সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

প্রেমময় ইবাদত হজ

আপডেট : ৩১ মে ২০২৪, ০৪:১৬ এএম

আল্লাহতায়ালা মুমিনদের প্রতি বিশেষ দয়া ও অনুগ্রহ করেছেন। মুমিনদের জন্য দিয়েছেন এমন কিছু ইবাদত, যার মাধ্যমে তারা আত্মিক উন্নতি, অন্তরের প্রশান্তি, দুনিয়া-আখেরাতের সফলতা ও কল্যাণ লাভ করতে পারে। এমনই একটি ইবাদত হলো হজ। হজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম।

হজ স্রষ্টার প্রতি অগাধ বিশ্বাস, অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও পূর্ণ আনুগত্যের প্রতীক। স্রষ্টার সঙ্গে বান্দার ভালোবাসার পরীক্ষার চূড়ান্ত ধাপ হলো হজ। পবিত্র কাবা জিয়ারতের মাধ্যমে খোদা প্রেমিকরা অনুভব করে আত্মিক প্রশান্তি। হজের মাধ্যমে মুমিনের আত্মিক, দৈহিক ও আর্থিক ইবাদতের সমাবেশ ঘটে। প্রত্যেক সামর্থ্যবান প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর এ ঘরের হজ করা মানুষের ওপর আল্লাহর নির্দেশ, যারা সামর্থ্যবান, বায়তুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে (তাদের জন্য)। আর যে অস্বীকার করবে, আল্লাহ বিশ্ব জগতের সবকিছু থেকে অমুখাপেক্ষী।’ (সুরা আলে ইমরান ৯৭) আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষের মধ্যে হজের ঘোষণা দিন। তারা আসবে দূর-দূরান্ত থেকে পদযোগে ও সর্বপ্রকার কৃশকায় উটের পিঠে আরোহণ করে।’ (সুরা হজ ২৭)

আয়াতে সামর্থ্য বলতে শারীরিক ও আর্থিক উভয় প্রকার সামর্থ্যকে বোঝানো হয়েছে। সুতরাং সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুমিনের সব বাধা-বিপত্তি, দ্বিধা-সংশয় ও ভ্রান্ত ধারণা ছেড়ে, বিলম্ব না করে দ্রুত হজ আদায় করা কর্তব্য। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা ফরজ হজ আদায়ে বিলম্ব করো না। কেননা তোমাদের জানা নেই, পরের জীবনে তোমরা কী অবস্থার সম্মুখীন হবে।’ (মুসনাদে আহমদ) 

সামর্থ্যবান হওয়া সত্ত্বেও যারা হজ না করে মারা যায়, রাসুল (সা.) তাদের ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সামর্থ্যবান হওয়া সত্ত্বেও যে হজ না করে মারা যায়, সে ইহুদি হয়ে মরুক বা খ্রিস্টান হয়ে, তাতে আমার কোনো পরোয়া নেই।’ (সুনানে তিরমিজি)

পক্ষান্তরে যারা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হজ আদায় করে, রাসুল (সা.) তাদের ব্যাপারে গুনাহ মাফ ও জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এমনভাবে হজ আদায় করল, যাতে কোনোরূপ অশ্লীলতা বা গুনাহের কাজে লিপ্ত হয়নি, তাহলে সে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে। (সহিহ বুখারি) 

রাসুল (সা.) আরও বলেন, ‘হজ ও ওমরাহ পালনকরীরা হচ্ছে মহান আল্লাহর মেহমান। তারা আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তিনি তা কবুল করেন। তারা ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি ক্ষমা করে দেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ) 

এ ছাড়া হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কবুল হজের প্রতিদান হলো জান্নাত।’ (সহিহ বুখারি) ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘কোনো হাজির সঙ্গে তোমাদের সাক্ষাৎ হলে তাকে সালাম করবে, মুসাফাহ করবে এবং তিনি নিজ ঘরে ফেরার আগে তার কাছে দোয়া চাইবে। কারণ তিনি নিষ্পাপ হয়ে ফিরে এসেছেন।’ (ইবনে মাজাহ)

হাদিসে আরও বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা তিন ব্যক্তির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। যে ব্যক্তি কোনো মসজিদের উদ্দেশে বের হয়, যে আল্লাহর পথে জিহাদে বের হয় এবং যে হজের উদ্দেশে বের হয়। (মুসনাদে হুমাইদি) 

এ ছাড়াও কোরআন ও হাদিসে হজের অনেক ফজিলত রয়েছে। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে তার ঘর জিয়ারতের তাওফিক দান করুন। আমিন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত