মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দুই সেরা অলরাউন্ডারের টক্কর

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৪, ০১:০১ এএম

ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ছিলেন সাকিব আল হাসান। মর্যাদার এই সিংহাসনটি কিছুদিন আগে হাতছাড়া হয় তার। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে যা সাকিবের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে নিজের করে নিয়েছিলেন মোহাম্মদ নবি। আফগানিস্তানের সাবেক এই অধিনায়কের কাছ থেকে আবার ছিনিয়ে নিয়েছিলেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর দিন দুয়েক আগে আবার হারানো সিংহাসন থেকে শ্রীলঙ্কান অধিনায়ককে হটিয়ে পুনরুদ্ধার করেছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক সাকিব; যা ব্যক্তিগতভাবে নিতে পারেন লঙ্কান দলপতি। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হার দিয়ে শুরু করেছে তার দল। নিজেও করতে পারেননি ভালো কিছু। আজ যখন সাকিবের বিরুদ্ধে তার দলের খেলা, তখন নিজেকে সেরা প্রমাণের সুযোগ তার সামনে। সাকিবের বেলায়ও তাই।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রাণভোমরা সাকিব। যিনি দলে থাকা মানে অতিরিক্ত একজন বোলার বা ব্যাটসম্যান খেলা। কারণ ব্যাটিং-বোলিং দুই ক্ষেত্রেই যে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। বল হাতে উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের ঘায়েল করেন, তেমনি ব্যাটিংয়েও বিপক্ষ দলের বোলারদের তুলোধুনো করতে ছাড়েন না। বিশ্বের দুজন ক্রিকেটারের একজন সাকিব, যিনি প্রথম আসর থেকে এখন অবধি টানা নয়টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে নামছেন।

বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সাকিবই। বিশ্বকাপের চাপ সামলাতে হয় কীভাবে, সেটা তার চেয়ে ভালো জানা নেই আর কারোরই। প্রতিপক্ষ দলেরও কারোর নেই। কারণ শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। যেখানে আছে তার ব্যাটে-বলে সমান নৈপুণ্য দেখানোর নজির। তার ব্যাট থেকে আসে ৭৪২ রান। সর্বোচ্চ ৮৪ রানের ইনিংস আছে তার। ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কার পাল্লেকেলেতে বিশ্বকাপের চতুর্থ আসরে এমন বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। চারবার অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করে এসেছিলেন তিনি।

তবে ২৩.৯৪ গড় আর ১২২.৪৪ স্ট্রাইক রেট আসলে তার নামের পাশে কিছুটা বেমানান। একটা সময় সাকিব তিনে নিয়মিত ছিলেন এই ফরম্যাটে। টপ অর্ডারে ব্যাট করে ১২ ফিফটি। বিশ্বকাপে তিনটি। তবুও তার গড় মাত্র ২৪ ছুঁই ছুঁই। অলরাউন্ডার হওয়ায় সেটা অবশ্য ঢেকে ফেলতে পারেন তিনি বল হাতে। এখন অবধি ৭৭৫ বল করে রান খরচ করেছেন ৮৭৬। উইকেট নিয়েছেন ৪৭টি। ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনবার। ৯ রানে ৪ উইকেট তার সর্বোচ্চ বোলিং ফিগার। তবে অবাক করা বিষয় হচ্ছে বিশ্বকাপে তিনি নিতে পারেননি কোনো মেডেন ওভার।

তবুও এই সাকিবই বাংলাদেশের প্রাণভোমরা। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার এবারও নিজেকে উজাড় করে দেবেন, তার পারফরম্যান্সে নাজমুল হোসেন শান্তর দল এগিয়ে যাবে দুরন্ত গতিতে।

টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে বড় বৈশি^ক আসর শুরুর আগে বাংলাদেশও নেই ভালো ছন্দে। ঘরের মাঠে প্রস্তুতির নামে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ খেলে জিতলেও হারতে হয় এক ম্যাচে। এরপর দলে হানা দেয় ইনজুরি। সহঅধিনায়ক তাসকিন আহমেদকে নিয়ে অনিশ্চয়তার মেঘ ফুঁড়েই যুক্তরাষ্ট্রে উড়ে আসে বাংলাদেশ দল। প্রস্তুতির শেষ ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম দুটিতেই হেরে বসে বাংলাদেশ। ব্যাটে-বলে জৌলুসও তেমনভাবে ছড়াতে পারেননি সাকিব আল হাসান। তবুও নামটা সাকিব বলেই ফের আশায় বুক বাঁধেন দেশের কোটি ক্রিকেটপ্রেমী। কেননা বড় মঞ্চ মানেই সাকিবের জ¦লে ওঠার আখ্যান প্রমাণিত। এবারও তাই লাল-সবুজের ভরসা দিনশেষে ওই সাকিবই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তাই পুরোদমে তেতে ওঠে বাংলাদেশ টেক্কা দেবে শ্রীলঙ্কাকে। এমনটাই প্রত্যাশা দেশের ক্রিকেট ভক্ত-সমর্থকদের।

যে আশায় জল ঢেলে দিতে পারেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। প্রাক্তন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারও নিজের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছেন। সাকিবের প্রথম ম্যাচ হলেও লঙ্কান অধিনায়কের এটা দ্বিতীয় ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১০০ রানও করতে পারেনি তার দল। নিজেও রাখতে পারেননি কোনো ভূমিকা। তাই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশকে হারিয়ে জয়ের মুখ দেখতে চাইবেন তিনি। সাকিবের কাছ থেকে সিংহাসন পুনরুদ্ধার করতে নিজেও সেরাটা দিতে মুখিয়ে থাকবেন হাসারাঙ্গা।

তবে সাকিবের চেয়ে তিনি অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে আছেন। সাকিব তো দুটো বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু হাসারাঙ্গা এবারই প্রথম অধিনায়ক হিসেবে এসেছেন বিশ্বকাপে। এর শুরুটাও হয়নি মনমতো। নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অল্প রানে গুটিয়ে যাওয়ার দিনে তিনি নিজেও ছিলেন ব্যাট হাতে ব্যর্থ। তা ছাড়া হাসারাঙ্গার নেই টুর্নামেন্টে খুব বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। যা সাকিবের চেয়ে তিন গুণ কম। সাকিবের যেখানে নবম বিশ্বকাপ খেলতে নামা, হাসারাঙ্গার মাত্র তৃতীয়। এখন পর্যন্ত খেলেছেন ১২ ম্যাচ। ব্যাট হাতে করেছেন ১৪৪ রান। ফিফটি আছে একটি। সর্বোচ্চ স্কোর ৭১। মূলত স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার হওয়ায় গড় ১৩.০৯ আর স্ট্রাইক রেট ১২৪.১৪।

বল হাতে আবার তিনি সাকিবকেও ছাড়িয়ে যেতে পারেন দ্রুতই। মাত্র ২৬ বছর বয়সে তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলতে নামা এই স্পিনারের ঝুলিতে ইতিমধ্যে আছে ৩৩ উইকেট। ৮ রানে ৩ উইকেট তার সেরা বোলিং ফিগার। ৬৪ ওভার বল করে টুর্নামেন্টে আদায় করেছেন একটি মেডেনও। তাই বোলিংয়ে সাকিবের চেয়েও এই টুর্নামেন্টে উজ্জ্বল হাসারাঙ্গা।

আজ ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভোর সাড়ে ৬টায় মুখোমুখি হচ্ছেন দুই অলরাউন্ডার। বিশ্বসেরার সিংহাসনের স্বাদ পেয়েছেন দুজনই। তবে দেখার অপেক্ষা, দিনের সেরা কে হয়ে উঠতে পারেন।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত