শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

যুক্তরাষ্ট্র উড়ছে, কাঁদছে পাকিস্তান

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৪, ০১:০৫ এএম

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অঘটনটা ঘটে গেল বৃহস্পতিবার রাতে। সুপার ওভারে ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানকে হারিয়েছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। টস হেরে আগে ব্যাট করে পাকিস্তান তুলেছিল ৭ উইকেটে ১৫৯ রান। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচ জিততে শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৫, শেষ বলে ৫ রান। হারিস রউফের ফুল টস ডেলিভারি মিড অফ ফিল্ডারের মাথার ওপর দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠালেন নিতিশ কুমার। তাতে চলতি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় টাই দেখল বিশ্ব।

পরে সুপার ওভারে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ব্যাট করতে নেমেছিলেন ফর্মে থাকা অ্যারন জোন্স ও হারমিত সিং। বোলিং করেন অবসর ভেঙে ফেরা পাকিস্তানের অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ আমির। আমিরের ৯ বলের ওভার থেকে যুক্তরাষ্ট্র তোলে ১৮ রান। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটসম্যানরা নিলেন ১১। বাকিটা এলো অতিরিক্ত থেকে! সেই অতিরিক্ত রানটাই যেন শেষপর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিল। মূল ম্যাচে ২ উইকেট শিকারি সৌরভ নেত্রভালকারের ওভার থেকে ফখর-ইফতেখাররা নিতে পারেন ১৩।

সুপার ওভারে জিতলেও যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেল মনে করেন, মূল ম্যাচে জেতা উচিত ছিল তাদের, ‘আমি আউট হওয়ার পরেও ম্যাচ আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। আমার মতে, ম্যাচটা শেষ করা উচিত ছিল এবং কোনোভাবেই সুপার ওভারে যাওয়া উচিত হয়নি। তবে আমরা যেভাবে স্নায়ুর চাপ সামলেছি, বিশেষ করে সুপার ওভারে ১৮ রান নেওয়া আমাদের আরও এগিয়ে দিয়েছে।’

১৬০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৩৬ রানে স্টিভেন টেইলরকে হারায় যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় উইকেটে ৬৮ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেল ও আন্দ্রিস গোওস। ২৬ বলে ৩৫ করে গোওস ফিরলে জুটি ভাঙে। মোনাঙ্ক ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৩৮ বলে ৫০ রান করেন। শেষে জোন্স ২৬ বলে ৩৬ এবং কুমার ১৪ বলে ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন।

ডেথ বোলার হিসেবে আলি খানকেই বেশি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে সুপার ওভারে নেত্রাভালকারকে দেওয়ার পেছনে পরিকল্পনার কথা জানান মোনাঙ্ক। ‘(সুপার ওভারে) কন্ডিশন কাজে লাগানোর পরিকল্পনা ছিল আমাদের। বাঁহাতি পেসার ওভার দ্য উইকেট থেকে কাটার ও ওয়াইড ইয়র্কার করার কন্ডিশন ছিল। আলি খান সাধারণত স্টাম্পে করে। তবে আমরা তাদের অফস্টাম্পের বাইরে খেলাতে চেয়েছিলাম। বাঁহাতি পেসারের জন্য এঙ্গেলটা সাহায্য করেছে। তাই আমার পূর্ণ সমর্থন ছিল।’

পাকিস্তানকে হারানো অঘটন কি না, প্রশ্নে মোনাঙ্ক বলেন, ‘মানুষ কী বলছে, তা নিয়ে ভাবছি না। আমরা জানি, আমরা কতটুকু কাজ করেছি এবং আমাদের কতটা সামর্থ্য আছে। আমরা শুধু খেলাতেই ফোকাস করি।’

পাকিস্তান সুপার ওভারে ভুগেছে। তার আগে ব্যাটিংয়েও শুরুটা ভালো করেনি তারা। দলীয় ২৬ রানে হারিয়েছিল ৩ উইকেট। এক প্রান্ত আগলে রেখে বাবর আজম ৪৪ বলে ৪৩ ও শাদাব খান ২৫ বলে ৪০ রান করেন। শেষে শাহিন আফ্রিদি ১৬ বলে ২৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।

তবে হারের পর বাবর সব দোষ দিলেন বোলারদের। ‘দ্বিতীয় ইনিংসে আমার মনে হয়েছে যে আমরাও সাহায্য পেয়েছি (পিচ থেকে)। কিন্তু বোলিংয়ের দিক থেকে আমরা সঠিক মানে ছিলাম না। প্রথম ১০ ওভারে আমাদের ঘাটতি ছিল। এরপর আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু এর আগেই তারা মোমেন্টাম পেয়ে যায়। তবে আমাদের যে মানের বোলার আছে, এই সংগ্রহ ডিফেন্ড করা উচিত ছিল। এই পিচে আমাদের বোলিংয়ের জন্য এটি জেতার মতো স্কোর ছিল।’

পাকিস্তান অধিনায়ক মনে করেন, নিজেদের মানের ধারেকাছেও বোলিং করতে পারেননি হারিস, আমিররা, ‘আমরা বোলিংয়ে এর চেয়ে ভালো। প্রথম ছয় ওভারে আমরা উইকেট নিতে পারিনি। মাঝের ওভারে যদি আপনার স্পিনাররা উইকেট নিতে না পারে, তাহলে চাপটা চলে আসে। ১০ ওভার পর আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু তারা যেভাবে সুপার ওভারে খেলাটি শেষ করেছে, কৃতিত্ব অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র দলকে দিতে হবে।’

এই জয় সুপার এইটের পথে যুক্তরাষ্ট্রকে অনেকখানি এগিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানকে শুরুতেই ঠেলে দিয়েছে ব্যাকফুটে। রবিবার পরের ম্যাচেই ভারতের সঙ্গে খেলতে হবে তাদের, যে ম্যাচটা জিততে না পারলে সুপার এইটে ওঠা কঠিন হয়ে যেতে পারে তাদের জন্য।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত