শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

জিলহজ মাসের আমল

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৪, ১২:৪২ এএম

আরবি মাসের সর্বশেষ এবং অন্যতম সম্মানিত মাস হচ্ছে জিলহজ। রমজানের পরই আমলের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৌসুম হচ্ছে জিলহজের প্রথম দশক। আর হাদিস দ্বারা এ বিষয়টি প্রমাণিত যে, জিলহজ মাসের প্রথম দশকের ইবাদত-বন্দেগির গুরুত্ব ও মর্যাদা অত্যধিক।

জিলহজ মাসের প্রথম দশ রাতের ফজিলত এত বেশি যে, আল্লাহতায়ালা কোরআনের সুরা ফাজরের দ্বিতীয় আয়াতে এ মাসের প্রথম দশ রাতের শপথ করেছেন।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, জিলহজ মাসের প্রথম দশকে করা আমলের চেয়ে আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয় আর কোনো আমল নেই। এ কথা শোনে সাহাবায়ে কেরাম বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর পথে জিহাদও নয়? উত্তরে রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহর পথে জিহাদও নয়। তবে সে ব্যক্তির কথা ভিন্ন, যে নিজের জান ও মাল নিয়ে জিহাদে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। (মুসনাদে আহমদ)

জিলহজ মাসের প্রথম দশকে ইসলামের মৌলিক ইবাদতগুলোর সঙ্গে কোরবানি, দান-সদকা ও আরাফার দিনের ফজিলতপূর্ণ আমলের একটা পরিপূর্ণ সমন্বয় ঘটে। যা বছরের অন্য কোনো সময় পাওয়া যায় না। তাই এই ১০ দিন আল্লাহর নিকট অতি পছন্দনীয় এবং মুমিনদের জন্য আমল করার একটি বিশেষ সময়। জিলহজ মাসের প্রথম দশকের গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহ উল্লেখ করা হলো।

এক. আল্লাহর জিকির বেশি বেশি করা। দুই. সাধারণ রুটিনের নেক আমলগুলো বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে করা। যেমন : পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতে আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, তওবা-ইসতেগফার, তাসবিহ-তাহলিল ইত্যাদি আমল করা। তিন. নফল নামাজের প্রতি মনোনিবেশ করা। যেমন : তাহাজ্জুদ, তাহিয়্যাতুল ওজু, ইশরাক, চাশতের নামাজ ইত্যাদি আদায় করা। চার. পাপ কাজ থেকে কঠোরভাবে বেঁচে থাকা। পাঁচ. দানের হাত প্রসারিত করা। ছয়. সামর্থ্য থাকলে হজ করা। সাত. পশু কোরবানি করা। কোরবানি করার নির্দিষ্ট দিনগুলোতে কোনো ব্যক্তির মালিকানায় যদি নিত্যপ্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা বা এর সমমূল্যের সম্পদ থাকে, তাহলে তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। পুরুষ-মহিলা সবার জন্য এ বিধান প্রযোজ্য। আট. যারা পশু কোরবানি করবেন তাদের জন্য জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠা থেকে কোরবানি করা পর্যন্ত নখ ও চুল না কাটা মুস্তাহাব। নয়. তাশরিকের দিনগুলোতে তাকবির দেওয়া। অর্থাৎ জিলহজ মাসের ৯ থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত সময়কে তাশরিকের দিন বলে। এই দিনগুলোতে নারী-পুরুষ সবার জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর একবার ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ’ এই তাকবির দেওয়া ওয়াজিব। পুরুষরা আওয়াজ করে আর নারীরা নীরবে তাকবির বলবে।

দশ. আরাফার দিন নফল রোজা রাখা। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আশাবাদী যে, আল্লাহ তার (রোজাদারের) বিগত এক বছর এবং সামনের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন। (তিরমিজি) ৮ ও ৯ জিলহজ উভয় দিন রোজা রাখাই উত্তম। কেননা এখানে আরাফার দিন বলতে আরাফায় হাজিদের অবস্থানের দিন বোঝানো হয়েছে এক বর্ণনায়। এ ছাড়া একটা রোজা না রাখাই ভালো, এক্ষেত্রে রোজা রাখলে ৮ ও ৯ জিলহজ রাখাই উত্তম। এগারো. আরাফার দিনের দোয়া পড়া। দোয়াটি হলো, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শায়ইন কাদির।’ বারো. ১ থেকে ৯ জিলহজ নফল রোজা রাখা এবং রাতে ইবাদত করা। এটার বিশেষ ফজিলত হাদিসে বর্ণিত আছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জিলহজের প্রথম দশকের প্রত্যেক দিনের রোজা (১০ জিলহজ কোরবানির দিন ব্যতীত) সারা বছরের রোজার সমান এবং এর প্রত্যেক রাতের ইবাদত শবে কদরের নফল ইবাদতের সমান। (তিরমিজি) তেরো. ঈদের রাতে ইবাদত করা। কোরবানির ঈদের রাত বলতে ৯ জিলহজ দিবাগত রাতকে বোঝায়। ঈদের রাত জাগরণ ও ইবাদত করার বিশেষ ফজিলত হাদিসে বর্ণিত আছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি উভয় ঈদের রাত সওয়াবের আশায় দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে ইবাদতের মাধ্যমে কাটাবে, তার অন্তর সেদিন মৃত্যুবরণ করবে না, যেদিন মানুষের অন্তর মৃত হয়ে যাবে। (অর্থাৎ কিয়ামত দিবসে ভীতসন্ত্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।) চৌদ্দ. ঈদের দিনের সুন্নতগুলো আদায় করা।

মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে সম্মানিত জিলহজ মাসে বেশি বেশি আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত