বাংলাদেশ জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকা গেরহার্ড পিটার। দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে বাংলাদেশের হকি সম্পর্কে সব ধারণাই আছে এই বর্ষীয়ান কোচের। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই সমস্যাগুলো বের করার চেষ্টা করেছেন তিনি। বুধবার হকি ফেডারেশনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে গেরহার্ড বলেন, ‘জিনগত ভাবে বাংলাদেশের মানুষ ভারত ও পাকিস্তানের মানুষের মতোই। তবে হকিতে ভারত ও পাকিস্তানের এমন কিছু ব্যাপার আছে, যা এ দেশের হকিতে নেই। ভারত নিজ দেশে বিশ্বের অনেক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়ে অনেক টুর্নামেন্ট আয়োজন করে। যেটা এখানে হয় না। আমি মনে করি এটা একটা বড় ঘাটতি। এখানে অভিজ্ঞতা ও মানসিকতার চর্চাও খুব বেশি হয় না। বাংলাদেশকে অনেক বেশি ম্যাচ খেলতে হবে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপক্ষের সঙ্গে এবং প্রতিপক্ষ হতে হবে শক্তিশালী। ওমানের মতো সমমানের দলের সঙ্গে খেলে কোনো লাভ নেই। কেবল সময়ের অপচয়। বাছাইপর্ব নয়, আমাদের চূড়ান্তপর্বে খেলার লক্ষ্য নিয়ে এগুতে হবে।’

অতীতে দুবারই তার বিদায়টা সুখকর হয়নি। এবার তেমনটা হবে না আশা পিটারের, ‘পরিকল্পনা তো সবসময় থাকে। সেটা বাস্তবায়নের দায়িত্ব ফেডারেশনের। আমি মনে করি বর্তমানে যারা আছেন, তারা অনেক বেশি ধৈর্যশীল। হকির উন্নয়ন হুট করে করা সম্ভব নয়। এর জন্য যথেষ্ট সময় প্রয়োজন। প্রথমবার যখন এসেছিলাম, তখনকার সাধারণ সম্পাদক জামিলকে (খন্দকার জামিল) পরিকল্পনা দিয়েছিলাম। তিনি সেভাবেই অর্থ জোগাড় করে দলকে বিদেশে পাঠায়। আমরা রাশিয়ায় অনেক ভালো পারফরম্যান্স করি একটি টুর্নামেন্টে। এরপর হল্যান্ড, ইতালি ও চেক প্রজাতন্ত্রে দল নিয়ে গিয়েছি। ওই সময় (২০১০ সালে) একটা টুর্নামেন্ট হয়েছিল এখানে (এসএ গেমস)। যদি মনে করে দেখেন সেই আসরে আমরা ভারতের সঙ্গে ৩-৩ ড্র করেছিলাম। ছেলেরা বিশ্বাস করতে শুরু করে আমরা ভারতকেও হারাতে পারব। এই বিশ্বাস জন্মেছিল অনেকগুলো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কারণে। শেষ পর্যন্ত আমরা ড্র করি এবং আমরা ব্রোঞ্জ পদক পাই। তখন ফেডারেশনের অনেকে বলেছিল, এই কোচ রেখে লাভ কী, কারণ আমরা তো ওকে ছাড়াই প্রতিবার ব্রোঞ্জ পদক পাই। অথচ তারা দেখেনি কতটা লড়াকু মনোভাব নিয়ে ছেলেরা খেলেছিল। পরের বার মনির (সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ আল মনির) আমাকে থামিয়ে দেয়। এবার আশা করছি এ রকম কিছু হবে না।’

তিনি যোগ করেন, ‘এই মুহূর্তে তিনজন খেলোয়াড় জার্মানিতে লিগ খেলছে (রোমান হোসেন, সোহানুর রহমান সবুজ ও মাহবুব হোসেন)। তারা অনেক ভালো খেলছে এবং বিভিন্ন ক্লাব তাদের ব্যাপারে জানতে চাইছে। অন্য ক্লাবগুলোও আমার কাছে জানতে চেয়েছে আরও খেলোয়াড় আনা সম্ভব কি না। আমি বলেছি সম্ভব। জার্মানিতে সুবিধা হচ্ছে, সেখানে সাতটি দলে ভাগ হয়েছে ছেলেরা সাতজন আলাদা আলাদা কোচের অধীনে খেলার সুযোগ পাবে। ফলে তারা সেই কোচদের কাছ থেকেও শিখতে পারবে।’

চেনাজানা গেরহার্ডকে পেয়ে খুশি বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনও। সাধারণ সম্পাদক সাঈদ জানান, এপ্রিল, মে, জুন এই তিন মাসের পর দুই মাস (সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর) ঘুরেফিরে বাংলাদেশের ৪০ থেকে ৫০ জন খেলোয়াড় ইউরোপে বিভিন্ন ক্লাবে খেলার সুযোগ পাবে এবং গেরহার্ডের অধীনে অনুশীলন ও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, মানসিকভাবেই শক্তিশালী করে তুলবে। কোচকে বড় একটা সময় দিতে চান সাঈদ। তবে প্রাথমিকভাবে চুক্তিটা হতে যাচ্ছে এক বছরের। আজ হকি ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে গেরহার্ডের সভার পর হবে চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত