সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রিশাদের ঘূর্ণিতেই জয়ের দিশা

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৪, ০১:৫৭ এএম

শনিবার সকালে (নাকি শুক্রবার রাতে!) দুটো ব্যাপার ঘটল প্রথমবারের মতো। বাংলাদেশ দলের হয়ে একজন লেগস্পিনারকে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ম্যাচসেরা হতে দেখা গেল আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো হারানো হলো শ্রীলঙ্কাকে। দুটো ব্যাপার বলতে গেলে একজনই ঘটিয়েছেন। নীলফামারীর দীর্ঘদেহী এক যুবক, নাম তার রিশাদ হোসেন।

জীবনে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলছেন, প্রথম ম্যাচ। সেটাও আবার বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা, নাগিন নাচ থেকে ঘড়ির কাঁটা কত লড়াইয়ের উপাদানই না জুড়ে আছে এই দ্বৈরথে। রিশাদ বল হাতে পান অষ্টম ওভারে আর পাথুম নিশাঙ্কা তাকে স্বাগত জানান বাউন্ডারি দিয়ে। প্রথম ওভারে ৭ রান আর দ্বিতীয় ওভারে ৯ রান দিলেন রিশাদ, আসালাঙ্কার হাতে বিশাল এক ছয়ও হজম করলেন। ২ ওভারে ১৬ রান দিয়েছেন, এই বোলারকে কি আর সহজে বোলিংয়ে আনবেন অধিনায়ক! শান্ত রিশাদকে ফের বল দিলেন যখন ইনিংসের ১৪ ওভার শেষ। প্রথম বলটা একটু ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন বামহাতি আসালাঙ্কাকে, স্লগ সুইপে এই শ্রীলঙ্কানও চাইলেন বলটা সীমানাছাড়া করতে। কিন্তু পরে বুঝলেন ফাঁদে পা দিয়েছেন। মাঠের দীর্ঘতম বাউন্ডারিতে পাঠিয়েছেন বল আর সেটা একটু ফসকালেও শেষ পর্যন্ত ঠিকই লুফে নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। পরের বলে নতুন ব্যাটসম্যান ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। তার জন্য স্লিপে সৌম্য সরকারকে আনলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। হাসারাঙ্গা নিজে লেগস্পিনার, তিনি আউটও হলেন লেগস্পিনারের ধ্রুপদি ডেলিভারিতে। বলটা হাসারাঙ্গার পায়ের কাছে পড়ে ব্যাটের কানায় চুমু খেয়ে জমা পড়ল সৌম্যর হাতে। জিভ বের করে মাথায় দুই আঙুল উঁচিয়ে কুৎসিত উদযাপনে সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন সৌম্য, রিশাদ অবশ্য খুব একটা উচ্ছ্বসিত নন। যেন এটাই তো হওয়ার কথা।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে লেগস্পিনারের গুরুত্বটা এখানেই। যখন উইকেট পড়ে না, প্রতিপক্ষ রান করে আস্তে আস্তে জুটি বড় করতে থাকে, তখন লেগস্পিনারের একটা ওভার খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। নবম ওভারের পঞ্চম বলে দলীয় ৭০ রানে নিশাঙ্কার বিদায়ের পর পরের ৩০ রানে আর উইকেট পড়েনি শ্রীলঙ্কার, ১৪ ওভারে ৩ উইকেটে রান ১০০ এবং এখান থেকেই ইনিংসটাকে ১৬০ রানে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছিল লঙ্কানরা। রিশাদের জোড়া আঘাত সেই সম্ভাবনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। উন্মুক্ত করে দিয়েছে ব্যাটিং লাইন-আপের লেজটা। এরপর যেখানে থাবা বসিয়ে গেছেন মোস্তাফিজ, তাসকিন, তানজিম সাকিবরা। রিশাদ নিজেও নিজের পরের ওভারে এসে প্রথম বলেই প্রলুব্ধ করে আউট করেছেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে, তাতে অবশ্য লিটনের স্টাম্পিংয়ের কৃতিত্ব কম নয়। তবুও সব মিলিয়ে ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে ৩টা গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে রিশাদ সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন শ্রীলঙ্কাকে বাংলাদেশের আয়ত্তের ভেতরই থামিয়ে দিতে।

ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রিশাদ বলেছেন, ‘যখন বোলিংয়ে আসি, তখন ডানহাতি-বাঁহাতি ব্যাটসম্যান নিয়ে ভাবার সুযোগ থাকে না। দল যা চায়, আমি সেটাই করার চেষ্টা করি। ডানহাতি-বাঁহাতি ব্যাটসম্যানে আমার কোনো সমস্যা হয় না।’ সেই সঙ্গে জানিয়েছেন কাউকে ভয় পেয়ে বোলিং করেন না, ‘আমি কখনো ভয় নিয়ে বোলিং করি না। চেষ্টা ছিল যখনই বোলিংয়ে আসব, তখনই যেন দলকে উইকেট এনে দিতে পারি, ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারি।’ অধিনায়ক শান্তও পঞ্চমুখ রিশাদের নৈপুণ্যে, ‘ও অসাধারণ বোলিং করেছে। আসলে সবশেষ কয়েকটা সিরিজেই সে ভালো বোলিং করছে, যেভাবে ও অনুশীলন করে ওর প্রস্তুতি খুবই ভালো। এবং আমরা সবসময় স্ট্রাগল করি যে আমাদের একটা লেগস্পিনার নেই, ঐ জায়গাটা পূরণ হয়েছে। আশা করি সামনের ম্যাচগুলোতে ও এভাবেই অবদান রাখবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত