শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দেশি ফল খান সুস্থ থাকুন

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৪, ১২:২৬ এএম

শরীরে পুষ্টি জোগাতে ফলের জুড়ি নেই। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা দিনে অন্তত একটা হলেও ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন পানির সঙ্গে যেসব পুষ্টি উপাদান বেরিয়ে যায় শরীরে তার ঘাটতি দেখা দেয়। প্রতিদিন একটি করে ফল খেলে এই ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। তাই জেনে নেওয়া যাক দেশীয় ফলের উপকারিতা সম্পর্কে :

আম : আম প্রিবায়োটিক ফল, যা আমাদের পাকস্থলীর বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার জন্য উপকারী। একটা আমে থাকে ডায়েটারি ফাইবারের প্রায় ৭%। যা হজম ক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।  দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে আম খেতে পারেন। আমে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, আলফা ক্যারোটিন ও ভিটামিন এ-এর ভালো উৎস। ৩/৪ কাপ আমে এ দৈনিক চাহিদার প্রায় ৮% ভিটামিন এ রয়েছে। শরীরে অ্যান্টি অক্সিডেন্টের কাজ করার পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। ত্বক ও চুলের যত্নে আম ভিটামিন এ, সি ও ই-এর অন্যতম উৎস, যা ত্বক ও চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে।

কাঁঠাল : অনেকের ধারণা, মিষ্টি স্বাদের এই ফল খেলে ডায়াবেটিস বেড়ে যেতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন ভিন্ন কথা। কাঁঠাল খেলে ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়ার তেমন সম্ভাবনা নেই। কাঁঠাল শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করবে। ডায়াবেটিস ভয় এড়াতে কাঁঠাল খেতে পারেন। কাঁঠাল ফল খেলে পাইলস ও ক্যানসার দূরে রাখে। নিয়মিত কাঁঠাল খেলে দূর হয় কোষ্ঠকাঠিন্য। কোলন ক্যানসারের মতো মরণঘাতী রোগও দুরে থাকে।

লিচু : গ্রীষ্মকালীন একটি স্বল্পমেয়াদি ফল লিচু। ফলটি টিউমার রোধে বেশ ভূমিকা রাখে। এতে রয়েছে খাদ্যশক্তি, শর্করা, আমিষ, ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ভিটামিন-সি। লিচু শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। লিচুতে ভিটামিন সি আছে, যা ত্বক, দাঁত ও হাড়ের জন্য উপকারী। ফ্ল্যাভানয়েডস নামের উপাদান থাকে লিচুতে, যা স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করে। লিচুতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়, বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে।

বেল : পেটের নানা অসুখ, আমাশয়, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে বেল উপকারী ফল। খাবার হজমে সাহায্য করে। এর মধ্যে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম রয়েছে। নিয়মিত বেলের শরবত খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

পেয়ারা : পেয়ারায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। পাশাপাশি ম্যাগনেসিয়াম, লাইকোপেন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টেরও চমৎকার উৎস । এতে থাকা পটাসিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। পেয়ারাতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।গ্লিসারাইড এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হার্টকে সুস্থ রাখতেও ফলটি কার্যকর।

ফল খাওয়ার কিছু নিয়ম : ফলে এমনিতেই ৭০% পানি থাকে। ফলের সঙ্গে পানি খেলে হজমে সমস্যা তৈরি করে। এ সময় এনজাইম ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। অন্যদিকে আনারস খেয়ে দুধ খাওয়া যাবে না, আনারস বা টকজাতীয় কিছু জিনিস খেয়ে দুধ খেলে হজম হতে অনেক সময় লাগে। এ কারণে আনারসের সঙ্গে দুধ খেতে না করা হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত