শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ডানপন্থিদের জয়ের আভাসে শঙ্কা

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৪, ১২:৩৭ এএম

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭টি দেশের অন্তত ৩৭ কোটি ৩০ লাখ নাগরিক ইউরোপীয় পার্লামেন্ট (ইপি) সদস্য নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন। ভোট শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার। চলবে আজ রবিবার পর্যন্ত। শুরুর দিন ভোট হয়েছে নেদারল্যান্ডসে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যারাই এবার পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাক না কেন, আগামী দিনগুলো তাদের জন্য খুব এক সুখকর হবে না। তাদের বড় কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, ইপির ৭২০ আসনের মধ্যে রক্ষণশীল ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টি (ইপিপি) পেতে পারে ১৮০টি আসন। মধ্য-বাম প্রগতিশীল জোট অব সোশ্যালিস্ট এবং ডেমোক্র্যাট (এসঅ্যান্ডডি) পাবে ১৩৮টি আসন এবং উদার ও মধ্যপন্থি রিনিউ ইউরোপ (আরই) পাবে ৮৬টি আসন। এ ছাড়া ইউরোপীয় রক্ষণশীল ও সংস্কারবাদীরা (ইসিআর) পাবে ৭৫ আসন। তবে আইডেন্টিটি অ্যান্ড ডেমোক্র্যাসি (আইএডি) আসন ৮৪ থেকে নেমে ৬৮-এ আসতে পারে। অন্যান্য ছোট দল ১৭৩ আসন পেতে পারে।

ডিডব্লিউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন দলের নেতারা অভিযোগ করেছেন, অতি-দক্ষিণপন্থি দলগুলো মানুষকে ভয় দেখিয়ে ভোট পাচ্ছে। তারা কোনো সমাধান মানুষের কাছে রাখছে না।

রক্ষণশীল ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টির সভাপতি ম্যানফ্রেড উইবার বলেছেন, রাজনৈতিক দিক থেকে প্রাসঙ্গিক থাকার জন্য তাদের সমস্যা দরকার। কিন্তু সমাধান করার বিষয়ে তাদের কোনো উৎসাহ নেই।

ইইউ কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভেরা জুরোভা বলেছেন, কভিড ১৯-এর পর আর্থিক অচলাবস্থা এবং যুদ্ধের পর যে হতাশা দেখা দিয়েছে, তাতে সওয়ার হয়ে অতি-দক্ষিণপন্থিরা ভালো ফল করতে চাইছে। তারা মিথ্যা কথা বলছে। তারা মানুষকে সমস্যার সহজ সমাধানের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

৭২০ আসনবিশিষ্ট এই পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোটারের সংখ্যা ৩৫০ মিলিয়ন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরাষ্ট্রের সব নাগরিক ভোট দেওয়ার অধিকারী ভোটারদের বয়সসীমা ১৮ হলেও এ বছর জার্মানিতে এবং অস্ট্রিয়ায় ভোট দেওয়ার অধিকার ১৬ বছর বয়সে এবং গ্রিস ও মাল্টায় ১৭ বছর বয়সে ভোট দেওয়ার যোগ্য বলে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ইউরোপীয় সংসদ নির্বাচনে কোন দল থেকে ব্যক্তি বিশেষ সরাসরি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন না। শুধু দলভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য তালিকা তৈরি করেন। যেকোনো দল তাদের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদ লাভ করেন।

যে উদ্দেশ্য ও ধারণা থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন গঠিত হয়েছিল, তা ছিল পারস্পরিক বাণিজ্য ও সহযোগিতার সম্প্রসারণ। ইউরোপজুড়ে সাধারণ বাজার সৃষ্টি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর ইউরোপীয় একত্রীকরণকে আজও একটি শান্তি প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

অনেক দেশে জাতীয়তাবাদী ও পপুলিস্টরা শক্তি অর্জন করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপীয় নির্বাচনে রক্ষণশীলদের এই ধারা অব্যাহত থাকবে। সে ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামনে আরও চ্যালেঞ্জ আসছে। প্রায় দুই বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে নতুন সংকটের মধ্যে ফেলেছে। আগামী বছরগুলোয় এই জোটকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে কী আকারে এবং কী পরিমাণে ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখা সম্ভব।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন যদি ইউক্রেনের বাইরে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে তার আগ্রাসন চালান, তবে তা শেষ পর্যন্ত কী পর্যায়ে যাবে, তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে কী পন্থা নেওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়সহ ইইউকে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রায় আট মাস ধরে চলা ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন নিয়েও ইইউ জোটে ভিন্নমত রয়েছে।

ইউরোপের দক্ষিণপন্থিরা অভিবাসী, শরণার্থী, বর্ণবাদী ও ইসলামবিরোধী ভাবনার দক্ষিণপন্থিরা আবার ইউরোপ ঐক্যেরও বিরোধী।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত