মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পৌরসভার বর্জ্যে ফসল নষ্ট

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৪, ০১:৪৯ এএম

জয়পুরহাট পৌরসভার ড্রেনের পানির কারণে মাঠের কয়েকশ বিঘা তিন ফসলি জমি হুমকির মুখে। কৃষকদের অভিযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এসব দূষিত ময়লাযুক্ত পানিতে ডুবে অসংখ্য কৃষকের ধান পচে নষ্ট হয়ে গেছে। পৌরসভার উদাসীনতার বছরের পর বছর ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। ফসল ঘরে তুলতে না পেরে চরম লোকসানের পড়ছেন তারা।

সরেজমিনেও দেখা যায়, বিগত সময়ে জয়পুরহাট পৌরসভার ৫ নম্বর ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ধানসাড়া মাঠের কয়েকশ বিঘা তিন ফসলি জমিতে ধান, আলু, সরিষাসহ বিভিন্ন সবজি উৎপাদন করতেন স্থানীয় কৃষকরা। কিন্তু ‘প্রায় ১০ বছর ধরে এই মাঠে পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় শহরের পানি মাঠে ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে করে ফসল চাষ করতে পারছেন না কৃষকরা। সম্প্রতি ড্রেনের ময়লাযুক্ত দূষিত পানি ঢুকে পড়ায় পাকা ধান পচে গাছ উঠে যাওয়ায় ধান ঘরে তুলতে পারছেন না তারা। এতে দরিদ্র কৃষকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। ইতিমধ্যে স্থানীয় কৃষকরা মাঠে মানববন্ধনও করেছেন। দ্রুত স্থায়ী ড্রেন নির্মাণসহ ফসলের ক্ষতিপূরণ ও সমস্যা সমাধান চান কৃষকরা।

কিনাপাড়া এলাকার বকুল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, শহরের সব দূষিত পানি আমাদের তিন ফসলি জমিতে ছেড়ে দেওয়ায় দেড় থেকে ২০০ বিঘা জমিতে প্রায় ১০ বছর থেকে কোনো ফসল উৎপাদন করতে পারি না। আমাদের কৃষকদের চরম ক্ষতি হচ্ছে। পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে এর জন্য পৌরসভা দায়ী। যেখানে সরকার এক ইঞ্চি ফসলি জমি ফেলে না রাখতে বলেছে সেখানে আমাদের তিন ফসলি জমিতে ফসল ফলাতে পারছি না।

জয়পুরহাট পৌর এলাকার গৌরীপাড়ার কৃষক পলাশ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা পৌরসভার ভ্যাট-ট্যাক্স সবই দিই। কিন্তু ‘বছরের পর বছর পৌরসভার ড্রেনের ব্যবস্থা না থাকার কারণে আমরা ফসল উৎপাদন করতে পারি না। আমাদের ধান পচে নষ্ট হয়ে গাছ ওঠে যাচ্ছে। আমরা কি খায়ে বাঁচব?

ভেটি এলাকার গোলাম মোস্তফা বলেন, আমাদের ধানসাড়া মাঠে শহরের পানি তিন ফসলি জমির ওপর দিয়ে ছেড়ে দেওয়ায় আমার দেড় বিঘা জমির পাকা ধান কাটতে না পারায় মাঠের ধান মাঠেই পচে গেছে। পৌরসভার গাফিলতির জন্য শত শত বিঘার ফসল নষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। এ ছাড়াও দেশ রূপান্তরকে অনেক কৃষক পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন।

জয়পুরহাট পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মামুনুর রশীদ মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ধানসাড়া মাঠে কৃষকদের ধানের কিছু ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে তা আমরা অবগত আছি। ইতিমধ্যে পৌর মেয়রের উদ্যোগে একটা বাইপাস ও ড্রেনের প্রকল্প হাতে নিয়েছি। ট্রেন্ডার প্রক্রিয়াধীন। এ কাজ শেষ হলে ধানসাড়া মাঠের কৃষকদের ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হবে না।

জয়পুরহাট পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেওয়ান ইকবাল হোসেন সাবু বলেন, ধানসাড়া মাঠের কৃষকরা দীর্ঘদিন যাবৎ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ক্ষতি থেকে রেহাই পাবেন কৃষকরা।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত