মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

৯ বিভাগের ফল কবে কেউ জানে না

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৪, ০১:৫৯ এএম

স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষা দেওয়ার পর ৫ মাস পার হলেও এখনো ৯টি বিভাগের ফল প্রকাশ করেনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিভাগগুলো হচ্ছে প্রত্নতত্ত্ব, ইংরেজি, গণিত, আইন, নৃ-বিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, ফার্মেসি, রসায়ন ও পরিসংখ্যান।

পরীক্ষা বিধিমালা অনুসারে, সেমিস্টার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের জন্য ৮ সপ্তাহ (৫৬ দিন) এবং চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের জন্য ১০ সপ্তাহ (৭০ দিন) সময় দেওয়া হয়। কিন্তু ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্নাতক পরীক্ষার ছয় মাস পেরোলেও ফল প্রকাশ করা হয়নি। কবে প্রকাশ হবে তা-ও জানেন না শিক্ষার্থীরা। এতে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষা ও অন্যান্য আবেদন করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্নাতক শেষবর্ষের এই শিক্ষার্থীরা।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ বিভাগের মধ্যে ১০ বিভাগের স্নাতকের ফলাফল প্রকাশ হলেও ৯ বিভাগের ফলাফল এখনো প্রকাশ হয়নি। কোনো কোনো বিভাগ থেকে এখন পর্যন্ত ওই দপ্তরে ফলাফল পাঠানো হয়নি। যে কারণে তারাও ফলাফল প্রকাশ করতে পারছে না।

যে ৯টি বিভাগের স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়নি, সেসব বিভাগে নিয়মিত আসনসংখ্যা ৬০। তবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম-বেশি হয়।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্নাতকের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পরীক্ষাসহ সবকিছু শেষ করেছি গত বছরের ডিসেম্বরে। কিন্তু ৫ মাসের বেশি সময় পার হলেও ফলাফল দেওয়া হচ্ছে না। পরীক্ষা কমিটির সভাপতিকে একাধিকবার বলার পরও তিনি আমাদের কোনো কথা আমলে নিচ্ছেন না। এমনিতেই করোনার সময়ের সেশনজট রয়েছে। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ হিসেবে ২০২২ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলে এখন ২০২৪ সাল।’ তিনি বলেন, পরীক্ষার ফল প্রকাশ না করায় চাকরির পরীক্ষার আবেদন করতে পারছেন না।

এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাছান খান বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত ফল প্রকাশ করার। শিক্ষার্থীদের ইমপ্রুভমেন্ট রেজাল্ট পেতে একটু সময় লাগছে। যার কারণে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করতে দেরি হচ্ছে। ঈদের বন্ধের আগে আমরা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরে ফলাফল জমা দিয়ে দিব।’

পরিসংখ্যান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, তাদের সঙ্গে পরীক্ষা দিয়ে অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা ফলাফল পেয়ে গেছেন। কিন্তু তারা পাননি। এ কারণে চাকরি ছাড়াও অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর শিক্ষার জন্য আবেদন করতে পারছেন না বলে জানান তিনি।

ওই বিভাগের পরীক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন সহকারী অধ্যাপক আফরিনা আক্তার মিশু। তিনি বলেন, স্নাতক চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করতে হলে সব সেমিস্টারের ফলাফল প্রয়োজন। আমাদের শিক্ষার্থীদের ইমপ্রুভমেন্টের রেজাল্ট পেতে সময় লেগেছে। তাই চূড়ান্ত ফলাফলে একটু দেরি হয়েছে।’

কবে ফলাফল প্রকাশ করা হবে জানতে চাইলে অবশ্য তিনি বলেন, ‘সেটা আমার হাতে নেই। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর বলতে পারবে।’

তবে উল্টো চিত্রও রয়েছে। ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. বনানী বিশ্বাস জানিয়েছেন, প্রায় দেড় থেকে দুই মাস আগে তার বিভাগের পরীক্ষার ফলাফল পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। এখন কবে ফলাফল প্রকাশ হবে, এটা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে বলতে পারবেন। এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অনেক সময় শিক্ষকরাও সঠিক সময়ে খাতা জমা দিতে পারেন না, তখন তাদের ব্যাপারটা আমরা জানাই। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা সংকট চলছে, শিক্ষকরাও ক্যাম্পাসে কম আসেন। তাই এখন চাইলেও আমরা তাদের বলতে পারছি না। নিয়মিত ফলাফলগুলো দেরিতে জমা দেওয়া হচ্ছে। ফলে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ বিলম্বিত হচ্ছে।’

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘যে ফলাফলগুলো আমাদের কাছে আসছে, সেগুলো বিশেষ ব্যবস্থায় দ্রুত আমরা অনুমোদন দিয়ে দিচ্ছি। রেজাল্ট জমা না পড়লে আমাদের করার কিছু নেই। সঠিক সময়ে ফলাফল না দিতে পারলে তো সব শিক্ষার্থীর জন্য ক্ষতিকর।’

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত