মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চট্টগ্রামে পশুর হাট শুরু নামছে ট্রাকে ট্রাকে গরু

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৪, ০২:০৫ এএম

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে চট্টগ্রাম নগরীতে পশুর হাট শুরু হয়েছে। স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটগুলোতে দেশের দূর-দূরান্তের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকে ট্রাকে গরু আসছে। সবেমাত্র বাজার শুরু হওয়ায় এখনো শুরু হয়নি ক্রেতাদের ভিড়। বেচাকেনাও হচ্ছে হালকা-পাতলা। হাটের ইজারাদাররা বলছেন, ঈদুল আজহা পর্যন্ত ১০ দিন ধরে বাজার চলবে। আর শেষের দিকে এসে বাজার পুরোপুরি জমে উঠবে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে দেখা গেছে আরবি জিলহজ মাসের চাঁদ। হিসাব অনুযায়ী ১৭ জুন অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। প্রতি বছরের মতো এবারও চট্টগ্রাম নগরীর পশুর হাটগুলোতে টানা ১০ দিন চলবে কোরবানির পশু বেচাকেনা। এবার নগরীতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ৭টি অস্থায়ী পশুর হাট বসিয়েছে। এগুলো হলো কর্ণফুলী পশুর বাজার (নুর নগর হাউজিং এস্টেট), ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের বাটারফ্লাই পার্কের দক্ষিণে টিকে গ্রুপের খালি মাঠ, ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডের পূর্ব হোসেন আহম্মদ পাড়া সাইলো রোডের পাশে টিএসপি মাঠ, একই ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ রোডের সিআইপি জসিমের খালি মাঠ, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বড়পোল সংলগ্ন গোডাউনের পরিত্যক্ত মাঠ, ৩ নম্বর পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের ওয়াজেদিয়া মোড় ও ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের আউটার রিং রোডের সিডিএ বালুর মাঠ। এ ছাড়া রয়েছে তিনটি স্থায়ী পশুর হাট। এর মধ্যে রয়েছে- বিবির হাট গরুর বাজার, সাগরিকা গরুর বাজার ও পোস্তার পাড় ছাগলের বাজার।

গতকাল শনিবার কয়েকটি পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি খুঁটি বানানো হয়েছে কোরবানির পশুগুলো বেঁধে রাখার জন্য। ট্রাক থেকে গরু নামানোর জন্য করা হয়েছে বালির স্তূপ। বৃষ্টি থেকে পশুগুলো সুরক্ষা দিতে টাঙানো হচ্ছে ত্রিপল। বেপারিরা বিভিন্ন স্থান থেকে গরু নিয়ে যাচ্ছেন বাজারগুলোতে।

১৭টি বড় আকারের গরু নিয়ে নুর নগর হাউজিং এস্টেটে (কর্ণফুলী পশুর হাট) এসেছেন বগুড়ার বেপারি আবদুল হালিম শেখ। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে জানান, কয়েক বছর ধরেই এই হাটে গরু নিয়ে আসেন তিনি। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন বেপারি এসেছেন গরু নিয়ে। তার প্রতিটি গরু ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রির আশা করছেন তিনি।

নুর নগর হাউজিং এস্টেট পশুর হাটের ইজারদার সাইফুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, কোরবানির পশু বেচাকেনার জন্য আমাদের হাট প্রায় পুরোপুরি প্রস্তুত। হাটের বিষয়ে জেলা প্রশাসন থেকে যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে, সবগুলো শর্ত প্রতিপালনের বিষয়ে আমরা সজাগ। তিনি বলেন, বগুড়া, কুষ্টিয়া, লালমনির হাট, চাঁপাই, রাজশাহীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বেপারিরা গরু নিয়ে আসছেন। অনেক গরু এখনো পথো রয়েছে। আর কয়েক দিন পর বাজার পুরোপুরি জমে উঠবে বলে আশা করছি।’

কোরবানি সামনে রেখে নগরীর বিভিন্ন অলিগলিতে গরু বেচাকেনার কারণে হাটের ইজারাদাররা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন বলে অভিযোগ করে এই ইজারাদার বলেন, ‘আমরা লাখ লাখ টাকা দিয়ে বাজার ইজারা নিই আর ওরা যেখানে-সেখানে ছোট ছোট বাজার বসিয়ে পুরো নগরীতে গরুর হাটে পরিণত করে। এ ধরনের হাট যাতে কেউ বসাতে না পারে, সে ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, নগরীতে অবৈধভাবে কেউ যাতে যেখানে-সেখানে অলিগলিতে পশু বেচাকেনার হাট বসাতে না পারে, সে ব্যাপারে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এ ধরনের অবৈধ হাটের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত